চুরির অর্থ ফেরাতে ফিলিপিন্স যাচ্ছেন আইনমন্ত্রী

আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০১৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি যাওয়া অর্থের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফেরত পাওয়ার পর বাকী অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়ায় গতি আনতে বাংলাদেশ থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি দল ২৬ নভেম্বর ফিলিপিন্স যাচ্ছেন।
এই দলে রয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।
আইনমন্ত্রী বৃহস্পতিবার নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ফিলিপিন্স সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।
আনিসুল হক বলেন, “ফিলিপিন্সে যে কাজে যাচ্ছি, সেই কাজটা শেষ করে আসলে আপনাদের সাথে কথা বলব। যে কারণে যাচ্ছি, আগে যাই। এখনই এটা করে ফেলব, ওইটা করে ফেলব- সেটা আমি বলতে পারব না। যাই, সফর সফল ব্যর্থ যাই হোক, ফিরে এসে আপনাদের বলব।” সফর শেষে দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ৩০ নভেম্বর দেশে ফিরবেন বলে জানান তিনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সুইফট সিস্টেমে ভুয়া পরিশোধের অর্ডার পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পাঠানো হয়েছিল ফিলিপিন্সে।
ওই অর্থের দেড় কোটি (১৫ মিলিয়ন) ডলার ১২ নভেম্বর ফেরত দিয়েছে ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই অর্থ জুয়ার টেবিলে চলে গিয়েছিল, এক ক্যাসিনো মালিক তদন্তের মুখে তা ফেরত দেয়।
ওই অর্থ ফেরত পাওয়ার পর দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজি হাসান জানিয়েছিলেন, বাকি অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে চলতি মাসের শেষ দিকে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ফিলিপিন্সে যাবে। রাজি হাসান বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব আমরা বাকি অর্থও ফেরত আনার চেষ্টা করব।” ডেপুটি গভর্নর রাজি হাসান বলেন, “চুরি যাওয়া ৩১ মিলিয়ন ডলার বিভিন্ন স্থানে ফ্রিজ করা আছে। এর মধ্যে ক্যাসিনোতে আছে ২৯ মিলিয়ন ডলার।” ওই ছয় কোটি ডলার ফেরত আনতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি দল ফিলিপিন্স যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে নিউ ইয়র্ক ফেড থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরানোর চেষ্টা হয়েছিল।
একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। অন্যদিকে চারটি মেসেজের মাধ্যমে ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকে (আরসিবিসি) সরিয়ে নেয়া হয় ৮১ মিলিয়ন ডলার। এর একটি বড় অংশ ফিলিপিন্সের জুয়ার টেবিলে চলে যায়।
বিশ্বজুড়ে তোলপাড় করা এই ঘটনাটি তদন্তের উদ্যোগ নেয় ফিলিপিন্সের সিনেট কমিটি। সে দেশের আদালতেও গড়ায় বিষয়টি। এর মধ্যে ক্যাসিনো মালিক কিম অংয়ের ফেরত দেওয়া দেড় কোটি ডলার পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করতে গত অগাস্টে ম্যানিলা গিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল।
তিনি বলেন, ফিলিপিন্সের আদালত গত ১৬ সেপ্টেম্বর চীনা বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী কিম অংয়ের নগদে ফেরত দেওয়া ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং ৪৮ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার পেসো বাংলাদেশের অনুকূলে ফেরত দেয়ার আদেশ দেয়।
ফিলিপিন্সের আইন অনুযায়ী আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে অর্থ ফেরত দিতে ‘এক্সিকিউশন অর্ডারের’ জন্য ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত ২৭ অক্টোবর ৩০ দিনের মধ্যে বাজেয়াপ্ত করা অর্থ বাংলাদেশকে ফেরতের আদেশ দেয়।
ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা পেসো ও ডলার ফেরতের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউর মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ এবং যুগ্ম-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব গত ৭ নভেম্বর ফিলিপিন্স যান। এরপর ৯ নভেম্বর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এফআইইউ, ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস ও রিজিওনাল কোর্টের শেরিফের সঙ্গে ম্যানিলায় বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা সভা করেন। ওই সভায় অর্থ হস্তান্তরের বিষয় চূড়ান্ত আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ আগেই জানিয়েছিলেন, ক্যাসিনো মালিক কিম অং এবং তার ইস্টার্ন হাওয়াই লেজার কোম্পানির ফেরত দেয়া দেড় কোটি ডলার ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গচ্ছিত ছিল।
ক্যাসিনো মালিক অং দুই দফায় এক কোটি ডলারের বেশি ফেরত দেন, যা তিনি দুইজন চিনা জুয়াড়ির কাছ থেকে নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন।- বিডিনিউজ