চিকিৎসকদের উপস্থিতি থাকলেও রোগী কম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২০, ১০:৩২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


জ্বর, সর্দি কাশি ও শ্বসকষ্টের রোগীদের জন্য রাজশাহীর পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ হটলাইনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিক এই সময় কেউ অসুস্থ হলে ফোনে চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে সেবা নিতে পারছেন রোগীরা। তবে উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ এই বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না। যারা এই বিষয়ে জানেন, তারাই ফোনে যোগাযোগ করে সেবা নিচ্ছে।
এদিকে বেশিরভাগ অসুস্থ মানুষ বাড়ির পাশের ফার্মেসির লোকজনের পরামর্শে ওষুধ খাচ্ছে। সুস্থ না হলে সমস্যা বেশি হলেই তারা হাসপাতালে আসছে। কর্মরত চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, করোনার এই সময় মানুষজন আতঙ্কে আছে। সমস্যা বেশি না হলে হাসপাতালে আসছে না মানুষ। বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাচ্ছে কিন্তু চিকিৎসকদের পরামর্শেই সেবা নিতে হবে। এভাবে ওষুধ খাওয়া যাবে না।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টায় পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, তিনজন মেডিকেল অফিসার বহির্বিভাগের চিকিৎসা দিচ্ছেন। নাম না প্রকাশে এক চিকিৎসক জানান, সরকারি নিয়ম মতো আমরা সকাল আটটা থেকে বেলা ১২ পর্যন্ত হাসপাতালে আছি। আর জরুরি বিভাগেও একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন মেডিকেল অ্যাসিটেন্ট আছে। কিন্তু এখন রোগীর সংখ্যা অনেক কম।
তিনি আরো জানান, এখন সবাই আতঙ্কে আছে তাই ছোট খাটো বিষয়ে হাসপাতালে আসতে ভয় করছে। কিন্তু এটা ঠিক না। আমরা তো হাসপাতালে সেবা দিচ্ছি। এর মাঝে রাজশাহীতে চাপ বেশি থাকায় কয়েকজন চিকিৎসককে শহরে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু উপজেলাতে রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক আছে।
হাসপাতালে পেট ব্যথা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মুন্নি বেগম জানান, বেলা বাড়ার সাথে সাথে আউটডোরের চিকিৎসক থাকছে না। কিন্তু সকালে আসলে চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সকল বিষয়ের চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না। হাড়জোড়ের ডাক্তার ছিলো না আর গাইনি ডাক্তার ছিলো না।
এক রোগীর স্বজন শরিফুল ইসলাম জানান, আমি সেদিও হাসপাতালে এসেছি চিকিৎসককে দেখিয়ে ওষুধ নিয়ে গেছি। কিন্তু পরে দেখলাম যে কাজে আসলাম এটা চিকিৎসকদের ফোন দিলেই হাসপাতালে আসা লাগতো না বাসা থেকে সেবা পেতাম।
আজ আমার এক আন্টির গাইনি বিষয়ে দেখাতে এসেছিলাম কিন্তু জানতে পারলাম আজ গাইনি চিকিৎসক আসেনি। পরে জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার এক ম্যডামকে দেখালাম।
জরুরি বিভাগরে চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে দেখা যায়, তারা পিপিই না পড়েই চিকিৎসা দিচ্ছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তারা জানালেন যে, পিপিই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই পিপিই বেশিক্ষণ পড়ে থাকা যাচ্ছে না। কারণ গরমে চিকিৎসকরা এই পিপিই পড়ে ঘেমে যাচ্ছেন। ওয়ান টাইম এই পিপিই একাধিক বার পরে থাকতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, আপনি যখন আসবেন এখানে চিকিৎসক পাবেন, ২৪ ঘণ্টা আমরা আছি। তবে রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমেছে।
পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাজমা নাহার জানান, আমাদের হাসপাতালে সব সময় সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে হটলাইনেও সেবা নেয়ার ব্যবস্থা আছে। কনসালটেন্ট ও মেডিকেল অফিসার ও মেডিকের অ্যসিটেন্টসহ আমরা রোস্টারে ১২ জন চিকিৎসক সেবা দিচ্ছি।
বহির্বিভাগে সকাল আটটা থেকে বেলা ১২ পর্যন্ত সরকারি নিয়ম মতো দায়িত্বরত চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছে। তবে রোগীদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে।
তিনি জানান, করোনার বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিস থেকে সবসময় দিকনির্দেশনা আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা তেমন কোনো রোগী পাইনি। আগে যারা বাইরে থেকে এসেছে বা হোম কোয়ারেন্টইন শেষ করেছে তাদের সরকারি নিয়ম মতো পর্যবেক্ষণে নিয়ে আমাদের চিকিৎসকরা যোগাযোগ করে সেবা দিচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ