চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে আবাসন সঙ্কট ।। বন্দীদের মানবেতন জীবনযাপন

আপডেট: ডিসেম্বর ১৩, ২০১৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ অফিস


চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে আবাসন সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। ধারণ ক্ষমতার ৫গুণ বেশি বন্দী থাকায় মানবেতন জীবনযাপন করছেন এখানকার কয়েদি ও হাজতিরা। খাবার জোগাড় হলেও থাকার জায়গা মিলছে না অনেকের। গাদাগাদি করে অবস্থান করায় অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জজেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, প্রাচীন এই কারাগারটিতে সবমিলিয়ে ১৫৩ জন বন্দী থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ বর্তমানে ৭শ এর বেশি বন্দী এই কারাগারে অবস্থান করছেন। কারাগার প্রতিষ্ঠার পর এক সঙ্গে এতো বেশি আসামি কখনোই এই কারাগারে থাকে নি বলে কারাগারের একটি সূত্র জানিয়েছেন। কারাবিধি অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে ১৫৩ জন বন্দী থাকার জন্য বর্তমানে চারটি ব্যারাক, একটি সেল ব্যারাক, একটি কিশোর ব্যারাক ও একটি নারী ব্যারাক রয়েছে। এর বাইরে হাসপাতালে ১০ জন বন্দীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু ১৫৩ জনের স্থলে এই কারাগারে এখন রেকর্ড পরিমান বন্দী অবস্থান করছেন। ধারণক্ষমতার ৫গুণ বেশি বন্দী অবস্থান করায় মারাত্মক আবাসন সঙ্কট দেখা দিয়েছে কারাগারটিতে। জায়গার অভাবে অনেক বন্দী ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। এর সঙ্গে নেই পর্যাপ্ত টয়লেট। এসব নানা কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বন্দীরা।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, বছর দুয়েক আগেও সর্বোচ্চ ৫শ থেকে সাড়ে ৫শ বন্দী অবস্থান করতেন এই কারাগারে। তখন আবাসন সঙ্কট দেখা দেয় নি। সম্প্রতি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অধিক সংখ্যক আসামি ও অপরাধী ধরা পড়ায় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জেলা কারাগারের আবাসিক সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত বন্দীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কারা কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় জেলা কারাগারে বন্দীদের জন্য নতুন করে একটি চারতলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এদিকে এই কারাগারে জেলার ও ডিপুটি জেলারের থাকার জন্য বাসভবন নেই। জেলার থাকেন প্রধান কারারক্ষীর বাসায়। অথচ বাড়ি ভাড়া বাবদ টাকা কেটে নেয়া হয় তার বেতন থেকে। পুরুষ কারারক্ষীরাও থাকেন গাদাগাদি করে। নারী কারারক্ষীদেরও নেই নিজস্ব আবাসন সুবিধা। পর্যাপ্ত সেন্ট্রিপোস্টও নেই এই কারাগারে।
এ বিষয়ে কারাগারের সুপার আবদুর রহিম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে একটি চারতলা ভবন বিশিষ্ট নতুন বন্দী ব্যারাক নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাবনা তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। নতুন এই ভবনটি নির্মাণ হলে এই কারাগারে আবাসন সঙ্কট আর থাকবে না বলে জানান তিনি।