চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্থানীয়ভাবেই মিটবে কোরবানির পশুর চাহিদা

আপডেট: July 12, 2020, 12:15 am

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


কুরবানি ইদকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯৮ হাজার ৭৬৯ টি কোরবানিযাগ্য পশু প্রস্তুত করা রয়েছে। খামার ও পারিবারিকভাবে কোরবানির জন্য এসব পশু প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে হৃষ্টপুষ্টকরণ করা হয়ে থাকে। আর সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে কোরবানির পশুর সংকট হবে না। অন্যদিকে, প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, স্থানীয়ভাবে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত কোরবানির পশুর মজুদ থাকায় দামের প্রভাব পড়বে না। তবে করোনাকালে মানুষের হাতে টাকা না থাকায় এবছরের ইদুল আজহায় কোরবানি দেয়ার পরিমাণ কমতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। কোরবানি ইদের সময় আর মাত্র ১৯ দিন থাকলেও এখন পর্যন্ত পশুর হাটগুলোতে গরু এবং ব্যাপারীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি খামারে কোরবানির জন্য গরু পালন করা হচ্ছে -সোনার দেশ

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবারের ইদুল আজহায় কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৯২ হাজার গরু-মহিষের। জেলার ৫ উপজেলায় ছোট বড় ও পরিবারিকভাবে মিলিয়ে ১২ হাজার ৬২৪টি খামারে ৯৮ হাজার ৭৬৯ টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যার মধ্যে, ষাঁড় ২৩ হাজার ৩৮৭ টি, বলদ ১৭ হাজার ৫০২ টি, গাভী ১৩ হাজার ৯৫২ টি, মহিষ ৩ হাজার ৪০৬ টি, ছাগল ২৯ হাজার ২৪৩ টি এবং ভেড়া ও গাড়ল ১১ হাজার ২৭৯ টি। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছর খামারিরা গরু পালন করে আসছেন। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে হৃষ্টপুষ্টকরণ করা হচ্ছে এসব গরু। ক্ষতিকর স্টেরয়েড জাতীয় ট্যাবলেট বা ইনজেকশন ব্যবহার করেন না তারা। প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার দিয়ে থাকেন খামারিরা। এ খাতের প্রতি সরকার নজর দিলে ভারত থেকে থেকে গরু আনার আর প্রয়োজন পড়বে না।

 

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নামোনিমগাছি এলাকার গরুর খামারি ইকবাল হোসেন জানান, নিয়মিত খাবারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য-সম্মতভাবে গরু পালন করা হয়। তার খামারে ৪৮টি গরু রয়েছে, যার দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ এবং সর্ব নিম্ন ৭৫ হাজার টাকা। তবে এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে কোরবানি পশু কম বিক্রির আশঙ্কা করছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বটতলাহাটের ইজারাদার মো. নূরুজ্জামান জানান, বিগত বছরগুলোতে কোরবানি ইদকে সামনে রেখে এসময় গরু ও ছাগল বেচাকেনা শুরু হয়ে যায়। এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত হাটে গরু নামেনি। অন্যদিকে ক্রেতারাও আসতে চাচ্ছে না। এবার হয়ত করোনার কারণে অনলাইনে গরু-ছাগল বেচাকেনা হতে পারে। হাটে যদি গরু না নামে তাহলে এবার অনেক টাকা লোকসান গুণতে হবে।

জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খামারিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে স্থানীয়ভাবে গবাদি পশু পালনের জন্য। প্রতিনিয়ত খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়। এবার লালন-পালন করা এসব পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ হবে। বিশেষ করে সীমান্তে বিজিবি ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশ রোধে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়সভা করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এদিকে, ৫৩ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া জানান, কোরবানি ইদকে সামনে রেখে গরু চোরাচালানিরা সক্রিয় হয়ে উঠে। চোরাচালান রোধে জেলার বিভিন্ন সীমান্তে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া, দেশিয় গরু উৎপাদনে খামারিদের উৎসাহিত করার জন্য সরকার নানামুখি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।