চাঁপাইয়ে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের শাহাদত বার্ষিকী পালিত || যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্নের দাবি

আপডেট: ডিসেম্বর ১৬, ২০১৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ অফিস ও ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি


বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকীতে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করে যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার সম্পন্নের দাবি জানিয়েছেন।
মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, কুচক্রিমহল এখনো তৎপর আছে। তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সতর্ক পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা নির্ণয় করার সময় এসেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অমুক্তিযোদ্ধারা ঢুকে আছে, এরা ভয়ঙ্কর। যে কোনো সময় এরা বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে।
গত বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আয়োজনে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী ও শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ চত্বরে অনষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন। এ ছাড়াও বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিতে পুস্পার্ঘ অর্পণ, দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সেরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সাংসদ গোলাম রাব্বানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম, সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক মইনুদ্দিন ম-ল। আলোচনায় অংশ নেন,  সর্বমুক্তিযোদ্ধা খায়রুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান মো. সেতাউর রহমান, রুহুল আমিন, মোহাম্মদ আলী কামাল, আব্দুস সামাদ, সাংবাদিক তসলিম উদ্দিন মাস্টার প্রমূখ। এছাড়াও উপস্থিতি ছিলেন, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের ভাগ্নে নাজমুল হক।
সমাবেশে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা ও উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাসহ রাজশাহী থেকে মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে একটি মুক্তিযোদ্ধা টিম অংশ নেয়। সমাবেশ শেষে যুদ্ধকালীন কমান্ডার ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী কামালকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর কলেজে রাজশাহী থেকে আসা চিকিৎসক টিম মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প পরিচালনা করেন।
এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার এ উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করে।
সকালে জেলা শহরের সড়ক ও জনপদ বিভাগের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বীরশ্রেষ্ঠের শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও  জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সেরাজুল ইসলাম, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের ভাগ্নে নাজমুল হক। পরে বিভিন্ন সংগঠন সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এসময় এক মিনিট নিরবতা পালন ও দোয়া করা হয়।