চিন-রাশিয়ার ভ্যাকসিনে আস্থা আনার সময় এসেছে?

আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০২১, ২:১৪ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ভ্যাকসিন নিয়ে ধনী এবং দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ধনী দেশগুলো যখন কোটি কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে রাখছে তখন দরিদ্র দেশগুলো আশঙ্কায় আছে তারা ভ্যাকসিন পাবে কীনা। তবে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব আর তা হচ্ছে চিন, রাশিয়া এবং ভারতের তৈরি করোনার ভ্যাকসিন। সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি মতামত কলামে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।
পশ্চিমা এবং বিশ্বের অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রথম দিকে চিন ও রাশিয়ার তৈরি করোনা ভ্যাকসিনকে পাত্তা দেয়া হয়নি। সে সময় মনে করা হয়েছিল মডার্না, ফাইজার-বায়োএনটেক অথবা অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিনের তুলনায় এগুলো হয়তো নিম্নমানের। চিন ও রাশিয়া স্বৈরাচারী রাষ্ট্র হওয়ার কারণেও হয়তো তাদের তৈরি ভ্যাকসিন নিয়ে এমন ধারণা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
তবে সম্প্রতি কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, এই দুই দেশের তৈরি করোনা ভ্যাকসিনও বেশ কার্যকর। চলতি সপ্তাহে মানবদেহে রাশিয়ার স্পুতনিক-ভি ভ্যাকসিন পরীক্ষার অন্তর্র্বতী ফলাফল প্রকাশ করেছে শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেট। সেখানে এই ভ্যাকসিন ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ কার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রাশিয়ার গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড তাদের ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে একই ধরনের দাবি করেছিল। তবে সে সময় তাদের এই দাবি খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। কিন্তু ল্যানসেটের প্রকাশিত তথ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না।
তবে চীনের তৈরি সিনোফার্ম ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মিসর, জর্ডান, ইরাক, সার্বিয়া, মরক্কো, হাঙ্গেরি এবং পাকিস্তান। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝিতে আমিরাতে এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে ১৮ লাখ মানুষ।
অপরদিকে চিনেরই অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি সিনোভ্যাক ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে বলিভিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ব্রাজিল এবং চিলি। শুধু অনুমোদনই নয় বরং এসব দেশে সিনোভ্যাকের ব্যবহারও শুরু হয়েছে। এছাড়া ইউরোপ মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার ডজনখানেক দেশে স্পুতনিক-ভি ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শুরু হয়েছে।
চিন এবং রাশিয়ার কাছ থেকে ভ্যাকনির নেয়ার সময় এসব দেশ অবশ্যই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা যাচাই না করেই নিশ্চয় তারা ভ্যাকসিন নেয়নি। এসব তথ্যের বেশির ভাগই ল্যানসেট ও দ্য জার্নাল অব দ্য আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (জেএএমএ) মতো বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশ হয়েছে অথবা স্বাধীনভাবে ট্রায়ালের পর ফলাফল জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ