চার মাসে ডিমে ১, ফিডের বস্তায় বেড়েছে ৪২৫ টাকা

আপডেট: মে ২৩, ২০২২, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ডিমের দাম বৃদ্ধির আগে-পরেই বাড়ে মুরগি-ফিডের দাম। এটা ফিড কোম্পানিগুলোর কারসাজি। ডিমের দাম বাড়তি থাকলে খামারিরা চুপ থাকবে- এমনই কৌশলে বাড়ানো হয় ফিডের দাম। এ অভিযোগ ফিডের ডিলার, ব্যবসায়ী ও খামারিদের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি মাসে প্রতিটি ৫০ কেজি ফিডের বস্তায় বেড়েছে ১২৫ টাকা। এছাড়া ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিবস্তা ১০০ টাকা করে বেড়েছে। শুধু জানুয়ারি মাসে অপরিবর্তিত ছিল ফিডের দাম। সেই হিসেবে গত চার মাসে প্রতিটি ফিডের বস্তায় দাম বাড়েছে ৪২৫ টাকা। আর এসময় প্রতিটি ডিমের দাম বেড়েছে গড়ে ১ টাকা।

মুরগির ফিড ব্যবসায়ীরা বলছেন, দু’বছর করোনার প্রভাব। এবছর ইউক্রেনে যুদ্ধের প্রভাব। ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি ফিড তৈরির কঁাঁচামাল আমদানি করে থাকে কোম্পানিগুলো। সেখানেই সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

খামার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিমের দাম কম, ফিডের দাম বেশি। ডিমের দাম কম-বেশি হলেও শুধু বাড়তে থাকে ফিডের দাম। তাতে করে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মুরগি ও খামার বিক্রি করে অন্য পেশায় ঝুঁকেছেন কেউ কেউ। আবার অনেকেই ঋণে জর্জরিত হয়ে গুটিয়েছেন ব্যবসা। তাতে কমেছে খামারি ও ডিমের উৎপাদন। কয়েক বছর আগেও রাজশাহীতে ৩ হাজারের বেশি লেয়ার খামারি ছিল। এখন প্রায় ১৮শো খামারি কোনোরকমে টিকে আছেন।

রাজশাহী পোল্ট্রি ডিলার অ্যাসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন জানান, বিগত বছরগুলোতে এমনটিই দেখে এসেছি। ফিড কোম্পানিগুলো কারসাজি করে দাম বাড়ায়। খামারি বা ব্যসায়ীদেও কৌশল নিয়ে এগায় তারা। কিন্তু প্রকারান্তরে খামারি ও ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন। গত চার মাসে প্রতিটি ডিমের দাম বেড়েছে মাত্র এক টাকা। আর ফিডের দাম বস্তায় বেড়েছে ৪২৫ টাকা।’

তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সব ধরনের ফিডের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে নারিশ লেয়ার ফিডে বেড়েছে ১৩৩ টাকা, কোয়ালিটি লেয়ার ফিডে বেড়েছে ১২৫ টাকা, এসিআই এর লেয়ার ফিডে বেড়েছে ১১০ টাকা ও পেরাগনের লেয়ার ফিডে বেড়েছে ১২৫ টাকা। এছাড়া কোয়ালিটির ব্রয়লার ফিডে বেড়েছে ১৫০ টাকা।

আমান ফিড কোম্পানির প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম জানান, ‘তাদের ফিডে প্রতিকেজিতে দুই টাকা বেড়েছে। বিষয়টি কোম্পানি এসএমএস-এর মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছে। তার পরে আমরা ডিলারদের জানিয়ে দিয়েছি।’

ফিডের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, কোম্পানি আমাদের জানায় না। তবে যতটুকু শুনেছি- কাঁচামাল সঙ্কটের কারণে সব কোম্পানির ফিডের দাম বেড়েছে। একটি ফিডের বস্তায় ১৪ থেকে ১৫ ধরনের উপাদান থাকে। এর মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সয়াবিন ও ভুট্টা। এগুলো ইউক্রেন, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ভারত, ভুটান প্রভৃতি দেশ থেকে আমদানি করে কোম্পানিগুলো। এক বস্তা খাবারে প্রায় ৮০ শতাংশ ভুট্টা ও সয়াবিন থাকে। এই দুই কাঁচামাল সঙ্কট বিশ্বজুড়ে। আমার জানা মতে, ফিড কোম্পানিগুলো টাকা দিয়েও কাঁচামাল পাচ্ছে না।

এসিআই লেয়ার ফিড কোম্পানির প্রতিনিধি সানাউল জানায় একই কথা। তিনি বলেন, ফিড কোম্পানিগুলোকে প্রতিমাসে মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তারপরেও তারা ব্যবসা করছে। কারণ মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি ডিলারদের কাছে লাখ লাখ টাকা পড়ে আছে। সেই টাকা তুলতেই কোম্পানিগুলো ব্যবসা করছে।

ব্যবসাগুটিয়ে নিয়েছেন পবার রনহাটের সাদ্দাম এজার আলী, কুখুন্ডির রাজু সাগর। এর মধ্যে লেয়ার খামারি ইয়াসিন আলী জানায়, বিভিন্ন কারণে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছি। ডিমের দাম, কখনও বাড়ে, কখনও কমে। কিন্তু ফিডের দাম বাড়লে আর কমে না। লোকসানের কারণে ডিম দেওয়া অবস্থায় মুরগিগুলো বিক্রি করে দিয়েছি। এখন রিক্সার চার্জার গ্যারেজ দিয়েছি। এভাবেই চলছি।