চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে আনন্দ ধারা সোনামনি সেন্টারের উদ্বোধন

আপডেট: জুন ২৩, ২০২২, ২:২৫ অপরাহ্ণ


সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :


ফাউন্ডেশন ফর উইমেন এন্ড চাইল্ড এ্যাসিসট্যান্সের (এফডাবিøউসিএ) পরিচালনায় সিপি, অটিস্টিক ও এনডিডি শিশুদের সেবাদান কেন্দ্র আনন্দ ধারা সোনামনি সেন্টারের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর শাখার উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের শিবতলা উদয় সংঘ ক্লাব মোড়ে, আনন্দধারা অটিস্টিক ও এমডিডি শিশুদের সেবাদান কেন্দ্র, আনন্দ ধারা সোনামনি সেন্টারের এই শাখার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী মনোয়ারা বেগম।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার বি পি এম, পি পি এম (বার) এ এইচ এম আবদুর রকিব।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার আবদুর রকিব অটিস্টিক ও এনডিডি শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, এসব বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের অবহেলা করা উচিত নয়, এরাও মানুষ। আর মানুষ হিসেবে সকলেরই সমান অধিকার রয়েছে।

অটিস্টিক ও এনডিডি শিশুরা সমাজের বোঝা নয় তারাও সম্পদ। তাদেরকে শুধু সঠিক ভাবে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যেই এই কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মানুষ হিসাবে অটিষ্টিক ও এনডিডি শিশুদের ভালবাসতে হবে, প্রতিটি মানুষের ভালোবাসা এদের জন্য একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করি।

অনুষ্ঠানটিতে আরো উপস্থিত ছিলেন, ফাউন্ডেশন ফর উইমেন এন্ড চাইল্ড এ্যাসিসট্যান্সের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও ডেলওয়ার স্টেট ইউনিভারসিটির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মুক্তি এম রানা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন কর্মকর্তা ফিরোজ কবির, জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বাংলার জনপদের সম্পাদক ড. সাদিকুর রহমান, এফডব্লিউসিএ- এর নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা খানম লিপি, সংস্থার এডমিন এন্ড এ্যাকাউনটেন্স অফিসার আব্দুস সালাম পাভেল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি শাহ আবিদ হোসেন, বিপিএম (বার) ও চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়র উপাচার্য ড. প্রোফেসর নাছিম আখতার।

এদিকে অটিজম শিশুদের প্রতি বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সন্মাননাপ্রাপ্ত ফাউন্ডেশন ফর উইমেন এ্যান্ড চাইল্ড এসিসট্যান্স ( এফডবিøউসিএ) এর ওয়াহিদা খানম লিপি বাংলার জনপদকে বলেন, এনডিডি ও অটিজম আক্রান্ত শিশুদের মাঝে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভা বের করে আনতে হবে। তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে।

কেউ যেন তাদের বাবা-মার জন্য বোঝা মনে না করে। তারা যেন জীবনকে সুন্দর করতে পারে সেই জন্য তাদের সঠিক পরিচর্যা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, তারা আলাদা কোনো ব্যক্তি নয়। তাদের আপন করে নিতে হবে। যারা একটু কম অসুস্থ, তাদের সাধারণ স্কুলে নিয়ে গেলে তারা স্বাভাবিক ছেলেমেয়েদের সাথে মেলামেশার সুযোগ পাবে। অন্য শিশুদের সঙ্গে তারা শেয়ার করতে পারবে। এনডিডি ও অটিজম আক্রান্ত শিশুর দেখভাল, শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য মা-বাবা, শিক্ষক ও সেবকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদ্য উদ্বোধন হওয়া এই কেন্দ্রটি স্থানীয় ১৪জন অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে যাত্রা শুরু করে।

এবিষয়ে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও ডেলওয়ার স্টেট ইউনিভারসিটির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মুক্তি এম রানার সাথে। তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের মানুষ প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ভাবে না। কিন্তু শহরের মানুষ প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ভাবে।

এছাড়া তারা প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন নেতিবাচক মানসিকতাও সমাজে চালু আছে। এমন ধারণাকে ভুল প্রমানিত করে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা স্বরূপ আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জে আনন্দ ধারা সোনামনি সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানটিতে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মহারাজপুর ঘোড়া স্ট্যান্ড জামে মসজিদের পেশ ইমাম মো: ইকবাল।