চারঘাটে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ছে

আপডেট: মে ২৫, ২০২২, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

নজরুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট:


রাজশাহীর চারঘাটে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কৃষি জমিতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ, প্রকল্প প্রদর্শনী, ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ে মাঠ দিবস ও কৃষক সমাবেশে জমির গুনগত মান রক্ষায় কৃষকদের মাঝে প্রচারণা চালাচ্ছে। জৈব সার ব্যবহারের ফলে ফসলের উৎপাদন ও গুনগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা খন্দকার ফিরোজ মাহমুদ। এতে কৃষকের খরচ কমার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের সহস্রাধিক কৃষক প্রশিক্ষণ নিয়ে জৈব সার ও জৈব কীটনাশক উৎপাদন করছে। নিজের উৎপাদিত সার নিজ জমিতে প্রয়োগ করছে তারা। কৃষকরা গোবর ও কেচোঁ দিয়ে তৈরি করছেন ভার্মিকম্পোষ্ট।

গোবর, খৈল ও কাঠের গুড়া দিয়ে তৈরি করছেন কুইক কম্পোষ্ট। মেহেগনি ফলের বীজ, নিমগাছের পাতা প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে কীটনাশক তেল তৈরি করছে। এরপর এই তেল স্প্রে মেশিনের পানির সঙ্গে মিশিয়ে ফসলে রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন।

ঝিকরা গ্রামের কৃষক খোরশেদুল বলেন, কৃষি জমিতে পোকা ও ইঁদুর দমনে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তৈরি এই কীটনাশক খুবই উপকারী এবং এই তেল বেশ কাজ দিচ্ছে।

সরদহ ইউনিয়নের ঝিকরা উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক মামুন আলী জানান, পোঁকামাকড়েরর পাশাপাশি ইদুঁর ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে। তাই উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে তিনি জমিতে জৈব সার ও জৈব কীটনাশক ব্যবহার শুরু করেছেন। জমিতে রাসায়নিক কীটনাশক ছিটানোর সময় অনেক সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।

নাক-মুখ বন্ধ রাখতে হয়। নইলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। কিন্তু জৈব কীটনাশক ব্যবহারে এসব সমস্যা হয় না। তাছাড়া জৈব কীটনাশক ব্যবহারে উৎপাদন খরচ অনেক কমে গেছে। নিজের জমিতে ব্যবহারের পরে উদ্বৃত্ত জৈব সার কেজি প্রতি ১২-১৫ টাকা দরে অন্য কৃষকদের কাছেও বিক্রয় করছেন।

প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে এমন জৈব সার ও কীটনাশক তৈরিতে কৃষকদের সহযোগীতা করছেন উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থানাপাড়া সোয়ালোজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। সংগঠনের নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান আলী বলেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন হলেও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে জমিতে জৈব সার ও জৈব কীটনাশক ব্যবহার ছাড়া উপায় নাই। সরকারী প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সংস্থার সাসটেইনেবুল এগ্রিকালচার প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার কৃষকদের রাসয়নিক কীটনাশকের বিকল্প ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পরামর্শ অনুযায়ী কৃষকরা বিকল্প জৈব সার ও কীটনাশক তৈরি প্রশিক্ষন গ্রহণ করে নিজ নিজ জায়গায় জৈব সার উৎপাদন করছে এবং জমিতে ব্যবহার করছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফন নাহার বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর এখন সরকারিভাবে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ধীরে ধীরে ফসলে কিভাবে রাসয়নিক সার ও কীটনাশকের বিকল্প ঔষুধ বের করা যায় সেজন্যে আমরা কিছু পরিকল্পনা গ্রহন করেছি।

জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের বিনামূল্যে ভার্মিকম্পোষ্ট সার বিতরণ করছি এবং প্রশিক্ষনের মাধ্যমে জৈব সার তৈরি ও জমিতে প্রয়োগের জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। ফলে কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধি ও পোকা দমনে একদিকে যেমন খরচ কমছে অপর দিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষক। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করছে কৃষকরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ