চালের বাজার অস্থিতিশীল || বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেই

আপডেট: জুন ১৮, ২০১৭, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

চালের বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বাজর বলা যায় নিয়ন্ত্রণহীন। বাজারে যথেচ্ছ চালের দাম বাড়ছে। লাগাম টেনে ধরার উদ্যোগও লক্ষনীয় নয়। কিন্তু সমস্যায় পড়েছে নি¤œআয়ের মানুষ। মোটা চালের দাম হু হু করে বেড়েই চলেছে।
চালের উর্ধমূল্য নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। চালের বাজারের এই অস্থিরতা মাস তিনেক আগ থেকেই চলে আসছে। হঠাৎ কোনো কিছু নয়। তদুপরি বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের জরুরি উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী গত বছর যে চাল ২৬/২৭ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে সেই চাল এ বছর ৪৬/৪৭ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিদেনে উল্লেখ করা হয়েছে বছরের এ সময়ে চালের দাম এতটা বৃদ্ধি অযৌক্তিক। চালের দাম এ বছরের মতো এতটা চড়া আগে কখনো হয়নি।
তাহলে চালের মূল্যবৃদ্ধির এই কারণ কী? সরকারি চালের মজুদ গত বছর এ সময় ছিল প্রায় ছয় লক্ষ টন, এবার সেটি দুই লাখ টনেরও নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। খাদ্যমন্ত্রীও বিষয়টি স্বীকার করেছেন যে, সরকারের খাদ্য মজুদ অনেক পরিমাণ কমে গেছে। তবে মন্ত্রী বলেছেন, বাজারে সিন্ডিকেশন করে চালের দাম বাড়ানো হচ্ছে। তা-ই যদি কারণ হয় তা হলেও তো বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে না কেন? কিন্তু কার্যত তা দেখা যাচ্ছে না।
বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধির জন্য এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগকেও দায়ী করা হচ্ছে। এটা ঠিক যে, এবার বোরোর আবাদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাওর এলাকায় যেখানে মোট খাদ্য চাহিদার ২৪ শতাংশ উৎপন্ন হয়ে থাকেÑ সেই হাওরে ধানের উৎপাদন এবার মারাত্মকভাবে ক্ষতির মূখে পড়েছে।
এবছর বোরো ফলন শেষে সরকারের ৭ লাখ টন ধান ও ৮ লাখ টন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার ৬শ টনের মতো চাল সংগ্রহ হয়েছে। চাল মিল মালিকরাও সরকারকে চাহিদামত চাল সরবরাহ করছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন সরকার কর্তৃক বেধে দেয়া মূল্যে চাল সরবরাহ করলে তাদের ক্ষতি হবে।
দ্রুত চাল আমদানি করে ঘাটতি মোকাবিলার সুযোগ ছিল। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও বিলম্ব হচ্ছে। যদিও সরকার ভিয়েতনাম থেকে ২ লক্ষ মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে চাল কবে নাগাদ বাংলাদেশে আসবে তার কোনো সময় জানা নাই। বেসরকারি উদ্যোগে চাল আমদানির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে না।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য মতে, ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ থাকায় বেশি পরিমাণে চাল আমদানি করছেন না।
আমদানিকারকরা বলছেন, এক কেজি চাল আমদানিতে ট্যাক্স আসে কেজিতে নয় টাকা। এক হাজার টন চাল আমদানি করলে ৯০ লাখ টাকা শুল্ক দিতে হবে। বেশি চাল আমদানি করার পর সরকার শুল্ক কমিয়ে দিলে তাদের পথে বসতে হবে। সেক্ষেত্রে খুব দ্রুতই  সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত আসা দরকার।
সরকারের ত্বরিৎ সিদ্ধান্তই পরিস্থিতি পাল্টাতে পারে। কাল বিলম্ব না বাজারে চালের সরবরাহ বৃদ্ধি ছাড়া অন্য কোনো গত্যন্তর নেই। আর এ জন্য চালের আমদানি করাই একমাত্র পথ। চাল আমদানিতে বেসরকারি উদ্যোগকে উদ্বুদ্ধ করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। সে ব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা। মোটা চালের দামবৃদ্ধির বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর- তা রাজনীতিকেও প্রভাবিত করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ