চাঁপাইয়ের দুটি ফেরিঘাটে কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা

আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০১৭, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার দুটি মূল্যবান ফেরিঘাট ইজারা না হওয়ায় প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইজারা কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখের আলী তালখাম্বা ও ভাগরথী জোহরপুর পদ্মা ফেরিঘাট দুটির ইজারাদাররা ইজারা দরপত্র কার্যক্রমে অংশ না নিয়ে উচ্চআদালত থেকে নির্দেশনা নেন। গত ১০ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ চলতি ইজারাদারদের গত বছরের মূল্যের সঙ্গে শতকরা ১০ ভাগ মূল্য যোগ করে তাদের অনুকুলে ঘাট দুটি প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছেন। ঘাট দুটি ইজারা না হওয়ায় সরকারের কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফতেখার উদ্দিন শামীম বলেন, ঘাট দুটি ইজারার কার্যক্রম চলমান থাকার মধ্যে হাইকোর্ট পুরাতন ইজারাদারদের কার্যাদেশ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে এ হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষে আপিল করা হবে। ঘাট দুটি প্রতিযোগিতা মুল্যে ইজারা হলে প্রায় ৮০ লাখ টাকা রাজস্ব বেশি হতো। আপিল প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার মোট ১৩টি ফেরিঘাট ইজারার জন্য দরপত্র ডাকা হয়। এর মধ্যে বাংলা ১৪২৪ সালের জন্য ভাগরথী জোহরপুরের মুল্য ধরা হয় ৬৯ লাখ ১৫ হাজার ২৭৪ টাকা ও বাখের আলী তালখাম্বার মুল্য ডাকা হয় ৭৪ লাখ ১৯ হাজার ৬৯১ টাকা। ইতোমধ্যে তৃতীয় দফা দরপত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩ এপ্রিল। কিন্তু কেউই এই দুটি ফেরিঘাটের জন্য দরপত্র উত্তোলন করেন নি। শেষে ভাগরথীর ইজারাদার আজিমুদ্দিন ও বাখের আলীর ইজারদার ইসমাইল হোসেন গত বছরের ইজারা মূল্যের সঙ্গে শতকরা ১০ ভাগ মুল্য যোগ করে ইজারা নেয়ার আবেদন করলেও ইজারা কমিটি তা নাকচ করে দেন।
এদিকে আগামী ২৫ মে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ষষ্ঠদফা দরপত্র জমাদানের সময় রয়েছে। এরই মধ্যে দুই ইজারাদার কৌশলে সরকারি মূল্যকে বেশি দাবি করে পত্রপত্রিকায় তাদের পক্ষে প্রতিবেদন ছাপানোর ব্যবস্থা করেন। তারা ইজারায় অংশ না নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট ঘাট দুটি চলতি ইজারাদারদের দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর ভাগরথী জোহরপুর ফেরিঘাটে ৫ মাসে টোল আদায় হয় ৫৪ লাখ টাকা। পরবর্তী ৭ মাসের জন্য মাত্র ৮ লাখ ১৯ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয় দ্বিতীয় কোনো দরদাতা না থাকায়। একইভাবে বাখের আলী ফেরিঘাটটিতে গত বছর ৫ মাসে ৫৮ লাখ টাকা টোল আদায় হয়। একইভাবে দ্বিতীয় গ্রাহক না থাকায় পরবর্তী ৭ মাসের জন্য মাত্র ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়। এতেও সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়।
প্রশাসনের একটি সূত্র অভিযোগে বলেন, ইজারাদাররা একটি সিন্ডিকেট করে এবারও দরপত্র না ফেলে ঘাট দুটি কমমূল্যে নিতেই কৌশল করে আসছিল। প্রশাসন রাজি না হওয়ায় তারা আদালত থেকে নির্দেশনা নিয়ে এসেছেন। সূত্র মতে, জেলার রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস এ দুটি ফেরিঘাট প্রতিযোগিতামূল্যে ইজারা না দেয়া হলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হবে ৮০ লাখ টাকার বেশি। এই পরিমাণ শেষে কোটি টাকাও হতে পারে।
চাঁপাাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফতেখার উদ্দিন শামীম আরো বলেন, ঘাট দুটি প্রতিযোগিতামূলক দরে ইজারা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হবে। শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে খাস কালেকশানে টোল আদায় করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ