চাল সংগ্রহে চুক্তি না করায় ৫২ মিল মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আপডেট: জুন ১৫, ২০১৭, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


চাল সংগ্রহ অভিযানে সরকারের সঙ্গে চাল বিক্রির চুক্তি না করায় গোপালগঞ্জে ৫২ চাল কল মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস।
বুধবার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খলিলুর রহমান এ কথা জানান।
তিনি বলেন, চলতি বোরা মৌসুমে সরকার গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলা থেকে ৩৪ টাকা দরে ছয় হাজার ৭১ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। আগামী ১ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে চাল সংগ্রহের এ অভিযান।
“চাল সংগ্রহ অভিযান সফল করতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস চালকল মালিকদের সঙ্গে পৃথক সভা করেছে। খাদ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ৯৩ জন চালকল মালিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। তারপরও ৫২ জন চালকল মালিক চুক্তি করেননি।”
খাদ্য নিয়ন্ত্রক খলিলুর বলেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের কাছ থেকে সরকার আগামী চার বছর চাল কিনবে না। তারা ধান-চাল মজুদ করছে কি না তাও মনিটরিং করা হবে।
এ নিয়ে সদরের মেসার্স মোহাম্মদ আলী চাল কলের মালিক খালেদ মো. কচি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মিলে যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় আমরা চুক্তি করিনি।
এছাড়া চালের বাজার মূল্যের সঙ্গে সরকারি মূল্যের ৩/৪ টাকা পার্থক্য রয়েছে। এ কারণেও অনেক মিল মালিক চুক্তি করেননি।”
এছাড়াও চুক্তি করতে খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বলে দাবি করেন তিনি।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে গোপালগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয় কৃষ্ণ গুপ্ত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মেসার্স মোহাম্মদ আলী মিল থেকে ২৪ দশমিক ৯০ মেট্রিক টন চাল ক্রয়ের জন্য অসংখ্যবার যোগাযোগ করা হয়। তারপরও শেষ পর্যন্ত চাল বিক্রির চুক্তি করেননি তিনি।
লোকসানের ভয়ে বেশিরভাগ মিল মালিক চাল বিক্রির চুক্তি করেনি দাবি করেন কোটালীপাড়ার মেসার্স ছয় তহবিল রাইচ মিল মালিক আহাদ মুন্সি।
আহাদ মুন্সি বলেন, সরকার প্রতি কেজি চালের ক্রয়মূল্য ৩৪ টাকা নির্ধারণ করেছে। বাজারে এ চাল ৩৮ থেকে ৩৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে চাল বিক্রির চুক্তি করলে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা লোকসান হবে।
বাজার দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার চালের দাম নির্ধারণ করলে সব মিল মালিক চু্ক্িত করত বলে জানান হক রাইচ মিলের মালিক রইসুজ্জামান।
চালের ক্রয় মূল্য বৃদ্ধির দাবিও জানান এ মিল মালিক।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ