চুরির পর দোকানের ভাঙা সাটার রাবিতে বেড়েই চলেছে চুরির ঘটনা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৪, ১১:০৬ অপরাহ্ণ


রাবি প্রতিবেদক:রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ঘটছে একের পর এক চুরির ঘটনা। এ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দিলেও মেলেনি প্রতিকার। সর্বশেষ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু হল সংলগ্ন ‘বাসার ভ্যারাইটিজ স্টোরে’র সাটার ভেঙে নগদ সাত হাজার টাকাসহ আনুমানিক ১৫ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন পণ্য চুরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দিতে পারায় এমনটি ঘটছে বলে অভিযোগ দোকানিদের।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু হল সংলগ্ন ‘বাসার ভ্যারাইটিজ স্টোরে’র সাটার ভেঙে নগদ সাত হাজার টাকাসহ ৩টি মোবাইল ফোন, সিগারেট, রিচার্জ কার্ড ও কসমেটিকসহ আনুমানিক ১৫ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য চুরি হয়েছে। ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে হবিবুর রহমান হলের সামনের একটি দোকানে চুরি হয় এবং অন্যটিতে চুরির চেষ্টা করা হয়।

১ ফেব্রুয়ারি রাতে পরিবহণ মার্কেটের ‘হুমায়ুন টেলিকম’ থেকে নগদ দেড় লাখ টাকা, মোবাইল রিচার্জ কার্ড ও চারটি ফোন চুরি হয়। ঠিক এর পাশের ২৩ নম্বর দোকান ‘শাকিক কম্পিউটার-২’ থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা চুরি হয়। এর আগে ১৯ জানুয়ারি রাতে ওঙ্কার বইয়ের দোকানের সামনে থেকে একটি বড় লোহার টেবিল এবং চা বিক্রেতা এনামুলের দোকানের কয়েকটি বেঞ্চ চুরি হয়।

এর আগে, ১৭ জানুয়ারি রাতে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের দোকানের টিন খুলে ভেতরে প্রবেশ করে ৪ হাজার টাকাসহ কিছু মালামাল চুরি হয়। ১০ জানুয়ারি চারু আড্ডা ফাস্ট ফুডের দোকান থেকে একটি টেবিল, এনামুলের চায়ের দোকান থেকে দুটি বেঞ্চ এবং বিশ্ববিদ্যালয় গিফট কর্নার থেকে একটি ছোট টেবিল চুরি হয়। এছাড়াও ছোটো আরো বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এভাবে একের পর এক চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দেন দোকানিরা। প্রতিকার না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন ‘হুমায়ুন টেলিকম’র মালিক হুমায়ুন কবির ও ‘শাকিক কম্পিউটার’র মালিক মোশাররফ হোসেন।

এ বিষয়ে রাবি পরিবহন ও টিনশেড মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাহিদ বলেন, ‘এভাবে প্রতিনিয়ত চুরি হওয়ায় আমরা আতঙ্কিত। আমরা এ বিষয়ে প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। এছাড়াও থানায় একটা সাধারণ ডায়েরি করেছি। এটা দ্রুতই প্রতিকার হওয়া দরকার। আমরা চাই, দ্রুত চোরকে শক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, ক্যাম্পাসের ভিতরের লোকজনই চুরি করছে। কারণ, বহিরাগতদের দ্বারা এভাবে একের পর এক চুরি করা সম্ভব না। এখানে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে।’ একই কথা বলেন আরোও কয়েকজন দোকানী।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দোকানে ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, কর্মচারী হিসেবে যাদের রাখা হচ্ছে তাদের সম্পর্কে দোকানীদের তথ্য রাখতে হবে। এর আগে পরিবহন মার্কেটের দোকানে চুরির ঘটনায় যাদের আটক করা হয়েছে, তারা সেখানের দোকানেই কর্মচারি হিসেবে কাজ করতো। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে। সেগুলোর মাধ্যমে নজর রাখা হচ্ছে। স্টুয়ার্ড শাখার প্রহরীদের আরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকেও এব্যাপারে জানানো হয়েছে।