চায়ের কাপে করোনার ঝড়, তৈরি হচ্ছেনা সচেতনতা

আপডেট: মার্চ ২২, ২০২০, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


চিনের উহান থেকে বিস্তৃতিলাভ করা করোনা ভাইরাস বাংলাদেশেও এখন একটি আতঙ্ক। দেশের প্রতিটি জায়গায় এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তর থেকে শুরু করে গ্রামের ছোট্ট চায়ের দোকানেও এখন আলোচনার মূল ইস্যু হয়ে উঠেছে করোনা আতঙ্ক। আলোচনা থেকে রাজশাহীও পিছিয়ে নেয়। তবে এখনও তৈরি হয়নি পর্যাপ্ত সচেতনতা। সন্ধ্যা হলেই করোনা ইস্যুতে চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন অনেকেই। জমজমাট থাকছে নগরীর চা-স্টলগুলো। নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষগুলোও আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
গতকাল জেলার কয়েকটি এলাকা ও নগরী ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি চায়ের স্টলে ঘটছে জনসমাগম। চলছে আলোচনা-সমালোচনা। করোনা আতঙ্কে নিজের প্রস্তুতিরও জানান দিচ্ছেন তারা। এক্ষেত্রে শুধু মাস্ক ব্যবহার করে নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন অনেকেই। গল্পের ফাঁকে যেখানে সেখানে থুথু ফেলাসহ নাকে মুখেও হাত দিচ্ছেন। এছাড়া অনেক দোকানেই একই গ্লাসে পানি পান করছেন সবাই।
নগরীর গ্রেটার রোডের বাসিন্দা হামিম বলেন, করোনা এখন একটি আতঙ্কের বিষয়। এক্ষেত্রে অনলাইন থেকে সচেতনতার বিভিন্ন বিষয় জানতে পারছি। সেই অনুযায়ী সচেতন হওয়ার চেষ্টা করছি। তবে সব সময় তো আর বাসায় থাকা সম্ভব না। সন্ধ্যার পর চায়ের দোকানে একটু আড্ডা দিই। আর মুখে হাত দেয়া বা থুথু ফেলা এটা অনেকের অভ্যাস। এই অভ্যাসতো আর একদিনে পরিবর্তন করা যায় না।
নগরীর এক দোকানি বলেন, ভাই আমরা সামান্য চা বিক্রেতা। এই চা বিক্রি করেই সংসার চলে। এটা যদি বন্ধ করে দিই না খেয়ে থাকতে হবে। আর এখন এমনিতেই নগরী ফাঁকা। ক্রেতাও কম। ব্যবসা বলতে সন্ধ্যার পর যা একটু হচ্ছে। আর নাকে মুখে হাত দেয়া বা থুথু ফেলা এটা অনেকেই করে থাকে। এখন তারা যদি সচেতন না হয় তাহলে আমরা কী করতে পারি?
এদিকে, গ্রামের অনেক মানুষ করোনা মহামারি সম্পর্কে জানলেও জানেন না নিজের করণীয় সম্পর্কে। পবা উপজেলার বাসিন্দা সারোয়ার বলেন, আমরা টেলিভিশন ও অনলাইনের মাধ্যমে করোনায় মৃত্যুর খবর ও সচেতনতার বিষয়ে জানতে পারছি। তবে গ্রামের অনেক মানুষ আছে যারা সঠিক ধারণাটি পাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসন থেকে সচেতনতামূলক কোনো বিষয় দেখতে পাইনি। এখন পর্যন্ত মাইকিংও করা হয়নি।
এ বিষয়ে পবার হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান বজলে রেজবি আল-হাসান বলেন, সরকারের নিদের্শনা মতো করোনা ভাইরাস সম্পর্কে আমরা সচেতন করার জন্যে কাল থেকে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করবো। সরকার এখন পর্যন্ত কিট টাই আনতে পারে নি। তাহলে আমরা ইউনিয়ন পরিষদ আর কী করতে পারি? তবে আমরা নিদের্শনা অনুযায়ী জনসমাগম যেন না ঘটে সেজন্য সচেতন করছি।
গতকাল শনিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জেলা ও উপজেলা কমিটির সমন্বয় সভায় জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, সকলকে বুঝাতে হবে, গ্রামের চৌকিদার, দফাদার ও বিভিন্ন এনজিকে কাজে লাগিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্রত্যেক অফিসের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার টেবিল রাখতে হবে। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন হাট-বাজারে হাত ধোয়া অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নাপিতদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় জেলা প্রশাসক করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত ও সার্বক্ষণিক নজরদারি, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ গণজমায়েত হয় এমন অনুষ্ঠানসমূহ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বন্ধ করার দিকনির্দেশনা দেন।