চাটমোহরে প্রতিপক্ষের হামলায় মাদ্রাসার সভাপতি নিহত, বাবা-ছেলে আটক

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৪, ৪:১৬ অপরাহ্ণ


পাবনা প্রতিনিধি :পাবনার চাটমোহরে মাজার শরিফের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের মারধরে আব্দুল আলীম সরকার (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে বাবা-ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮:৩০ দিকে উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বড় গুয়াখড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত আলীম সরকার বড় গুয়াখড়া গ্রামের মৃত ইছাহাক সরকারের ছেলে। তিনি ‘মা মালেকা ইছাহাক দারুল আকরাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা’র সভাপতি ছিলেন।
আটককৃতরা হলো, একই গ্রামের মৃত আরজান সরদারের ছেলে আফসার আলী মাস্টার (৬৫) এবং তার ছেলে টেঙ্গরজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কামরুল হাসান ওরফে খোকন মাস্টার (৪০)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার অবকাঠামোসহ সার্বিক উন্নয়নের লক্ষে ইসলামি জালসার আয়োজন নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রামে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সভা শেষে মহেলা বাজারে চা খেতে যান আব্দুল আলীম সরকার। চা খাওয়া শেষে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে মাজার শরীফ গেটের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্ত আফসার আলী ও তার ছেলে কামরুল হাসানসহ অন্যরা আলীমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে খোকন মাস্টার আলীমকে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তার ওপর পড়ে যান। এ সময় অভিযুক্তরা আলীমকে কিলঘুষি মারতে থাকে। তাদের মারধরের এক পর্যায়ে আলীম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

এ সময় আশপাশের লোকজন ও আলীম সরকারের ছেলে আশিক ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে অজ্ঞান অবস্থায় আলীম সরকারকে উদ্ধার করে দ্রুত চাটমোহর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে দু’জনকে আটক করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই গোলজার হোসেন বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে আফসার আলী মাস্টার ও তার ছেলে কামরুল হাসান ওরফে খোকন মাস্টারসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ৩।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় দু’জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আর নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বড় গুয়াখড়া মাজার শরিফের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আফসার আলী মাস্টার গ্রুপের সাথে নিহত আব্দুল আলীম সরকার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। মাজার শরিফের গেট ভাঙার কথা বলেছিলেন খোকন মাস্টার ও তার লোকজন। এতে নিষেধ করেন আলীম সরকার। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে এ নিয়ে আফসার আলী মাস্টারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এরপরই এমন ঘটনার সূত্রপাত হয়।