চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আসছে আগ্নেয়াস্ত্র

আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০২৪, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

উদ্দেশ্য নির্বাচনি পরিবেশ অস্থিতিশীল করা?

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। সোনার দেশ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক ছড়াতে পারে।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বরাবরই আগ্নেয়াস্ত্র বিশেষ করে ক্ষুদে অস্ত্রের চোরাচালান বেড়ে যায়। এটা যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনি পরিবেশ অস্থিতিশীল করার জন্য তা অনুমান করা যায়। আর এসব অস্ত্র বাংলাদেশে আনতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত পথগুলো ব্যবহার করা হয়। তবে ইদানিং শিবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ বেশি ঘটছে। বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের তৎপরতায় এসব অস্ত্র ধরাও পড়ছে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, শুধু ৫৯ বিজিবি কর্তৃক ১১ মাসে সীমান্ত এলাকায় ২০টি পিস্তল জব্দ করা হয়েছে।

আগ্নেয়াস্ত্রের সাথে ছিল ৩৭৩টি গুলি, ৩২টি ম্যাগাজিন ও মেশিনগানের ৫১টি গুলি। এছাড়াও র‌্যাব ও পুলিশ কর্তৃক বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ক্ষুদে অস্ত্র- রিভলবার ও পিস্তলের সংখ্যাই বেশি। সারা বছর ধরেই অস্ত্র ও গুলির চালান ধরা পড়ে। অরেক অস্ত্র চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অস্ত্রে চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজিবি বলছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অস্ত্রের চোরাচালান বেড়ে গেছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে সীমান্তে কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর পর থেকে নিয়মিত টহল টিমের বাইরে অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ টিম প্রস্তুত রয়েছে প্রতিটি বর্ডার অবজারভেশন পোস্টে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় নিয়মিত চৌকি বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান বৃদ্ধির খবর উদ্বেগের কারণ বটে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো- অস্ত্রের চালান ধরাও পড়ছে। তার মানে এই নয় যে, অস্ত্রের সব চালানই ধরা পড়ছে। ফাঁকফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। ঘন ঘন অস্ত্র চোরাচালান ধরা পড়ার পরেও যখন চোরাচালানের প্রবণতা না কমে বৃদ্ধি পাচ্ছে- সে ক্ষেত্রে বলাই যায় চোরাকারবারিরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সফল হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত পথগুলো অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চোরা অস্ত্র বিভিন্ন পথ ধরে তা দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়- এর আশপাশের জেলার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণও জরুরি। গন্তব্যের সবগুলো রুট ভেঙ্গে দিতে পারলেই কেবল অস্ত্র চোরাচালের নেটয়ার্ক ভেঙ্গে দেয়া সম্ভব হবে।