চাল সংকট: মিল মালিক রশিদ ও লায়েক আলীকে গ্রেফতারের নির্দেশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গুদামে অতিরিক্ত চাল মজুদ রাখার অভিযোগে বাংলাদেশ রাইস মিল অ্যাসেসিয়েশনের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসি ও এসপিদের এ নির্দেশ দেন। বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বৈঠকে চাল সংকট কাটাতে দেশের কোথায় এবং কোন গুদামে চাল মজুদ আছে সে বিষয়টি জানতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ রাইস মিল অ্যাসেসিয়েশনের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলীর নাম উঠে আসে। তাদের মধ্যে আব্দুর রশিদের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তিনি মিনিকেট রশিদ নামেও পরিচিত এবং বিএনপির অর্থ যোগানদাতা। কুষ্টিয়া ও নওগাঁয় তার চালের মিল ও গুদাম আছে। সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার গুদামে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত চাল মজুদের প্রমাণ পায়। এসময় তাকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে বাণিজ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে কুষ্টিয়ার এডিসি ও নাটোরের ডিসি এবং দুই জেলার এসপির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তাদের বলেন, ‘রশিদের মতো লোকরে কোন আইনে মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি অতিরিক্ত চাল মজুদ করে যে অপরাধ করেছেন তাতে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা উচিত ছিল। এ মুহূর্তে আবারও তার গুদামে অভিযান চালান। সেখানে মজুদ করা অতিরিক্ত চাল ও ধান জব্দ করে তাকে গ্রেফতার করুন।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একইভাবে আমি সব জেলার ডিসিদের সঙ্গে ফোনে কথা বলবো। যেখানে যেখানে চালের গুদাম আছে সেখানে অভিযান চালানো হবে। অতিরিক্ত মজুদ রাখলে মিল মালিকদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করা হবে। কারণ তারা সিন্ডিকেট করে বাজারে চাল সংকটের গুজব ছড়িয়েছে। তারাই সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ষড়যন্ত্র করছে।’
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলীর গুদমেও অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘এটা আমাদের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ। চালের ইস্যুটি ধৈর্য্যের চরম সীমায় পৌঁছেছে।’
এ সময় লায়েক আলী জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী মঙ্গলবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ে সব মিল মালিক অ্যাসোমিয়েশন, আমদানিকারক অ্যাসোসিয়েশন, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তিন মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে যদি প্রমাণ হয় আব্দুর রশিদ ও লায়েক আলীর অ্যাসোসিয়েশন চাল সংকটের জন্য দায়ী তবে তাদের অ্যাসোসিয়েশনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে।’
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন