চারঘাট উপজেলা নারী ক্ষমতায়নে এক উজ্জল দৃষ্টান্ত

আপডেট: মার্চ ৭, ২০২১, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

নজরুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট:


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের নারী ও শিশুদের বিকাশের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। তার ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ এর মাধ্যমে দেশকে যথাক্রমে মধ্য ও উচ্চতরে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক ও অথনৈতিক কর্মকান্ডে নারীদের অংশগ্রহনকে অন্যতম প্রধান চালক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মূলধারার আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ডে নারীদের সমান ও সক্রিয় অংশগ্রহন নিশ্চিত করে এবং তাদের ক্ষমতায়নে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নারীদের সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নিরসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় নারী ক্ষমতায়নের সরকারের গৃহীত গুরুত্বপুর্ন পদক্ষেপগুলোর মধ্যে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন ক্যাডারে নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছেন। পদ্মা-বড়াল নদী বিধৌত চারঘাট উপজেলা নারী ক্ষমতায়নে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত নারীদের অংশগ্রহন একটি অন্যতম উৎকৃষ্ট উদাহারণ। বর্তমানে উপজেলায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রায় ৩৩ টি দপ্তর রয়েছে যার মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদসহ অধিকাংশ পদে নারী কর্মকর্তারা সাফল্যের সঙ্গে তাদের উপর অর্পিত দ্বায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা, সহকারী কমিশনার (ভুমি) নিয়তি রানী কৈরী, কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার রশিদা ইয়াসমিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম, আনসার ও ভিডিপ কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার, সহকারী শিক্ষা অফিসার নাহিদা আক্তার, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প কর্মকর্তা শাহানাজ পারভীন, তথ্য কেন্দ্র কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা অন্যতম। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে নারীরা বেশ সুনামের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করছে।
চারঘাটে যোগদানের পর থেকে করোনা মোকাবেলায় সম্মুখ সাড়ির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে চলেছেন ইউএনও সৈয়দা সামিরা। সরকারি গৃহিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে করোনা মোকাবেলায় তৈরি করেছেন করোনা প্রতিরোধ কমিটি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে জনসাধারণের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন ও মাস্ক ব্যবহারের উদ্বুদ্ধকরণসহ সার্বিক তত্ত্বাবধানে লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার তুলে দিয়ে হয়েছেন প্রশংসিত।
অনুরুপভাবে, সহকারী কমিশনার (ভুমি) নিয়তি রানী কৈরী উপজেলা প্রশাসন করোনাকালীন সময়ে গৃহিত পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়নে ছিলেন তৎপর। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে লকডাউন যথাযথ পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।এমনিভাবেই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য দূরীকরণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ কাজ করছে উপজেলা প্রশাসনের কর্মরত সকল নারী কর্মকর্তারা।
উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক নারী কর্মকর্তা থাকায় নারীদের সামাজিক সুরক্ষা এবং সামাজিক ক্ষমতায়ন হচ্ছে বলে মনে করেন, নারীপক্ষ’র সভানেত্রী ও থানাপাড়া সোয়ালোজ এর সহকারী পরিচালক মাহমুদা বেগম গিনি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা বলেন, নারীরা একটু সুযোগ পেলে সমানতালে কাজ করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখতে পারে। দেশ পরিচালনা ও শিক্ষার হারের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে আজ নারীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর বজায় রাখছে এবং নারীদের আর পিছন ফিরে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।