চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন আজ

আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি


চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনে তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী (বাম থেকে) আ’লীগের প্রার্থী অ্যাড. নজরুল ইসলাম, বিএনপির প্রার্থী মো. তসিকুল ইসলাম তসি ও স্ব^তন্ত্র প্রার্থী মো. জিয়াউর রহমান তোতা-সোনার দেশ

আজ ১৪ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে নৌকা ও ধানের শীষের ভোট যুদ্ধ। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। সর্বত্র বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ। চায়ের দোকানগুলোতে চলছে প্রধান ২ দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাকযুদ্ধ। নির্বাচন প্রচারণা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী সমীকরণ পাল্টাতে শুরু করেছে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে নৌকা ও ধানের শীষের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিললেও শক্ত অবস্থানে আ’লীগ। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের জনগণ ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশীদকে ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করে। তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় তেমন কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগানে পারেন নি ফলে ভোটারেরা এবারের নির্বাচনে বিএনপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তাদের নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে পুরোপুরি অনুপস্থিত। তবে মাঠে থাকা আ’লীগের বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের প্রার্থী জিয়াউর রহমান তোতা খুব সুবিধা করতে পারবে না এমন আভাসই মিলছে। ইতোমধ্যে তাকেসহ তার ভাই ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান টিপু ও ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামকে দল বহিস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কেন্দ্রে পাঠানোর কারণে কর্মীরা তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের অ্যাড. মো. নজরুল ইসলাম (আ’লীগ), ধানের শীষের মো. তসিকুল ইসলাম তসি (বিএনপি) ও স্ব^তন্ত্র মো. জিয়াউর রহমান তোতা (আনারস) এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ সোহরাব আলী (তালা), মো. তোসিকুল আলম (টিউবওয়েল), মো. নজরুল ইসলাম (উড়োজাহাজ), মো. নজরুল ইসলাম (টিয়া পাখি), নাহিদ ইসলাম (বই), লেনিন প্রামাণিক (চশমা) এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোসা. শরিফা খাতুন (হাঁস), মোসা. শরীফা খাতুন (ফুটবল), মোসা. নাজনীন নাহার (পদ্ম ফুল), মোসা. তাসলিমা খাতুন (সেলাই মেশিন), মোসা. নাসরিন আখতার (কলস), মোসা. মাতুয়ারা বেগম (বৈদ্যুতিক পাখা) ও মোসা. রজনী খাতুন (প্রজাপতি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৫৭টি ভোট কেন্দ্রে ৯’শ ৯৫ টি কক্ষে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯’শ ১৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. রুহুল আমিন ১ লাখ ৭ হাজার ৮ শ ৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের রফিকুল ইসলাম পান ৯১ হাজার ৮৫ ভোট।
অন্যদিকে, ২০১৪ সালে জামায়াতের প্রার্থী মোকলেসুর রহমান ১ লাখ ১১ হাজার ৫’শ ৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, তার নিকটতম অ্যাড. সামসুল হক ৬৭ হাজার ৬৯০, বিএনপির প্রার্থী তসিকুল ইসলাম তসি পেয়েছিলেন ৪২ হাজার ৫১ ভোট।
উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা। নির্বাচনের ভোট যুদ্ধে আ’লীগ, বিএনপি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিরতিহীন ভাবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি দল আ’লীগ, বিএনপি প্রার্থীর নানা বিষয় উঠে আসছে ভোটারদের কথোপকথনে। নির্বাচনে দ্বিমুখী লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইমেজ, উন্নয়ন ও সাংগঠনিক গতিশীলতা কাজে লাগিয়ে এবারও জয়লাভ করবে আ’লীগ। ধানের শীষ প্রতিকের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে জয়লাভের সম্ভাবনা দেখছেন বিএনপি। অন্যদিকে নিবন্ধন বাতিল হওয়া ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
এদিকে, আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিয়াউর রহমান তোতাকে নিয়ে খানিকটা বেকায়দায় আ’লীগ। এই নিয়ে দলীয় কর্মীদের তার পক্ষে কাজ না করার নির্দেশনা দিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে দলটি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আবদুল ওদুদ জানান, জিয়াউর রহমান তোতার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরাও মাঠে নেই। বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই। নৌকার পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছি আশাকরি জয়ী হতে পারব।
এ বিষয়ে আ’লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে আমরা অবগত। আ’লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী ও সদর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১১ বছরে চরাঞ্চলসহ সর্বত্রই ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা স্বাধীনতার পর কোন সরকারই করেনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নিত করণ, শেখ হাসিনা সেতু নির্মাণ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন নির্মাণ, রেলের উন্নয়ন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পদ্মার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রায় ৩০টি স্কুল কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসার উর্দ্ধমুখী ভবন সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ উন্নয়ন দিয়েই সাধারণ ভোটারদের মন জয় করেছে আ’লীগ।
অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তসিকুল ইসলাম তসি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তিসহ চলমান আন্দোলনকে বেগবান করতে এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি এবং অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিজয়ী হবো।
এদিকে, আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. জিয়াউর রহমান তোতা জানান, নেতাকর্মীরা চায় আমি ভোট করি, তাদের কারণেই ভোটের মাঠে। অন্যদিকে চেয়ারম্যান পদে মনোমনয়ন প্রত্যাশি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাক অ্যাড. মো. মিজানুর রহমান ও অপর মনোমনয়ন প্রত্যাশি আবদুল হাকিম জানান, ভোটের মাঠে আমরা ৪ জন ছিলাম। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের প্রিয় নেতা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মো. নজরুল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমরা নেত্রীর নির্দশনা মেনে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে কাজ করছি। বিদ্রোহী প্রার্থী মো. জিয়াউর রহমান তোতা নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে এবং বেশীরভাগ দলীয় নেতাকর্মী তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
এদিকে নির্বাচনে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ প্রার্থী থাকলেও মাঠে এগিয়ে আছে, তালা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ সোহরাব আলী, বই প্রতিকের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম রাজন ও উড়োজাহাজ প্রতিকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ প্রার্থী থাকলেও এগিয়ে রয়েছে হাঁস প্রতীকের প্রার্থী মোসা. শরিফা খাতুন, ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মোসা. শরীফা খাতুন জেইজী ও কলস প্রতীকের প্রার্থী নাসরিন আখতার।
রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান জানান, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সকল ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম প্রিজাইডিং অফিসাররা বুঝে নিয়েছেন। তিনি আরো জানান, সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম জানান, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করার লক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইনশঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষনিক দায়িত্বে থাকবেন। এ পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং নির্বাচনের দিন কোন ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না। সদা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইশৃঙ্খলাকারী বাহিনী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ