চাহিদা সত্ত্বেও চালু হচ্ছে না ঢাকা-ঈশ্বরদী ফ্লাইট

আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০১৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি



ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীসহ যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্বেও ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে ঢাকা রুটে ফ্লাইট চালু হচ্ছে না। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঈশ্বরদী ইপিজেডসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ব্যাপক চাহিদা সম্পন্ন ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর দাবি উঠেছে।
ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে পাবনা ৪ আসনের সাংসদ ভূমিমন্ত্রী এবং জেলা প্রশাসনকে কয়েক দফা জানানো হয়েছে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশেও বিমান বন্দরটি চালুর দাবি জানানো হয়েছে। এরপরও ঈশ্বরদী-ঢাকা-ঈশ্বরদী রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু হচ্ছে না।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে প্রথম বাংলাদেশ বিমান ওঠানামা শুরু করে। সেই সময় প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে দুইটি করে ফ্লাইট চলতো। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বিমান বন্দরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্বাধীনতার পর মেরামত করে ১৯৭২ সালে আবার বিমান চলাচল শুরু হয়। তখন পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর ও রাজশাহীর অনেক যাত্রী ঈশ্বরদী হয়ে বিমানে ঢাকা যাতায়াত করতেন। অনেকদিন বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চলার পর লোকসানের অজুহাতে ১৯৮৭ সালে এই রুটে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়।
যাত্রীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে আবারো বিমান চলাচল শুরু হলেও দুই বছর পর ১৯৯৬ সালের ৩ নভেম্বর পুনরায় বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়। এরপর বিমান যাত্রীদের দাবির মুখে ১৯৯৮ সালের ১০ মে বেসরকারি এয়ারলাইন্স এয়ার পারাবতের ফ্লাইট চালু করা হয়। মাত্র ৩৮ দিন চলার পর ২৮  জুন এই সার্ভিস বন্ধ করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আবার ফ্লাইট উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু ৬ মাস ১১ দিন পর আবার বন্ধ হয় বিমানবন্দরটি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, বাংলাদেশ সুগারক্রপ রিচার্স ইন্সটিটিউট, ঈশ্বরদী ইপিজেড, ডাল গবেষণা কেন্দ্র, রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় অফিস, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, পাবনা সুগারমিলস, টেক্সটাইল মিল, পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল (বর্তমানে বন্ধ), বেনারসী পল্লী, ৭ শতাধিক চাউল কল, অটোরাইচ মিল, অয়েল মিলসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে ঈশ্বরদীতে। বর্তমানে রূপপুর প্রকল্প ও ইপিজেড ঘিরে শতাধিক বিদেশি কর্মকর্তা নাগরিকরা এখানে বসবাস করছেন। জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা যাতায়াত করতে হলে বিমানবন্দর থাকা স্বত্বেও বিমানে যাতায়াত করতে পারছেন না তারা।
এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক আবদুর রশিদ জানান, বিমান বন্দরটি ৪৩৫ একর জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৭শ ফুট ও প্রস্থ ৭৫ ফুট। বর্তমানে দেশে যে ধরনের ফ্লাইট রয়েছে, সেগুলো ঈশ্বরদী বিমান বন্দরে অবতরণের জন্য রানওয়ের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাব বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দফতরে পাঠানো হয়েছে।