চারঘাটে আমের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা

আপডেট: June 6, 2020, 11:38 pm

চারঘাট প্রতিনিধি:


চারঘাটে একটি বাগানে গাছে ঝুলছে আম-সোনার দেশ

রাজশাহীর চারঘাটে করোনা ভাইরাসের হুমকির মুখে পড়েছে আমচাষিরা। পাইকার না থাকায় আমের ন্যায্য দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছেন উপজেলার হাজারো আমচাষি।
লকডাউন শিথিল হলেও ঢাকা, চট্রগ্রাম, নোয়াখালীর বিভিন্ন আড়ৎ পূর্ণাঙ্গভাবে না খোলায় উৎপাদিত আম বিক্রি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আমচাষিরা।
জানা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রায় ১২ হাজার ৮৪৯ হেক্টর কৃষি জমি আছে। এরমধ্যে ৩ হাজার ৮১২ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের চাষ হয়। মৌসুমি ফল, আমের উপর নির্ভরশীল প্রায় কয়েক হাজার আমচাষি, ছোট, বড় খুচরা ও পাইকার ব্যবসায়ী, দৈনিক আয়ের শ্রমিক ও পরিবহন সেক্টর। আম সু-স্বাদু হওয়ার কারণে আমের স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে থাকে। রফতানিও হয় কয়েকটি দেশে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ মে থেকে আম নামানোর অনুমতি থাকলেও চাষিরা আম গাছ থেকে আম নামাচ্ছেন না। আমের পরিপক্কতা না হওয়ায় ও গাছে আম পাকা ধরলেও আমচাষিরা এখনও সেভাবে আম নামাচ্ছে না। সঙ্গে রয়েছে শ্রমিক সংকট। করোনা সংকটকালে পর্যাপ্ত পাইকার না থাকায় বাজার হারানোর আশঙ্কা ও স্থানীয় বাজারেও লোকজন সমাগম কম হওয়ায় আমের চাহিদা বরাবরের চেয়ে অনেক কম। লখনা আমের দাম কমে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা, গোপালভোগ ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা। অথচ গত বছরে এই আম বিক্রি করেছেন কেজি প্রতি ৩০ টাকা ও ৭০ টাকা বলে জানান আমচাষি নিমপাড়া ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের টুটুল।
উপজেলার কাকঁড়ামারীর পরানপুরগ্রামের আমচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার প্রায় ৪ বিঘা আম বাগান আছে। প্রতি বছর আম বিক্রি করে ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় হত। কিছু আম পাকা অবস্থায় বিক্রি করি আর কিছু আম পেকে যাওয়ার পর বিক্রি করি। কিন্তু এবছর আমের ফলন ভাল হওয়ার পরেও পাইকার না থাকায় আমবাগান বিক্রি করতে পারি নি। আমের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
একই কথা বলেন বুধিরহাটের আমচাষি খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, আম মৌসুম এবছর দেরিতে শুরু হওয়ায় আমে একধরনের পোকা দেখা গেছে এবং গত কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড়ে প্রচুর আম পড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক আমচাষি। এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোনো সহযোগিতা পান নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উপজেলা আমচাষি সমিতির সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, আম মৌসুমে আম পেকে যাওয়ার সময় বিশেষ করে বড় বড় আড়ৎদার, ফড়িয়ারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমবাগানের আম ক্রয় করে। কিন্তু আড়ৎদাররা এখন পর্যন্ত আম ক্রয়ের বিষয়ে কোনো সাড়া দিচ্ছে না। এক্ষেত্রে আমচাষিরা আশঙ্কায় রয়েছি। তিনি বলেন, এখন প্রয়োজন সরকারি অন্যান্য কৃষির মত প্রণোদনা যা আমচাষিদের ক্ষতি থেকে কিছুটা রক্ষা করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আন্তরিক চেষ্টায় আমচাষিদের আমের বাজারজাতকরণের জন্য স্বল্পভাড়ায় আমচাষি ও আম ব্যবসায়ীদের আম পরিবহনের জন্য ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন চালু হয়েছে যা উপজেলার সরদহ স্টেশনে যাত্রা বিরতিতে আমসহ পার্সেল পণ্য তুলতে পারবে। পাশাপাশি ডাকবিভাগ বিনামূল্যে আম পরিবহনে এগিয়ে এসেছে।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় আম বাজারজাতকরণের জন্য সকল সহযোগিতা করা হবে, যাতে করে কোনো আম ব্যবসায়ী ও আমচাষি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ