চিকিৎসক ছাড়াই একজিমা শনাক্ত করবেন যেভাবে

আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৯, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ত্বকের একটি পরিচিত সমস্যা হলো একজিমা। আপনি সম্ভবত একজিমার উপসর্গগুলো জানেন, যেমন- ত্বকে র‌্যাশ ওঠা বা ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, ত্বকে শুষ্কতা ও খসখসে ভাব, ত্বকে আঁইশ, ত্বকে প্রদাহ ও ফাটল, ত্বকে চুলকানি ও অন্যান্য। কিন্তু তারপরও আপনার পক্ষে একজিমা নির্ণয় করা কঠিন হতে পারে, কারণ ত্বকের অন্যান্য সমস্যায়ও এসব উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে। আপনি নিশ্চিতভাবে একজিমা শনাক্ত করতে চাইলে একসঙ্গে কিছু বিষয় ভালোভাবে বিবেচনা করতে হবে। এ প্রতিবেদেন নিজে নিজে একজিমা নির্ণয়ের জন্য পাঁচটি বিষয় আলোচনা করা হলো।
* শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকের অবস্থান লক্ষ্য করুন : অ্যালার্জি, স্কিন কন্ডিশন বা ত্বকের সমস্যা ও কোনোকিছুর (যেমন- ডিটারজেন্ট ও সুগন্ধি দ্রব্য) প্রতি রিয়্যাকশন থেকে আপনার ত্বকে শুষ্কতা, খসখসে ভাব, চুলকানি ও সংবেদনশীলতা হতে পারে। আপনার ত্বকের সমস্যাটি একজিমা কিনা নির্ণয় করতে শরীরের কোথায় ইরিটেশন বা অস্বস্তিকর অনুভূতি হচ্ছে খেয়াল করুন, বলেন ফ্লোরিডার বোকা র‌্যাটনে স্থাপিত ডার্মাটোলজি অব বোকার মেডিক্যাল ডিরেক্টর ও ডার্মাটোলজিস্ট জেফ্রি এস. ফ্রোমোভিতজ। তিনি আরো বলেন, ‘একজিমা বা অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস শরীরের সে অংশে হওয়ার প্রবণতা বেশি যেখানে বক্রতা সৃষ্টি করা যায়, যেমন- বাহুর ভাঁজ, কবজির ভাঁজ, গলার ভাঁজ ও হাঁটুর পেছনের ভাঁজ। চিকিৎসকেরা এসব স্থানে একজিমা বেশি দেখেন এবং এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে আপনার ত্বকের ইরিটেশন পোশাক বা সুগন্ধি দ্রব্য থেকে হচ্ছে না। ত্বকের এ সমস্যাটি শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।’
* চুলকানি থেকে র‌্যাশ হয়েছে? : একজিমার একটি সাধারণ উপসর্গ হলো তীব্র চুলকানি, কিন্তু অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন অথবা নতুন প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহারের কারণেও এ ধরনের চুলকানি হতে পারে। তাহলে আপনার ত্বকের সমস্যাটি আসলে কি কিভাবে বুঝবেন? ডা. ফ্রোমোভিতজ বলেন, ‘আবারও মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে, শরীরের কোন স্থানে তীব্র চুলকানি অনুভূত হচ্ছে তা লক্ষ্য করুন। সবচেয়ে বড় নির্ণায়ক হচ্ছে এ চুলকানির পূর্বে র‌্যাশ হয়েছিল নাকি এ চুলকানি থেকে র‌্যাশ হয়েছে। একজিমার ক্ষেত্রে আগে তীব্র চুলকানি অনুভূত হবে এবং সেই চুলকানি থেকে র‌্যাশ সৃষ্টি হবে। কিন্তু কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস বা ত্বকের অন্যান্য কিছু সমস্যার ক্ষেত্রে এর বিপরীতটাই ঘটে- আগে র‌্যাশের উৎপত্তি, পরে চুলকানি।’
* ফোসকা ও র‌্যাশের আকৃতি চেক করুন : যে কারণেই ফোসকা ওঠুক না কেন, এটি যে অস্বস্তিকর ও বিরক্তিকর তাতে যে কেউ সহমত জানাবে। তীব্র একজিমা ও পয়জন ওক বা আইভি জনিত ডার্মাটাইটিস উভয় দশাতেই ফোসকা ওঠতে পারে। কি কারণে আপনার ত্বকে ফোসকা হয়েছে তা জানার অন্যতম উপায় হলো, এটি শরীরের কোথায় হয়েছে ও এর আকৃতি কেমন তা চেক করা, বলেন ফ্রোমোভিতজ। শরীরের যেখানে একজিমা বিকাশের প্রবণতা বেশি সেখানকার ফোসকা একজিমা জনিত ফোসকা হওয়ার প্রবণতা বেশি, কিন্তু বাহু বা পায়ের পৃষ্ঠে আবির্ভূত ফোসকা বিষাক্ত উদ্ভিদের প্রতি রিয়্যাকশন থেকে হতে পারে। ডা. ফ্রোমোভিতজ আরো বলেন, ‘এছাড়া ফোসকার আকৃতি ভিন্ন হবে। পয়জন আইভি র‌্যাশ সরলরৈখিক হবে, অন্যদিকে একজিমার ফোসকা/র‌্যাশ গোলাকার হয় ও পাশাপাশি থাকে।’
* হাঁপানি অথবা অ্যালার্জি আছে? : লোকজন প্রায়শ একজিমার লাল ও প্রদাহিত ত্বককে পোশাক-ঘাস-পোষা প্রাণী থেকে সৃষ্ট ইরিটেশন, ব্রণ, অ্যালার্জি, সোরিয়াসিস ও ত্বকের অন্যান্য সমস্যা ভেবে ভুল করেন। কিন্তু ত্বকের লালতা ও প্রদাহের স্থায়িত্ব ভালোভাবে খেয়াল করলে এ সমস্যাটি একজিমা কিনা বোঝা যাবে। ডা. ফ্রোমোভিতজের পরামর্শ: নিজেকে প্রশ্ন করুন যে এটি কতদিন ধরে সেখানে আছে, এটি কি সেখানে প্রথমবার হয়েছে, আপনার কি হাঁপানি বা অ্যালার্জির ইতিহাসও রয়েছে, আপনার পরিবারের কারো এ ধরনের অবস্থা হয়েছে? একজিমার সঙ্গে হাঁপানি ও অ্যালার্জি থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়- এ তিন দশা একসঙ্গে থাকলে এটিকে অ্যাটপিক ট্রায়াড বলে। হাঁপানি অথবা অ্যালার্জির (হে ফিভার বা অনবরত হাঁচি) সঙ্গে শরীরকে বাঁকানো যায় এমন স্থানের ত্বকে লালতা ও প্রদাহ থাকলে এটা ধরে নিতে পারেন এ সমস্যাটি একজিমা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ কন্ডিশনটি বংশগত, আপনার শৈশবে এ ধরনের উপসর্গ প্রকাশ পেলে জীবনের অন্যান্য ধাপেও এ সমস্যার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। কিন্তু আপনার ত্বকে প্রথমবার এ ধরনের প্রতিক্রিয়া হলে এটি সম্ভবত একজিমা নয়।
* ত্বকে আঁইশের সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ : সোরিয়াসিস অথবা কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস কিংবা শুষ্ক আবহাওয়া/বায়ুর কারণে ত্বকে আঁইশ লক্ষ্য করা যেতে পারে। ডা. ফ্রোমোভিতজ বলেন, ‘অ্যালার্জির উদ্রেককারী বস্তু বা পরিবেশ দূষণকারী পদার্থ রয়েছে এমন শহরে বাস করলে অথবা ইনডোর হিটিং ব্যবহার করলে ত্বক শুকিয়ে যেতে পারে এবং বিদ্যমান একজিমা আরো খারাপ হতে পারে। আপনার ত্বকের আঁইশ একজিমার লক্ষণ কিনা তা কিছু বিষয় খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন। একজিমা প্রবণ স্থানের (বাহুর ভাঁজ, কবজির ভাঁজ, গলার ভাঁজ ও হাঁটুর পেছনের ভাঁজ) ত্বকে আঁইশ দেখা গেলে ও সেখানে চুলকানি অনুভূত হলে এবং হাঁপানি ও অ্যালার্জি বা অনবরত হাঁচি থাকলে আপনার সমস্যাটি একজিমা বলে ধরে নিতে পারেন। সবদিক বিবেচনা করলে আপনি নিজেই নিশ্চিতভাবে একজিমা শনাক্ত করতে পারবেন।’ তথ্যসূত্র : দ্য হেলদি