চাঁপাইয়ে দু’টি ইউনিয়নে আ’লীগের কমিটিতে বিতর্কিতরা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২, ১১:১৮ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :


চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার দু’টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার দেখা দিয়েছে। দুঃসময়ের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের বাইরে রেখে সুবিধাবাদীদের নিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ এনেছেন সেখানকার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। ত্যাগী নেতারা বলছেন কার ইন্ধনে এ ধরনের কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দলের মধ্যে বিভাজন সুষ্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে অনেকেই অভিযোগ করছেন। এদিকে, মনগড়া কমিটি গঠন করায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা। এতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশংকা করছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন মাসে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন আ.লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন না করে ১৪ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম রাতের অন্ধকারে এ ইউনিয়নে দলের সভাপতি সাহারুল ইসলাম কালু ও মোঃ আব্দুল কাদিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ২ জনের নাম উল্লেখ করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করেন যা গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি। যাদেরকে এই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তারা কেউ দলের দুঃসময়ে ছিলেন না। বরং সাহারুল ইসলাম কালু ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করে মাত্র ৫৬ ভোট পান। শাহিদ রানা টিপু ২০১৬ ও ২০২২ সালের ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হতে চাইলেও তা না পাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তার পক্ষ হয়ে কাজ করেন।

তারা কখনই দলের কোন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না। এ নিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমনকি তারা দলের কোন অঙ্গসংগঠনের সাথে জড়িতও ছিলেন না বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। এছাড়া বিতর্কিত কমিটির সভাপতি সাহারুল ইসলাম শাহিদ রানা টিপুর আপন ছোট ভাই। এদিকে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন আ.লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ ওমর আলী জানান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পদ কেনাবেচা হচ্ছে। দলের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই এমন অযোগ্য লোকদের দিয়ে ইউনিয়ন কমিটি গঠন করার ষড়যন্ত্র করেছেন সদর উপজেলা সভাপতি ও সম্পাদক। এভাবে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা পদবঞ্চিত হলে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়বে। অপরদিকে, দেবীনগর ইউনিয়নে একই তারিখে কমিটি গঠন করা হয়। একই কায়দায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান তার ছোট ভাই এখলাসুর রহমানকে সভাপতি এবং সম্পাদক অ্যাড. নজরুল ইসলাম তার ভাতিজা রুহুল আমিনকে সম্পাদক করে। এদিকে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ২০১৬ ও ২০২২ সালের ইউপি নির্বাচনে কয়েকটি ইউনিয়নে তারা নৌকার পক্ষে কাজ না করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে ভোট করেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মী অভিযোগ করেন। সদর উপজেলা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দেবীনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, একক সিদ্ধান্তে দু’টি ইউনিয়নে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটির সভাপতি-সম্পাদক করা হয়েছে। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তার নিজের ভাই ও সম্পাদক তার ভাতিজাকে এ ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক করায় জেলা অ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে অভিযোগ উত্থাপন করেন। তারা বিগত সময়ে নৌকার বিপক্ষে নির্বাচনগুলোতে কাজ করেছেন। তারা দলকে শুধু ক্ষতিগ্রস্থ না, পাশাপাশি দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তারা নিজ বলয় ভারী করতেই ঘরে বসে পকেট কমিটি গঠন করেছেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে তারা এক ধরনের কোন্দল সৃষ্টি করছে। এ বিষয়টি নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও জেলার নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, আ.লীগ একটি বড় সংগঠন, একাধিক যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থী রয়েছেন। যারা পদে আসতে পারেননি, তারা কেউ কেউ অভিযোগ করতে পারেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ