চাঁপাইয়ে গানপাউডার ও পাওয়ার জেলসহ সাত জেএমবি গ্রেফতার নাটোরে অভিযানে কিছু পাওয়া যায় নি

আপডেট: মে ১৩, ২০১৭, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর অফিস এবং শিবগঞ্জ প্রতিনিধি


চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেফতারকৃত সাত জেএমবি সদস্য- সোনার দেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় গত দুইদিন ধরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে সাড়ে চার কেজি গানপাউডার, সাড়ে ৫২ কেজি পাওয়ার জেল ও ২২টি জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
এদিকে নাটোর শহরের বড় হরিশপুর এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা দুইটি বাড়ি থেকে কিছুই পাওয়া যায় নি বলে জানান নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল আলম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেফতারকৃতরা সদস্যরা হলেন, নাচোল উপজেলার গুঠইল গ্রামের মৃত তাইফুর রহমানের ছেলে হারুন অর রশিদ (২৫), একই গ্রামের মোস্তফার ছেলে কামাল উদ্দিন (৩২), বেড়াচকি গ্রামের ইসমাইলের ছেলে নাসিম রেজা (২০), শ্রীরামপুর গ্রামের কেতাবুল ইসলামের ছেলে ফিরোজ (২২), শিবগঞ্জ উপজেলার শিবনগর কাইঠাপাড়া গ্রামের এসলামের ছেলে বাবু (২২), একই ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের মৃত নেশ মোহাম্মদের ছেলে আজিজুল হক (৩৮) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ফাটাপাড়ার গুঠুর ছেলে আবদুল হাকিম (২০)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত দুইদিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, নাচোল ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের শুরুতেই গত বুধবার সকালে নাচোল উপজেলার গুঠইল গ্রাম থেকে জেএমবি নেতা হারুন অর রশিদ, কামাল উদ্দিন, নাসিম রেজা ও ফিরোজকে গ্রেফতার করা হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় সাড়ে চার কেজি গানপাউডার ও ২২টি জিহাদি বই। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয় শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের কাইঠাপাড়া ও রাঘবপুরে। গত বৃহস্পতিবার সকালে কাইঠাপাড়ার ইসলাম আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই বাড়ির পাশে মাটির নীচ থেকে একটি প্লাস্টিকের ড্রাম উদ্ধার করা হয়। পরে ওই ড্রাম থেকে সাড়ে ৫২ কেজি বিস্ফোরক (পাওয়ার জেল) উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় এসলাম আলীর ছেলে বাবুকে। ওই দিন সকালে একই ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামে নেশ মোহাম্মদের ছেলে জেএমবি সদস্য আজিজুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার দেবীনগর ফাটাপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় অপর জেএমবি সদস্য হাকিমকে। গ্রেফতারকৃতরা সবাই জেএমবির মধ্যম স্তরের কর্মী বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, নাচোলে গ্রেফতারকৃত জেএমবি নেতা হারুন ও তার তিন সহযোগীর তথ্যের ভিত্তিতেই রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বেনিপুরে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম জানান, নাচোল থেকে তিন সহযোগীসহ জেএমবি নেতা হারুনকে গ্রেফতার করার পর তারা গোদাগাড়ীর ওই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান দেয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ বুধবার রাতে প্রথমে ওই জঙ্গি আস্তানাটি ঘিরে ফেলে। রাত ৩টার দিকে রাজশাহী পুলিশের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে জেলায় ফিরে আসেন তারা। পরেরদিন বৃহস্পতিবার ওই জঙ্গি আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালালে এক ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ ৫ জঙ্গি মারা যায়।
অপরদিকে নাটোর শহরের বড় হরিশপুর এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দৃুইটি বাড়ি ঘিরে রেখেছিল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে শহরের হরিশপুর এলাকায় বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল এবং জেলা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে শহরের হরিশপুর এলাকায় জেলা পুলিশ লাইনস সংগলগ্ন পশ্চিম পাশের একটি তিনতলা বাড়ি এবং অপর একটি বাড়ি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে ফেলে পুলিশ। তিনতলা ওই বাড়ির মালিক সাবেক যুগ্মসচিব মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন এবং পাশের একতলা বাড়ির মালিক ডা. আবদুস সামাদ। তিনতলা বাড়িটিতে পুলিশের এক কর্মকর্তা, একজন নারী প্রকৌশলী ও একজন ফ্রিল্যান্সার এবং পাশের একতলা বাড়িটিতে হাসপাতালের দুইজন নারী স্টাফ ও ওষুধ কোম্পানির একজন রিপ্রেজেন্টটেটিভ ভাড়া থাকেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযানের সময় পুরো এলাকা ঘিরে রাখে বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এসময় ঘটনাস্থলে পুলিশ, সংবাদকর্মী ছাড়াও স্থানীয় উৎসুক জনতা ভিড় করে। নিরাপত্তার অজুহাতে বাড়িটির চারশ গজের মধ্যে কাউকে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একে একে বেরিয়ে যান। এসময় গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলে নাটোরের অতিরিক্ত পৃুলিশ সুপার খায়রুল আলম জানান, নিয়মিত তল্লাশীর অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সন্দেহজনক কোন কিছু না পাওয়ায় অভিযান সমাপ্ত করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ