চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল ।। খাবার পানির তীব্র সঙ্কটে সীমাহীন দুর্ভোগে রোগীরা

আপডেট: ডিসেম্বর ২৩, ২০১৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ


চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সঙ্কট চলছে। প্রায় এক বছর ধরে রোগীদের খাবার পানি আনতে হচ্ছে হাসপাতালের বাইরের এলাকাগুলো থেকে। মাঝে মাঝে টয়লেট ব্যবহারের পানিও বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীদের স্বজনরা। বিষয়টি নিয়ে বার বার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না স্বাস্থ্য বিভাগ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ২০ লাখ অধিবাসীর প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র হচ্ছে এই হাসপাতালটি। ১শ শয্যার এ হাসপাতালে বিশুদ্ধ খাবার পানির নেই কোনো ব্যবস্থা। একটি টিউবয়েল বসানো হলেও বার বার এর ওভারহেড চুরি হয়ে যাওয়ায় পানির এমন সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের এক কর্মকর্তা। এছাড়া বছর খানেক আগে শুরু হওয়া হাসপাতালের নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ কাজের জন্য খোড়াখুড়ির কারণে পুরাতন ভবনের পানি সরবারহের লাইনগুলোও অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে পুরো হাসপাতালজুড়েই চলছে এখন পানির সঙ্কট। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের।
হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা শিবগঞ্জের উজিরপুরের আলতাফ হোসেনের স্বজন রোজদুল হক জানান, হাসপাতালে খাবার পানির ব্যবস্থা না থাকায় বোতলের পানি কিনে খেতে হচ্ছে। মাঝে মধ্যে টয়লেটে ব্যবহারের জন্যও পানি আনতে হয় হাসপাতালের বাইরে থেকে। আরেক রোগী মনসুর হোসেন জানান, গত তিন ধরে তিনি ভর্তি আছেন। হাসপাতারের বাইরে শ্মশান ঘাট এলাকার একটি টিউবয়েল থেকে তাদের খাবার পানি আনতে হচ্ছে। গোসল করতে হয় হাসপাতাল সংলগ্ন মহানন্দা নদীতে।
হাসপাতাল সূত্রে  জানা গেছে, হাসপাতালের পানির সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের। তারাও এই সমস্যার কথা জানেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এ সঙ্কট সমাধানের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।
তবে পানি সঙ্কটের বিষয়টি স্বীকার করে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আয়েশা জুলেখা পানি সঙ্কট সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানান।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. প্রধান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সদর হাসপাতালে নিজস্ব পানির প্লান্ট বসানোর জন্য এরই মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। খুব শিগগিরই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালে পানির সঙ্কট আর থাকবে না বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ