চার বছরে কমেছে ২৪ হাজার পার্টি সদস্য, স্বীকার করল সিপিএম

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২, ১:৩৬ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


চিকিৎসককে দায়িত্ব দিয়েও রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি। একদিকে যখন তাজা রক্ত দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তখন বেরিয়ে যাচ্ছে বদরক্ত।

সঙ্গে কিছু তাজা রক্তও। ফলে কালঘাম ফেলেও পার্টির ভিত শক্ত করা যাচ্ছে না। বাড়ছে নিষ্ক্রিয় কর্মীসংখ্যা। চার বছরে ২৪ হাজার পার্টি সদস্য কমেছে বলে স্বীকার করল সিপিএম।

সঠিক পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে দুর্বলতার কারণেই সদস্য কমছে বলে রাজ্য সম্মেলনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক খসড়া দলিলে স্বীকার করল আলিমুদ্দিন।

মার্চের ১৫ থেকে ১৭ কলকাতায় হবে সিপিএমের রাজ্য সম্মেলন। তারপর এপ্রিলের ৬ থেকে ১০ কেরলের কান্নুরে হবে পার্টি কংগ্রেস।

করোনার কারণে রাজ্য সম্মেলন এবং পার্টি কংগ্রেস এক বছর পিছিয়ে দেয় সিপিএম। সম্মেলনের আগে সংশোধনী দিতে রাজ্য কমিটির সদস্যদের দেওয়া হল পার্টির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক খসড়া দলিল। দলিলের ৩১ নম্বর পাতায় নিষ্ক্রিয়তার সমস্যা উল্লেখ করতে গিয়ে লেখা হয়েছে, রাজ্যে সমগ্র পার্টিতে নিষ্ক্রিয়তা গুরুতর সমস্যা।

আন্দোলন-সংগ্রাম-নির্বাচন এবং পার্টির দৈনন্দিন কার্যধারায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পার্টি সদস্য অংশগ্রহণ করছে না। তাই নিষ্ক্রিয় সদস্যদের সদস্যপদ খারিজের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে। আবার চলছে নতুন সংসদের অন্তর্ভুক্তি।

চার বছর আগে পার্টির সদস্য সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৭৪০। ’২১ সালে পুনর্নবীকরণের শেষে কমে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৮২০। দলিলে লেখা হয়েছে, উল্লেখযোগ্যভাবে সদস্যপদ খারিজের পরেও নিষ্ক্রিয় সদস্য সংখ্যার পরিমাণ এখনও কম নয়।

অনেক জেলাতেই ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ সদস্য নিষ্ক্রিয় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনও অনেক পার্টি সদস্য আন্দোলন সংগ্রামে যোগ দিচ্ছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র।

এখানেই শেষ নয়। দলিলের ছত্রে ছত্রে পার্টি পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষোভ ও আত্মসমালোচনা করেছেন কমরেডকুলের নেতারা। অনেক ক্ষেত্রেই সাংগঠনিক দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে বলে খসড়া দলিলে স্বীকার করা হয়েছে।

কিছু ঘটনাকে কার্যত দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করা হয়। যেমন পার্টিতে আসা নতুন মুখের অনেকেই কিছুদিনের মধ্যেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন।

পার্টিতে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় নিশ্চিতভাবে দুর্বলতা রয়েছে বলেই এমন গুরুতর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আবার পার্টিতে নারী, তরুণ, আদিবাসী, তফসিলি সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক।

পার্টির সদস্যপদে ন্যূনতম ২৫ শতাংশ নারী ও কুড়ি শতাংশ ৩১ বছরের মধ্যে তরুণদের অন্তর্ভুক্তির যে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, বঙ্গ সিপিএম তার থেকে শত যোজন দূরে রয়েছে বলে আক্ষেপ করেছে আলিমুদ্দিন।

এই দুর্বলতার জন্য রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। দলিলের ৩২ নম্বর পাতার ‘পার্টিতে অন্তর্ভুক্তি ও পুনর্নবীকরণ’ অনুচ্ছেদে লেখা হয়েছে, রাজ্য থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতৃত্ব এই দুর্বলতার ব্যাপারে তাদের দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না।

সদস্যের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করলে এমন ঘটনা ঘটত না বলে আক্ষেপ করা হয়েছে দলিলে।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ