চেনাজানা চানু পেলেন মাত্র ৯০ ভোট!

আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



মাত্র ৯০টি ভোট। অথচ মণিপুরের অন্যতম জনপ্রিয় মানুষ তিনি। ইরম শর্মিলা চানুকে কে না চেনে। অথচ ব্যালট বাক্সে তাঁর প্রভাব পড়ল না একটুও। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওকরাম ইবোবি সিংয়ের বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়িয়ে সবার শেষে দৌড় শেষ করলেন তিনি। পেলেন মাত্র ৯০টি ভোট।
ইবোবির বিরুদ্ধে থৌবাল আসনে প্রথমটায় ভোটে দাঁড়াতে চাননি। ঠিক করেছিলেন খুরাই কেন্দ্র থেকে দাঁড়াবেন। পরে কিছুটা বাধ্য হয়েই থৌবাল আসন থেকে ভোটে দাঁড়াতে হল তাঁকে। কারণ, থৌবাল অঞ্চলে থাকার জায়গা পাননি। পরাজয় হয়তো নিশ্চিতই ছিল, কিন্তু এতটা কম ভোট পাবেন, সেটা হয়তো নিজেও ভাবেননি চানু।
দীর্ঘ ১৬ বছর অনশন করার পরে, ভোটের রাজনীতিতে আস্থা রেখে নির্বাচনে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রচারের সময় বলেছিলেন, মানুষ তাঁকে সাদরে গ্রহণ করছেন। সব জায়গায় সমর্থন পাচ্ছেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে এসেও হাতে কালির দাগ দেখিয়ে জানিয়ে গিয়েছিলেন ভোটে জেতার বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু শেষটা সুখের হল না চানুর।
পুলিশের খাতায় কোনও অভিযোগ নেই, কোনও দুর্নীতির ইতিহাস নেই। জীবন জুড়ে চানু বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন সংগ্রামের এক দুর্লভ ইতিহাস। আন্তর্জাতিক মহল তাঁকে মানবাধিকারের লড়াইয়ে এক আশ্চর্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তিনি মানুষের জন্য লড়েছেন, এটা যে কেউই স্বীকার করবে। তবু তিনি ভোট পাননি।
ভেঙে পড়েছেন কিনা জানা নেই। শুধু ফল প্রকাশের পরে বলেছেন, ‘সবে ময়দানে এসেছি। এখনও জানি না কিছুই। এটা সবে শুরু। ভোটের আগে যেমন বলেছিলাম, আমরা পরিবর্তনের জন্য এসেছি। সেই পরিবর্তনের শুরু হয়তো এভাবেই হবে। পরাজয় মেনে নিচ্ছি, তবে মানুষের পাশে আছি।’
অনশন ভাঙার পরেই দীর্ঘদিনের পুরুষ বন্ধু ডেসমন্ড কুটিনহোকে বিয়ে করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেই সম্পর্ক আছে কি না, ঠিক জানা নেই। কেউ বলছেন সেই সম্পর্ক আর নেই। দলের মধ্যেই অনেকে চানুকে ব্রাত্য করতে চেয়েছেন। আর এবারে ভোটে পরাজয়। যেভাবে দাঁতে দাঁত চেপে অনশন করে গিয়েছিলেন, গণতন্ত্রের মূল স্রোতে ফিরে ইরম শর্মিলা চানু তেমন করেই লড়াইটা চালিয়ে যেতে পারবেন কিনা, উত্তরটা সময়ই দিতে পারবে।- আজকাল