চালের দাম বৃদ্ধির পায়তারা পণ্যবাজার স্থিতিশীল রাখতেই হবে

আপডেট: মার্চ ২০, ২০২০, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসকে (পকাভিড-১৯) পুঁজি করে ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে চালের দাম বাড়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির কোনোই ঘাটতি নেই। হুশিয়ারি দেয়া হচ্ছে যাতে করে ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা এ ব্যাপারে সতর্ক হয়। ইতোমধ্যেই কয়েক স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়েছে এবং দাম বৃদ্ধির দায়ে জরিমানা করা হয়েছে।
করোনাভাইরাস নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতায় অনেক ভোক্তা নিজেরা আতঙ্কিত হচ্ছে এবং আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এই শ্রেণির ভোক্তারাই অধিক পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করে মজুদ করছে। কিন্তু এতেই যে বাজারে ঘাটতি পড়ে যাবে ব্যাপারটি তেমন নয়। সারা দেশে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। হঠাৎ করেই পণ্য ঘাটতির কোনো সুযোগ নাই। কিন্তু কতিপয় ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে সেই গর্হিত কাজটিই করে যাচ্ছে।
করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে যাতে চাল, ডাল, আটা, ময়দা, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি না করতে পারে এবং মূল্য বাড়িয়ে না দেয় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ সময় করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কিত না হওয়া এবং অতিরিক্ত পণ্যসামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকতে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
রাজশাহীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার এখনো স্বাভাবিক পর্যায়েই রয়েছে। কুচক্রি মহল যে হঠাৎ করেই এর সুযোগ নিবে না সেটা বলা যাবে না। ইতোমধ্যেই মাস্ক নিয়ে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সেটা সেটা বেশি দূর এগোয়নি। কিন্তু করোনাভাইরাস রোগ যে ভাবে বিস্তার লাভ করছে Ñ এমন নাজুক পরিস্থিতির সুযোগ অসৎ ব্যবসায়ীরা নিতেও পারে। ফলে নিয়মিত বাজার মনিটরিঙের ব্যবস্থা থাকতে হবে। যাতে করে কোনোভাবেই চালসহ নিত্যপ্রয়েআজীয় দ্রব্যাদির দাম কেউ বাড়িয়ে ফায়দা লুটতে না পারে। কেননা লবণকাণ্ডের কথা কেহই বিস্মৃত নয়Ñ কীভাবে হঠাৎ করে লবণের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। প্রশাসনের ত্বরিৎ ব্যবস্থার ফলেই সেটা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছিল। করোনাভাইরাসকে অজুহাত করে কেউ যাতে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে সে ব্যপারে প্রশাসনের নিয়মিত তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। কুচক্রি মহল কোনোভাবেই যাতে আশ্রয়-প্রশ্রয় না পায় সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। এ ব্যাপারে জনসচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। যারা অধিক পণ্য মজুদ করছে- ভোক্তাদের সেই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। কেননা করোনাভাইরাস থেকে শুধু নিজে বাঁচলে চলবে নাÑঅন্যকে নিয়েই বাঁচতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ