চিন-যুক্তরাষ্ট্র-তাইওয়ান উত্তেজনা বিশ্ব কি পারমাণবিক যুদ্ধের মুখে?

আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২২, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

কোভিড-১৯ এর অভিঘাত পরবর্তী বিশ্ব বহুমুখি সমস্যার সম্মুখিন। এসব সমস্যার সমাধান কিংবা নিরসন তো দূরের কথা বিশ্ব নেতৃত্ব নানাবিধ সঙ্কটের জালে নিজেদের ক্রমশ জড়িয়ে ফেলছেন। ফলে এমন একটা আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না যে, বিশ্ববাসীকে আরো কঠিন ও ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই মুহূর্তে পারমাণবিক যুদ্ধের আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না।।বিশ্ব নেতৃত্বের ক্ষমতা ও অধিপত্য বিস্তারের লড়াই পরিস্থিতিকে সে দিকেই নিয়ে যাচ্ছে বলে আশংকা করার যথেষ্ট কারণ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যেকার যুদ্ধ এমনিতেই বিশ্বকে বহুমুখি সমস্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে। দ্রুতগতিতে মূল্যস্ফীতির মত ঘটনা বিশ্বের সব দেশেই। জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি অনেক দেশই মুষড়ে পড়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার অভাব দেখা দিয়েছে। দেশে ডলারের ঘাটতি বিশ্ব অর্থনীতিকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এরমধ্যে বিশ্ব মানবের জন্য নতুন আপদ হিসেবে চিন-যুক্তরাষ্ট্র-তাইওয়ানের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বলা যায়, অনেকটাই যুদ্ধাবস্থার মত পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
আমেরিকার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই তুঙ্গে উঠেছে উত্তেজনা। এই সফরের বিরুদ্ধে চিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানকে হুমকি দিয়ে আসছিল। কিন্তু সে হুমকি উপেক্ষা করেই ন্যান্সি পেলোসি বর্তমানে তাইওয়ান সফর করছেন। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টও তার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছেন। এরই ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ চিন সাগরের দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ান সীমান্তের কাছে বাড়ছে সাঁজোয়া গাড়ি এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের সম্ভার। সংবাদ মাধ্যমের ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, চিনের ফুজিয়ানের ব্যস্ত রাস্তায় সারি সারি ট্যাঙ্ক পেরিয়ে যাচ্ছে। আরও একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে যেখানে দাবি করা হয়েছে, পেলোসি তাইওয়ান পৌঁছনোর দিন সন্ধ্যাতেই তাইওয়ান সীমান্তের কাছে সেনাবাহিনী নিয়ে জমায়েত করতে শুরু করেছে চিন।
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চুনয়িংয়ের দাবি, পেলোসি কোনো ব্যক্তিগত কাজে তাইওয়ান যাননি এবং আমেরিকা যদি হস্তক্ষেপ করা বন্ধ না করে তা হলে চিন ‘বৈধ ভাবে যে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত’। পেলোসির সফর চিনা নীতির পরিপন্থী হবে বলেও শি জিনপিং সরকার দাবি করেছে। ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান ছাড়ার পর আজ বৃহস্পতিবার এবং রোববারের মধ্যে তাইওয়ানে হামলা হতে পারে বলেও আশংকা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনে চলতে থাকা যুদ্ধে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি মস্কো নাকচ করে দিলেও মঙ্গলবার জাতিসংঘে রাশিয়ার প্রতিনিধি বলেছেন, ন্যাটো দেশগুলো যদি মস্কোতে ‘সরাসরি আগ্রাসনের’ সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্রাগার ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এমনই জটিল সঙ্কটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ৩১ জুলাই আল-কায়দা প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরিকে গোপন অভিযানে হত্যা করেছে। এখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রই তাদের নাগরিকদের জন্য বিশ্বজুড়ে সতর্কতা ঘোষণা করেছে। দেশটি আশংকা করছে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার নাগরিকদের এ বার নিশানা করতে পারে জঙ্গিরা।
সবকিছু মিলেই বিশ্ব পরিস্থিতি যে মানব সভ্যতার জন্য উদ্বেগজনক তা বলাই বাহুল্য। সঙ্কট সমাধান দূরূহ হয়ে পড়লে পারমাণবিক যুদ্ধ অসম্ভব কিছু নয়। যদি সেটাই হয় সেক্ষেত্রে দায় নেয়ার মতও নেতৃত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। বরং যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় ক্ষমতার আধিপত্য বিস্তারের আকাক্সক্ষা দমিয়ে রাখাই হবে বিশ্ব শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ