চারিদিকে ঝুঁকির জনসমাগম স্বাস্থ্যবিধি মানছে কে?

আপডেট: মে ৮, ২০২১, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

করোনা সংক্রমণের বিষয়টি সাধারণ্যে কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে? ব্যক্তি পর্যায়ে জিজ্ঞাসায় করোনা প্রতিরোধের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হবে, মানছেনও সবাই। কিন্তু করোনা মোকাবিলায় যে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মেনে চলতে হবে সে ক্ষেত্রে সকলের আচরণ সমান নয়। এ ক্ষেত্রে যারা স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানতে অনীহা দেখাচ্ছেন- তারা অনেকগুলি অজুহাত দেখাচ্ছেন- যা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রথম প্রতিবন্ধকতা। এই প্রতিবন্ধকতা বহাল থাকলে করোনা ঝুঁকি সার্বক্ষণিক সঙ্গী হবে এটাই স্বাভাবিক।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় বিধি নিষেধ কতটুকু পরিপালিত হচ্ছে- তা প্রশ্নবিদ্ধ। শহর জনপদ কিংবা গ্রাম জনপদের সর্বত্রই খুই স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। সামনে ইদ। করোনা সংক্রমণের চেয়েও ইদ উৎসবের বিষয়টি জনমনে প্রাধান্য পাচ্ছে। হাট-বাজার, গণপরিবহণের সর্বত্রই লোকেলোকারণ্য। দেখে বোঝার উপায় নেই কী ভীষণ দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে প্রথিবী, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশও। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন উৎসব নয়, জীবন আগে। বেঁচে থাকলে উৎসবের জন্য অনেক সময় পাওয়া যাবে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ নিজের ছন্দেই বিভোর। অথচ তারা শুধু নিজেদেরই ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন নাÑ অন্যদেরও ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছেন। করোনা সংক্রমণের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে।
সরকার জীবিকার প্রশ্নে অনেক ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করেছে। করোনা সংক্রমণ রোধে ‘লকডাউন’ তথা মানুষের চলাচলে বিধি-নিষেধ ১৬ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই সময়ে কিছু নির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ অবশ্যই মেনে চলতে হবে সবাইকে। অধিকাংশ মানুষ সেই শর্ত মানছে না। প্রতিদিন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে মানুষের ঝুঁকি তৈরির মত বাড়বাড়ন্তের চিত্রই ফুটে উঠছে। এটা যে পরিস্থিতিকে বিগড়ে দিতে পারে তা বলাই ব্হাুল্য।
করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি কত ভয়ঙ্কর রূপ পরিগ্রহ করতে পারে তা প্রতিবেশি দেশ ভারতই বর্তমানে বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত। সেখানে করোনা মোকাবিলায় সর্বত্র অসহায় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভারত প্রতিবেশি দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের উদ্বেগ-উৎকষ্ঠার শেষ নেই। এর জন্য সরকার নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই সীমান্ত বন্ধ করা হয়েছে। ভারত থেকে বাংলাদেশি যারা আসবে তাদেরকে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করতে হচ্ছে। কোনোভাবেই করোনার ভারতীয় ধরন যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে। সে জন্যই সতর্কতা আরো বেশি হওয়াই বাঞ্ছনীয় ছিল। কিন্তু ঘরের বাইরের পরিস্থিতি মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষ করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করতে না পারলে পরিণতি বেদনাদায়ক হতে পারে।
পরিস্থিতিকে সামাল দেয়ার উপায় কী? ক্রেতা-বিক্রেতাকে দায়িত্বশীল আচরণ করা এবং যারা আচরণের ব্যত্যয় করছে তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবস্থা নেয়াঅ এ ক্ষেত্রে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা অনেকটাই সুফল বয়ে আনবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ