চাঁপাইনবাবগঞ্জে হতাশার আম উৎসব ২০২২

আপডেট: জুন ২১, ২০২২, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

সামসুল ইসলাম টুকু:


রোববার (১৯ জুন) চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম উৎসব ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। ঐতিহাসিক কানসাট রাজার বাগান হালে বঙ্গবন্ধু লাইভ ম্যাঙ্গো মিউজিয়ামে সেই উৎসব হলো মাত্র ৩ ঘণ্টার জন্য। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম ঢাকা ও বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এমপি ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম উৎসব মানেই জমজমাট ব্যাপার। আমের আদি উৎস চাঁপাইনবাবগঞ্জকে এবং এখানকার শত প্রজাতির আমের সাথে গোটা দেশের এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি ঘটানো। আম উৎসবে আসবেন জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আমচাষী, আম ব্যবসায়ী, আম রপ্তানিকারক এবং ভোক্তা ও দর্শনার্থিদের আগমনে গম গম করবে আম উৎসব। তৃণমূল থেকে আসা আমচাষিরা বলবেন, আমচাষ নিয়ে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা। আম ব্যবসায়ীরা বলবেন, তাদের বাজার সমস্যা, রপ্তানি সমস্যা, সংরক্ষণ সমস্যা, মূল্য সমস্যার কথা।

এদিকে আম উৎসবে আগত রেশের বিভিন্ন পর্যায়ের আম গবেষক, কৃষিবিদ, হর্টিকালচারিস্ট বিশেষজ্ঞ প্রদর্শনীতে বিভিন্ন জাতের আম দেখবেন, মূল্যায়ন করবেন এবং আমের উন্নয়ন ভাবনা থেকে আমচাষী ও আম ব্যবসায়ীদের দিক নির্দেশনা দিবেন, পরামর্শ দিবেন। আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা কিছু আশার কথা শুনবেন।

কিন্তু তার কিছুই হয়নি। এ উৎসবে আমচাষী, ব্যবসায়ী রপ্তানিকারক এমনকি আম বিশেষজ্ঞ গবেষক কেউই কোনো বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি। অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেল আম প্রদর্শনীর বা স্টলের জন্য মাত্র ৩০ বর্গফুট স্থান বরাদ্দ করা হয়েছে। সকাল দশটায় সর্বোচ্চ ১০ জন আমচাষী ও আম ব্যবসায়ী মাত্র ৫০ ক্যারেট আম নিয়ে বরাদ্দকৃত স্থানের রক্ষিত টেবিলে সাজাচ্ছেন।

এরা খুব বেশি হলে ৩০ জাতের আম এনেছেন। অভিজ্ঞতা বলে যদি জেলার প্রত্যন্ত এলাকার আমচাষী আম উৎসবে অংশ গ্রহণ করতে পারতেন তবে শতাধিক জাতের আমের সমহার হতো। তাদের অনুপস্থিতি আম উৎসবকে ম্লান করেছে। আম থেকে প্রক্রিয়াজাত আমচুর, আচার, আমসত্তের সমাহার হয়নি। সাধারণত আম মেলা হয় ৩ দিনব্যাপী। আম উৎসবে অংশ গ্রহণ করতে পারেনি জেলার ভোলাহাট, গোমাস্তাপুর ও নাচোল থানার আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

দুঃখজনক বিষয় আম প্রদর্শনী স্টলগুলোতে দর্শনার্থিদের কোন ভীড় লক্ষ্য করা যায়নি। হাতে গোনা ২/৪ জন ছাড়া। কিন্তু সকাল ৯টা থেকে সভাস্থলে দেখা যায় আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযোদ্ধাসহ সহস্রাধিক নেতা কর্মীর সমাবেশ। সভায় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও সভাপতির বক্তব্য শেষ হলো দুপুর ১ টায়।

সেইসাথে শেষ হয়ে গেল প্রত্যাশিত আম উৎসব। যে ক’জন আমচাষী ও আম ব্যবসায়ী গিয়েছিলেন আম উৎসবে আম প্রদর্শনের জন্য তারা পুনরায় ক্যারেটে আম প্যাক করে খুব আশাহত হয়ে ফিরে গেলেন নিজ নিজ গন্তব্যে।
লেখক : সাংবাদিক