চাকরি দেয়ার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণা যুবককে ১২ বছরের জেলসহ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২, ১১:১৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ম্যাসেনজার ব্যবহার করে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণার দায়ে এক যুবককে ১২ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ১০ লক্ষ টাকার জরিমানাও করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। তবে মামলার আসামি পলাতক রয়েছে।

দন্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মোজাফফর হোসেন রনি (২৫)। তার বাড়ি রংপুরের পঞ্চগড়ে। তিনি দেবীগঞ্জ থানার ভন্ডপাল গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রনিকে পৃথক তিনটি ধারায় মোট ১২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয় আদালত।

এর মধ্যে একটি ধারায় ৫ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড। অপর ধারায় ৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড। এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আরও একটি ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ২ লাখ টাকা। অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড।

রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট ইসমত আরা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রতারণার এ ঘটনা ২০২০ সালের জানুয়ারি সংঘঠিত হয়েছে। অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেন রনি তার এক সহযোগীর মাধ্যমে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের ব্যবহার করে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নাম করে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বেশ কিছু লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়।

টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর সে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বরগুলো বন্ধ করে দেয়। পরে এই চক্রের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে র‌্যাব-৫। তারা ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে পরে মোজাফফর হোসেন রনিকে আটক করে। কিন্তু জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে রনি পলাতক।

এ ঘটনায় র‌্যাব-৫ এর উপ-পরিদর্শক রেজাউল করিম বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। মামলায় ইয়াসিন আলী নামের আরেক আসামি ছিল। তবে তদন্ত শেষে পুলিশ মোজাফফর হোসেন রনিকে একমাত্র আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করে আদালত চার্জশিট দেয়।

আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় রনির বিরুদ্ধে ওই রায় ঘোষণা করা হয়েছে। একটির সাজার মেয়াদ শেষের পর অন্যটি কার্যকর হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রায় ঘোষণার পর আদালতের বিচারক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান এই আইনজীবী।