চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সবেচেয়ে আগে বিবেচনায় আনতে হবে

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০২০, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ডা. নওশাদ আলী অধ্যক্ষ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ

সারা দেশের মতো রাজশাহীতেও করোনার চিকিৎসার প্রস্তুতি একইরকম। স্বাস্থ্যখাত থেকে যে নির্দেশনা আসছে তা অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনটা মূল বিষয় তা হচ্ছে, চিকিৎসার প্রস্তুতি, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, রোগের বিস্তার। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের সকল ছুটি বাতিল করে হাসপাতালের আউটডোর এবং ইনডোরে রোগিদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তবে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় চিকিৎসকরা নিজেদের সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কিত। তাই সবার আগে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ একজন চিকিৎসককে হাসপাতালসহ সকল জায়গায় চলাফেরা করতে হয়। সেখানে আমাদের মতো চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়া সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।
কিন্তু একজন চিকিৎসক হাসপাতালে রোগী দেখছেন, রোগী হালকা সিনটোম নিয়ে আমাদের কাছে আসছেন। কিন্তু টেস্ট করে নিশ্চিত হওয়া যায়নি রোগী করোনায় আক্রান্ত কিনা। এই জায়গাটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখানেই চিকিৎসকসহ সবাই ভয় পাচ্ছে। তাই পর্যাপ্ত সরঞ্জামদি না থাকার কারণে মোটামুটি প্রস্ততি নিয়ে রোগি দেখলেও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর আক্রান্ত হলে পরে চিকিৎসকও কোয়ারিন্টেইনে যেতে হবে। চিকিৎসকরা যদি এভাবে আক্রান্ত হয়ে কোয়ারেন্টইনে যায়। তখন ১০ দিন পরে দেখা যাবে ওয়ার্ড খালি। ওয়ার্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নাই! চিকিৎসার জন্য লোক পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সবেচেয়ে আগে বিবেচনায় আনতে হবে। এটি সরকারি থেকে শুরু করে বে-সরকারিভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
চিকিৎসা পাওয়া মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। তাই সকলের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানেও সেবা দেয়া থেমে নেই। হাসপাতালে সর্দি-কাঁশির রোগি আসছেন। এটা কমানো যায়, এই রোগিগুলোকে বাসায় চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে। এখন তাদের প্যারাসিটামল, ভিটামিন সি, পানি বেশি খাওয়ার কথা বলছি। কিন্তু প্রতিদিন তিন চার হাজার রোাগ আসছে। এটা যৌক্তিকভাবে কমাতে হবে। এতো মানুষের মাঝে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
চিকিৎসকের নিরাপত্তার বিষয়টির নিয়ে বলা হয়েছে, চিকিৎসকদের জন্য ৩৯টি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জিনিস দেয়া হচ্ছে যা দেশিয় মানের। বিদেশি মানের না। এটা কিন্তু ওয়ান টাইম। আজ বা কাল শেষ হয়ে যাবে। এরপরে কি অবস্থা হবে। যে ওয়ার্ডে যত জনবল আছে, সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিকিৎসার সকল জিনিস দিতে হবে। এটা যদি না দেওয়া হয়, তাহলে চিকিৎসক আক্রান্ত হবে। তখন হয়তো মারা যাবে না, হোম কয়োরান্টইনে যাবে। তখন চিকিৎসার কাজে সে চিকিৎসকে পাওয়া যাবে না। তাই চিকিৎসককে সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
করোনা প্রতিরোধে সরকার চেষ্টা করছে। আমরাও এর সমাধান চাচ্ছি! কিন্তু এখন নেই, তারপরেও আমরা থেমে নেই। হাসপাতালের সকল চিকিৎসক সকল ওয়ার্ডে কাজ করছে। আশাকরি একসময় এই বিপাদ কেটে যাবে। তবে চিকিৎসক থেকে শুরু করে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।