চারঘাট-বাঘা অঞ্চলে আমগাছে গুটির সমারোহ

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

নজরুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট



রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা অঞ্চলে আমগাছে মুকুল ঝরে গুটির সমারোহ দেখা দিয়েছে। আম অঞ্চল খ্যাত এ অঞ্চলের গাছে গাছে পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে গুটি (কড়ালি)। মৌ মৌ গন্ধ শেষে আমের গুটিতে চাষিদের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে।
ফল ভরান্ত গাছের পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত এ অঞ্চলের চাষিরা। আম চাষিরা ধারণা করছেন, শেষ অবধি এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে যে পরিমান মুকুল ও গুটি দেখা দিয়েছে তাতে আমের বাম্পার ফলন হওয়ার আশা করা যায়। সেদিকটা খেয়াল রেখে রাতদিন বাগান পরিচর্যা করে যাচ্ছে এ অঞ্চলের আম চাষি ও মালিকরা। রাস্তার দুই ধারে সারি সারি আম বাগান আর সুস্বাদু ও বাহারি জাতের আমের কথা উঠলেই চলে আসে চারঘাট-বাঘার নাম। অন্য বছরের তুলনায় এবার আগেই পর্যাপ্ত পরিমাণ আমের মুকুল গাছে এসেছে।
কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায়, এই অঞ্চলে আমের আবাদ হয়ে থাকে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে। ফলন ও লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই এখন আম আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। এর মধ্যে বাঘায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর এবং চারঘাটে ৩ হাজার ৮৭৩ হেক্টর আম বাগান রয়েছে। তোতাপরি, বৌভুলানী, রানীপছন্দ, জামাইখুসি, গোপাললাড়–, ফজলি, ল্যাংড়া, হিমসাগর, গোপালভোগ, বৃন্দাবন, লক্ষণা, বোম্বাই খিরসা, দাউদভোগ, গোপালভোগ, আ¤্রপালি, আশ্বিনা, ক্ষুদি খিরসা, বৃন্দাবনী, লক্ষণভোগ, কালীভোগসহ প্রায় দেড়শ জাতের আম রয়েছে এ এলাকায়। প্রতিবছর আমের মৌসুমে দুই লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এবার প্রায় ৮৫ শতাংশ গাছে মুকুল ফুটেছে।
আঞ্চলিক প্রবাদ রয়েছে, ‘আমের আনা মাছের পাই, টিকলে পরে কে কত খাই।’ তাদের মতে, গাছে গাছে যে পরিমাণ মুকুল এসেছে, তাতে এক তৃতীয়াংশ টিকে গেলেও আমের বাম্পার ফলন সম্ভাবনা রয়েছে।
বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাছে মুকুল আসার পর থেকে আম পাড়া পর্যন্ত ১২ থেকে ১৫ বার কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। তাতে হেক্টরে ৩৮ থেকে ৪৫ হাজার টাকার বালাইনাশক প্রয়োগ হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে এর উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি সঠিকভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন, রফতানিসহ বাজারজাতকরণ করলে আয়ও বাড়বে। পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত বালাইনাশক প্রয়োগ রোধ করা গেলে আমের স্বাদসহ গুণগতমানও বাড়বে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ