চালের দাম বাড়তেই আছে চাল আমদানির উদ্যোগে বিলম্ব কেন?

আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২২, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

কেবল বোরোর আবাদের প্রাথমিক পর্যায়ে বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বোরো ধান হয়ে কৃষকের ঘরে উঠতে ঢের সময় বাকি। অথচ চালের খুচরো ব্যবসায়ীরা বলছেন, বোরা ধান না ওঠা পর্যন্ত বাজারে চালের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। অবশ্য সরকার সেক্ষেত্রে চাল আমদানি করে চালের বাজারে স্তিতি ফিরাতে পারে। তা হলে বাজারে চালের উর্দ্ধগতি থামবে কীভাবে? চালের দাম যে বাড়তেই আছে।
রাজশাহীসহ দেশের সর্বত্রই দামের রকম ভেদে চালের দাম বাড়তির দিকে। এতে বেকায়দায় পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।
ব্যবসায়ীদের উদ্ধৃতি দিয়ে দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই জানুয়ারিতেই প্রতি বস্তায় চালের দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। যা কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা। ধানের দাম বেশি হওয়ার কারণে চালের দাম বেশি। সামনে ধানের দামের সঙ্গে চালের দামও আরো বাড়তে পারে।
বছরের শুরুতেই চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখি হল কেন? এর আগে গত ছয় মাস স্থিতিশীল ছিল চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। গত কয়েক দিনে হু হু করে চালের দাম বেড়েছে। অথচ বাজারে আমন ধানের রেশ এখনো বহাল আছে। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুয়ায়ী বাজারে কৃত্রিম চালের সংকট তৈরি করা হয়েছে- এ দাবি চালের পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও। কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দুই মাস ধরে চাল আমদানি বন্ধ রেখেছে সরকার। এই সুযোগে আমদানিকৃত চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন আমিদানিকারকরা। এতে করে প্রতি বস্তায় চালের দাম প্রায় ৩০০ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে ব্যবসায়ীরাও বলছেন, চালের বাজার স্থিতিশীল করতে সরকারকে দ্রুত চাল আমদানির উদ্যোগ নিতে হবে। তবেই চাল-সিন্ডিকেশন ভেঙ্গে দেয়া সম্ভব হবে। আমদানিকারকদের সরকার চাল আমদানির জন্য সর্বশেষ অনুমতি দেয় গেল বছরের ২৫ আগস্ট।
মজুদদারদের বিরুদ্ধে খাদ্যমন্ত্রীর ব্যবস্থা নেয়া এবং আমদানির হুঁশিয়ারির পরও কমছে না চালের দাম। দাম না কমলে সরকারও চাল আমদানির পথে হাঁটতে পারে। সম্প্রতি ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার মাঠ পর্যায়ের খাদ্য কর্মকর্তাদের ৭ জানুয়ারির মধ্যে ধান-চালের অবৈধ মজুদের তথ্য দিতে বলেছিলেন। এ সময় মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে না এলে আমদানির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেছিলেন, এবার ২৫ শতাংশের কম শুল্কে চাল আমদানি করতে হবে। অনুমতিটা আগেই নিয়ে নিতে হবে। তবে মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি কাজে আসেনি। কমেনি চালের দাম। মন্ত্রীর এমন কথায় চালের বাজার নামবে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
হুশিয়ারিতে চাল-সিন্ডিকেট যে ভাঙ্গবে না সেটা বোঝা গেছে। এখন সরকার কত শিগগিরই চাল আমদানির দিবে যাবে সেটাই বিবেচ্য ব্যাপার। খাদ্যমন্ত্রী ২৫ শতাংশের কম শুল্কে যে চাল আমদানির কথা বলেছেন সেটাই দ্রুততার সাথে বাস্তবায়িত করার সময় এসেছে। নতুবা চালের দাম যে আরো বৃদ্ধি পাবে!

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ