চাচার ঋণের বকেয়া আদায়ে স্কুলছাত্রী বৃত্তির টাকা আটকিয়ে দিলো ব্যাংক ম্যানেজার

আপডেট: জুলাই ৩১, ২০২১, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি:


সানজিদা সুলতানা জয়া। তিনি মুন্ডুমালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। ট্যান্টেলটে বৃত্তি পাওয়ার ফলে সরকারি ভাবে তিনি ৫ হাজার ৯০০ টাকা পেয়েছেন। সেই টাকা উত্তোলনের জন্য সোনালী ব্যাংক মুন্ডুমালা হাট শাখার ৪৬২৬৮০১০০০০৮২ হিসাব নম্বর খোলেছেন সানজিদা। তার সেই হিসাব নম্বরে পাঁচ হাজার ৯০০ টাকা জমা হয়েছে।
বৃত্তির টাকা ব্যাংকে আশায় বেশ আনন্দ চিত্বে টাকা উঠাতে দরিদ্র বাবা-মামাকে সঙ্গে নিয়ে ২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার ব্যাংকে যান স্কুলছাত্রী জয়া। পরিকল্পনা ছিল টাকা উঠানোর পরেই প্রাইভেট পড়ার বাকি পরিশোধ করবেন,কিছু বইপত্র ও নতুন পোষাক কেনার। কিন্ত জয়ার সে আনন্দ আর বই-পোষাক কেনা-কাটার পরিকল্পনা মূর্হূতে ভেস্তে দেন ব্যাংক ম্যানেজার মিঠুন কুমার দেব।
ম্যানেজার স্কুল ছাত্রীকে সাফ জানিয়ে দেন, তোমার চাচা আতাউর রহমানের পুরোনো ক্ষুদ্র ঋণের বকেয়া রয়েছে। তাই তোমার বৃত্তির টাকা কেটে ঋণ পরিশোধে জমা করা হয়েছে বলে জানান।
ম্যানেজারের এমন কথা শুনে স্কুলছাত্রী জয়া ব্যাংকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। দরিদ্র বাবা শহিদুল ইসলাম ম্যানেজারকে তার মেয়ের বৃত্তির টাকা দেয়ার জন্য অনেক অনুরোধ করলেও তাকে ধমক দিয়ে ব্যাংক থেকে বের করে দেন।
স্কুল ছাত্রীর বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার বড় ভাই আতাউর রহমানের কাছে ক্ষুদ্র ঋণের বকেয়া পাবে সোনালী ব্যাংক। কিন্তু আমার মেয়ের বৃত্তির টাকা কেটে নিবে কেন? ঋণের বকেয়া টাকা আমার ভাইয়ের কাছে উঠাবে, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নিবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন,আমার পরিবারে অনেক অভাব অনটন। মেয়ের লেখাপড়া করার অনেক আগ্রহ। মাথার ব্রেনও ভাল। বৃত্তির টাকায় তার পড়াশুনার খরচ চলে।
আমি এর প্রতিকার চেয়ে শনিবার দুপুরে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও পঙ্কজ চন্দ্র দেকনাথ স্যারের কাছে মোবাইলে ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। তিনি রোববার লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে।
এবিষয়ে সোনালী ব্যাংক মুন্ডুমালাহাট শাখার ম্যানেজার মিঠন কুমার দেব বলেন, স্কুল ছাত্রীর চাচার কাছে অনেক পুরোনো একটি ঋণ পাওয়া যাবে। আর সেই ঋণটার বিষয়ে মেয়ের বাবার সাথে আলাপ করতে গিয়ে এক পর্যায়ে কথাকাটাকাটি হয়। যার ফলে ছাত্রী বাবার বৃত্তির টাকা না নিয়ে ব্যাংক থেকে চলে যায়। আগামী সোমবার ব্যাংকে আসলে টাকা দেয়া হবে। তবে টাকা আটকানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
এনিয়ে তানোর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান জানান, এবিষয়ে আমার জানা নেই। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন,স্কুল ছাত্রী বৃত্তির টাকা অন্য খাতে কেটে নেয়ার এখতিয়ার ব্যাংকের নাই। ছাত্রী বাবার মোখিক অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে আমি ব্যাংক ম্যানেজারের সাথে কথা বলেছি। তিনি সোমবার ছাত্রী ও তার বাবাকে ডেকে টাকা দিয়ে দিবে বলে ব্যাংক ম্যানেজার আমাকে জানিয়েছেন।