চার ঘণ্টা জেরার পর গ্রেফতার তাপস পাল

আপডেট: ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



তৃণমূল সাংসদ তাপস পালকে গ্রেফতার করল সিবিআই। বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা রোজভ্যালির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হল। সিজিও কমপ্লেক্সে শুক্রবার সকাল থেকে চার ঘণ্টা জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা রোজভ্যালির সঙ্গে তাপস পালের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং তিনি ওই সংস্থার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোটা টাকা নিয়েছেন বলে সিবিআই অভিযোগ পেয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাপস পালকে একাধিক বার সমন পাঠিয়েছিল সিবিআই। শুক্রবার সকালে তাপসবাবু সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআই দফতরে সস্ত্রীক হাজির হন। সঙ্গে তাঁর কৌঁসুলিও ছিলেন। এর কিছু ক্ষণ পরই প্রথম দফার জেরা শুরু হয়।
রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কু-ু এবং সংস্থার একাধিক কর্মীকে সিবিআই আগেই জেরা করেছে। তাঁদের বয়ান থেকেই তাপস পাল-সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ওই বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থাটির যোগ থাকার অভিযোগ উঠে এসেছিল। সিবিআই তাপস পালের বয়ানের সঙ্গে অন্যদের বয়ান মিলিয়ে দেখার অপেক্ষায় ছিল। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রের খবর, এ দিন তাপস পালকে দু’দফায় জেরা করা হয়। প্রথম দফার জেরায় তাঁর বয়ান রেকর্ড করার পর গৌতম কু-ু এবং অন্যদের বয়ানের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হয়। তার পর দ্বিতীয় দফার জেরা শুরু হয়। এই দফায় সিবিআই-এর উচ্চপদস্থ কর্তারা তৃণমূল সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে জানা গিয়েছে। তাপসের বয়ানে নাকি অনেক অসঙ্গতি ছিল। রোজভ্যালির পদস্থ কর্তাদের জেরা করে এবং সংস্থার বিভিন্ন দফতরে তল্লাশি চালিয়ে যে সব তথ্য-প্রমাণ সিবিআই সংগ্রহ করছিল, সে সব তাপস পালের সামনে তুলে ধরা হয়। রোজভ্যালির কাছ থেকে নগদে টাকা নেওয়ার সব অভিযোগ তাপস পাল প্রথমে অস্বীকার করেছিলেন বলে খবর। কিন্তু দ্বিতীয় দফার জেরায় সিবিআই কর্তারা তাঁর সঙ্গে রোজভ্যালির নগদ লেনদেনের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরার পর নাকি তাপস পাল আর জবাব দিতে পারেননি। সিবিআই সূত্রের খবর, তৃণমূল সাংসদ যে জেরায় সত্য বলছিলেন না, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি অনেক প্রশ্নের উত্তর নাকি এড়িয়েও যাচ্ছিলেন। তাই চার ঘণ্টা জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোজভ্যালির যে ফিল্ম ডিভিশনটি রয়েছে, তাপস পাল মাস ছয়েক তার অন্যতম ডিরেক্টর ছিলেন। তার জন্য তিনি রোজভ্যালির কাছ থেকে টাকাও পেতেন বলে সিবিআই জানতে পেরেছে। ওই সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে তাপস পালের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফারের তথ্য সিবিআই-এর হাতে রয়েছে। এ ছাড়াও তাপসবাবু রোজভ্যালির কাছ থেকে নগদে অনেক বার মোটা টাকা নিয়েছেন বলে সিবিআই-এর দাবি। কেন সে সব টাকা তাপস পাল নিয়েছিলেন, সে প্রশ্নের সদুত্তর তৃণমূল সাংসদ দিতে পারেননি বলে সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে।- আনন্দবাজার পত্রিকা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ