চেনা উপসর্গ থেকে ভিন্ন ওমিক্রন

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০২১, ১:০৫ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


ডেলটাসহ করোনার আগের ধরনগুলোর চেয়ে ওমিক্রন বেশি সংক্রামক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আশঙ্কা, নতুন এ ধরন বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে ওমিক্রন কতটা মারাত্মক, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হয়নি কেউ। চলছে গবেষণা।
গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের চেনা উপসর্গের চেয়ে ওমিক্রনের লক্ষণগুলো ভিন্ন। তাই এ নিয়ে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দুই বছর ধরে চলা করোনাভাইরাসের যে উপসর্গগুলো আমাদের চেনা হয়েছে, তার সঙ্গে নতুন ভ্যারিয়েন্টের খুব একটা মিল নেই। জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, স্বাদ-গন্ধ চলে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে মানুষ পরীক্ষা করাতে উদ্যোগী হয়েছে। কিন্তু নতুন ভ্যারিয়েন্ট উপসর্গ ছাড়াই বাসা বাঁধছে মানুষের শরীরে।
সাউথ আফ্রিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এসএএমএ)-এর সভাপতির ড. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েটজি জানিয়েছেন,

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টটি ‘অস্বাভাবিক কিন্তু মৃদু’। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত যাদের শরীরে ধরনটি শনাক্ত করেছি, তাদের স্বাদ বা গন্ধ চলে যায়নি। হালকা কাশি হতে পারে। বিশেষ কোনও উপসর্গ এখনও পরিলক্ষিত হয়নি।’
দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন পর্যন্ত ওমিক্রনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৮১ শতাংশ গাওতেং প্রদেশের বাসিন্দা। এখানকার চিকিৎসক ডা. উনবেন পিল্লায়। তিনি বলেছেন, ওমিক্রনের উপসর্গ মৃদু। জ্বর জ্বর অনুভূতি, শুকনা কাশি, রাতে ঘাম ও গায়ে প্রচণ্ড ব্যথার মতো উপসর্গ রয়েছে। বেশিরভাগ রোগীর চিকিৎসা বাড়িতেই সম্ভব। আক্রান্তদের মধ্যে যারা টিকা নিয়েছিলেন তাদের অবস্থা ভালো থাকতে দেখা যাচ্ছে।

যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগের বয়স ২০-৩০ বছরের ঘরে।
এদিকে, এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভারতের কর্নাটক রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে সুধাকর জানিয়েছেন, ওমিক্রন নিয়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা সাবেক সহপাঠীদের সঙ্গে আলাপ করেছেন। তারা তাকে জানিয়েছেন, ওমিক্রন দ্রæত ছড়ালেও ডেলটার মতো ভয়ংকর নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির বমি ভাব হয়, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। তবে স্বাদ-গন্ধ চলে যায় না। এ ধরনে আক্রান্তদের হাসপাতালেও নিতে হচ্ছে না।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরার্মশক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলানও বাংলা ট্রিবিউনকে একই কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি এও বলেন, ওমিক্রন বেশি সংক্রামক, এ নিয়ে সর্তক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, এই ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত হলে কেউ সহজে বুঝতে পারবে না। রোগীর অবস্থা দ্রæত খারাপ হতে পারে। এটা সরাসরি চলে যায় ফুসফুসে। পোর্ট অব এন্ট্রিগুলোতে তাই স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে।

এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত করা হচ্ছে। দেশের সব প্রবেশপথে স্ক্রিনিং আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলো থেকে যারা আসবেন তাদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনও বাধ্যতামূলক।
গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রোগী শনাক্তর সংখ্যা পাঁচশ’র নিচে। মৃত্যুও ১০-এর কম। মানুষের মধ্যেও নেই করোনাভীতি। কোথাও স্বাস্থ্যবিধিও নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতর সকল ধরনের জনসমাগম নিরুৎসাহিত করার কথা জানিয়ে ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের স্ট্রেইনগুলোর মধ্যে ওমিক্রনের জিন বিন্যাসে পরিবর্তন এসেছে সবচেয়ে বেশি। যে কারণে যেসব টিকা এখন পর্যন্ত তৈরি হয়েছে সেগুলো এই ভ্যারিয়েন্টে কাজ না-ও করতে পারে।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ