চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ট্রেনে ১৫ দিনে আম গেলো ২৬১ টন

আপডেট: জুন ১১, ২০২১, ৯:২৯ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


করোনা পরিস্থিতির কারণে আম, লিচুসহ সবজি জাতীয় পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন নামের এ বিশেষ ট্রেন গত বছরের ন্যায় এবারো চালু করে। এ মালবাহী ট্রেনে আম পাঠানোর পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২৬১ টন আম গেছে। যা গতবছরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। আর আম মৌসুমে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে আম বেশি পরিমাণে যাচ্ছে নিরাপদ বহন হিসেবে মালবাহী ট্রেনে। এ ট্রেনে এ ধরনের পণ্য পরিবহনে প্রতি কেজিতে খরচ পড়ছে মাত্র ১ টাকা ৩০ পয়সা। আর কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম পরিবহনে এবার প্রতি কেজিতে খরচ পড়ছে ১০/১৫ টাকার মতো।
জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে আমসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ নিশ্চিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ম্যাংগো স্পেশাল মালবাহী ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত নেই। গত মাসের ২৭ মে থেকে পুরো আম মৌসুম জুড়ে চলাচল করবে। বিশেষ করে আম মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎপাদিত আম বিপণনে সহজ করতে এখান থেকে ব্যবসায়ীসহ ব্যক্তি পর্যায়ে গত ১৫ দিনে ২৬১ টন আম ঢাকার স্থানে প্রেরন করেছে। এছাড়া, ব্যক্তি পর্যায়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আম যাবার পরিমাণ বেড়ে গেছে মালবাহী ট্রেনে। গত বছরের তুলনায় এবছর আম পাঠানো কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ক্যারেটে থাকা আমগুলো যতœ সহকারে পাঠাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। কুরিয়ার সার্ভিসের চেয়ে আস্থার জায়গা খুঁজে পেয়েছে এ ট্রেনে। অনেকেই বলছেন, আম বুকিং দেয়ার পর নিরাপদে কমলাপুর স্টেশনে আমগুলো পৌঁছে যাচ্ছে।
আম ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ জানান, সড়ক পথের চেয়ে রেলপথে পণ্য পরিবহন তুলনামূলক নিরাপদ। খরচও কম, আর আমগুলোও নষ্ট হয় না। এতে করে আগ্রহ বেড়েছে। প্রতিদিন ১২০০/১৪০০ কেজি করে স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ আম ম্যাংগো ট্রেন মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। চাহিদার কথা বিবেচনা করে ট্রেনের সময়টা বাড়ানো হলে আরো আম পাঠানো যাবে।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের সহকারি মাস্টার মো. ওবায়দুল্লাহ জানান, কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য সহজে ও কম খরচে বহণে দিন দিন ম্যাংগো স্পেশাল মালবাহী ট্রেনে আম পাঠানোর আগ্রহ বেড়ে গেছে। ১৫ দিনে মালবাহী ট্রেনে ২৬১ টন আম ঢাকায় প্রেরণ করেছে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিরা। রেল কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত আয় করেছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫১৮ টাকা। বরাদ্দকৃত দু’টি ওয়াগনে প্রতিদিন ধারণক্ষমতা অনুযায়ী মাল পরিপূর্ণ হয়ে যায়।