চিড়া কুটাতে ভিড়

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০২১, ১১:০০ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


সকাল সাড়ে ৬টা। ছোট-বড় বস্তার সারি সড়কের পাশে। সেই সারি শেষ হয়েছে মিলের দরজায়। পাশেই বসে বা দাঁড়িয়ে সময় কাটাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। তারা জানালেন, ‘দুর্গাপূজা আসন্ন। ধানের চিড়া কুটাতে (ভাঙ্গানো) এসেছেন।’ কারণ অতিথি আপ্যায়নে অন্য খাবারের সাথে চিড়ার জুড়ি নেই। এছাড়া শুকনো খাবারের তালিকায় মুড়ি, মুড়কি নারিকেলের লাড়– ও মিষ্টির সাথে চিড়া দেওয়া হয় অতিথিদের। তাই বছরের এই সময়ে চিড়া কুটার হিড়িক পড়ে।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) গোদাগাড়ীর শ্রীরামপুর এলাকায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। মিল মালিক কামরুজ্জামান জানান- ‘প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে চিড়াকুটার কাজ শুরু হয়। আগেপরে মিলে চলে ১০ থেকে ১৫ দিন। এসময় প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ মণ ধানের চিড়া তৈরি করেন তারা। একাজে দুজন শ্রমিক সকাল সাতটা থেকে শুরু করে মধ্য রাত পর্যন্ত কাজ করেন। প্রতিকেজি চিড়া কুটাতে লাগে ৬ টাকা।’

মিলের শ্রমিক নাটোরের তোফাজ্জল হোসেন ও মঞ্জুর রহমান মঞ্জু। তাদের সাহায্য করছেন শ্রী দহন হাসদা। দহন হাসদা জানালেন তিনি শ্রমিক নন। চিড়া কুটাতে এসে সাহায্য করছেন তোফাজ্জল ও মঞ্জুকে। এর মধ্যে মঞ্জু বড় কড়াইয়ের ফুটন্ত (গরম) বালুতে সিদ্ধ করা ধান দিচ্ছেন। চার থেকে পাঁচ মিনিট পরে সেই ধান আবার তুলে দিচ্ছেন মঞ্জু। আর তোফাজ্জল সেই ধান মেশিনে দিচ্ছেন। তার তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যে তৈরি হচ্ছে চিড়া। এরপর মেশিন থেকে চিড়া তুলে চালনার (লোহার তারের তৈরি একধনের নেট) উপরে রাখলে শ্রী দহন ধানের গুড়াগুলো ঝাকুনি দিয়ে বের করে ফেলছেন। এতে শুধু চিড়া অবশিষ্ট থাকছে চালনায়।

চিড়া কুটাতে আসা গড়ড্যাং এলাকার শ্রী রমনী জানান, সবচেয়ে ভালো চিড়া হয় আমন ধানের (চ্যাঙ্গুল ধান)। এরপর তুলনামূলক ভালো চিড়া হয়- আঠাশ- ৫১, ৭৬ ও স্বর্ণা ধানে। এই ধান আগে বাড়িতে সিদ্ধ করে নিতে হয়। এরপর বিকল্প পানিতে ঢুবিয়ে রাখতে হয়। এরপর সরাসরি আনতে হয় চিড়া মিলে।

একই এলাকার শ্রী রামেশ্বর জানান, ‘পূজার এই কয়েকটা দিন প্রচুর ভিড় থাকে। সকালে আসলে চিড়া কুটিয়ে (মেশিনে ভাঙ্গিয়ে) বাড়ি নিয়ে যেতে রাত হয়ে যায়। তাই আমি রাত দেড় টার দিকে সাইকেলে ২০ কেজি ধান নিয়ে এসেছিলাম। সকালে সাড়ে ৮টার দিকে চিড়া কুটা হয়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন- ‘দুর্গাপূজার সময় মূলত চিড়া কুটার হিড়িক পড়ে। দুর্গাপূজায় যে অতিথিরা বেড়াতে আসবে তাদের আপ্যায়নের জন্য বিভিন্ন খাবারের সাথে চিড়া দেওয়া হয়। এটি আমাদের ঐতিহ্যের মতো হয়ে গেছে।’

বেলডাঙ্গা এলাকার শ্রী পুষ্প লাল জানান, শ্রীরামপুরে চিড়াকুটার মিল ছিল না। চার বছর হলো মিল হয়েছে। আগে আমাদের গ্রোগ্রাম, টেংড়ামারী ও আন্ধারকোঠায় চিড়া কুটাতে যেত হতো। এসব মিল এখন নেই। শুধু শ্রীরামপুরেই একটা চিড়া কুটার মিল আছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ