চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর মতবিনিময়

আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২১, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :


আসন্ন্ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. মোখলেসুর রহমান মতবিনিময় সভা অব্যাহত রেখেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে রোববার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টায় বিভিন্ন পেশাজীবীদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

তিনি পৌরসভার সমস্যা ও সমাধান বিষয়ে তার অবস্থান তুলে ধরেন এবং তাকে নির্বাচিত করলে তিনি সমস্যাগুলোর সমাধান ও সম্ভাবনাগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাই পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জয়ী করলে সমৃদ্ধ এবং আরো আধুনিক শহরে পরিণত হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এ শহরের উন্নয়নে শেখ হাসিনা অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। এ পৌরসভায় মেয়র তথা সদর আসনে বর্তমানে সরকার দলীয় এমপি না থাকায় অনেক উন্নয়ন কাজ থেমে গেছে।

তিনি আরো বলেন, তাকে নির্বাচিত করলে সর্বাগ্রে করের বোঝা সহনীয় পর্যায়ে আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে করোনাকালীন সময়ে সেসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। গত ২৫ বছরে সরকারি দলের মেয়র নেই। এ কারণে এ পৌরসভার উ্ন্নয়ন থেমে গেছে। ১১৮ বছরের পৌরসভা সেই গৌরব আমরা হারিয়েছি। দলমত নির্বিশেষে উন্নয়নের প্রতীককে ভোট দিয়ে জয়লাভ করাবেন। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রুহুল আমিন বলেন, এ পৌরসভার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নাগরিকরা অবহিত আছেন।

আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে সব ধরনের বরাদ্দের ব্যবস্থা নিবে সরকার। কিন্তু এ পৌরসভায় সরকার দলীয় মেয়র না থাকায় তা নাগরিকরা উপলব্ধি করতে পারছেন। বিগত ১০ বছরে এ আসনে সরকার দলীয় এমপি থাকার সুবাদে চরাঞ্চলসহ এ শহরের উন্নয়ন হয়েছিল। বর্তমানে বিরোধী দলের এমপি এবং মেয়র থাকায় উন্নয়ন থমকে গেছে। এ নৌকা ব্যক্তি প্রতীক নই, এটা শেখ হাসিনার নৌকা। মোখলেসুর রহমানকে জয়ী করতে পারলে শেখ হাসিনার কাছে আমাদের মুখ উজ্জ্বল হবে। সকল ভেদাভেদ ভূলে যার যার অবস্থান থেকে ২ নভেম্বর নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে সবাইকে কাজ করতে হবে। সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বলেন, বিগত ১০ বছরে এ আসনের সংসদ সদস্য থাকাকালিন সময়ে এ এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিকতায় আন্তঃনগর ট্রেন চালু, কৃষি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন, জেলা হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়।

এ আসনটি সরকারকে উপহার দিতে পারলে এখানে মেডিকেল কলেজ স্থাপনে সক্ষম হতে পারতো। ৩ বছরে বিএনপি’র সাংসদ উন্নয়ন তরান্বিত করতে পারেননি। এরপরও প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত রাবার ড্যাম নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে, যেটি বাস্তবায়ন হওয়ার পথে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ পর্যন্ত ট্রেন লাইন সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় রেল ব্যবস্থা চালু করতে পারলে এ জেলার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। তবে সমীক্ষার কাজ চললেও অন্যান্য প্রকল্পের কাজ থমকে আছে, সেসব থমকে যাওয়া প্রকল্পের ব্যাপারে সাংবাদিকদের লেখালেখি করতে পারলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন তরান্বিত হবে। ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর সেতু হয়ে জেলার শেষ সীমানা দারিয়াপুর পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আংশিক কাজ শুরু হয়েছে।

এ পৌরসভায় সরকার সমর্থিত মেয়র নির্বাচিত করা হলে ব্যাপক উন্নয়ন হবে, যেটি হবে দৃশ্যমান। সরকারের সফলতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকার প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল এমপি, সহ-সভাপতি ডা. গোলাম রাব্বানী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম, জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডা. দুররুল হোদা, জেলা স্বাচিপের সাধারণ সম্পাদক ডা. নাহিদ ইসলাম মুন প্রমুখ।