চৈত্র তাপে হাঁসফাঁস রাজশাহীর জনজীবন

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০২২, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আগুন রাঙ্গা ফাগুনের বিদায়ী ঘন্টা বেজেছে সপ্তা খানেক আগেই। শীতালু-শুষ্ক বাতাস পেরিয়ে বাতাসে এখন চৈত্রতাপ। মৌসুমের প্রথম থেকেই রাজশাহীতে অনুভূত হচ্ছে প্রখর তাপদাহ। দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে গুমোট গরম। বেলা উঠতেই তেঁতে উঠছে সবুজ নগরীর পথ-ঘাট। বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামতে কখনো কখনো মেঘের দেখা মিললেই অধরা বৃষ্টি। এমন আবহওয়ায় রাজশাহীর মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা।

চৈত্রের প্রাক্কালেই অস্বস্তিকর এই গরম কি বার্তা দিচ্ছে? এমন প্রশ্ন রাজশাহীর খেটে-খাওয়া শ্রমিক, মজুরসহ সকলের। সুপ্ত বিকাশিত পত্রের বৃক্ষ তলে বসে বিশ্রাম নিতে নিতে সেই হিসাব করছে নগরীর রিকশা চালক ও শ্রমিকরা।

আবহওয়া অফিসের তথ্য মতে, রাজশাহীতে ১০-১৫ দিনে থেকে মৃদ্যু তাপদাহ চলছে। যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে। রাজশাহীতে আবহওয়া সাধারণত বৈশাখের পরে এমন দেখা যায়। কিন্তু এবার শীতের আবহ কম ছিলো। গরমের আবহ তৈরি হয়েছে কিছুটা আগেই। এসময় হালকা ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি দেখা মেলে। কিন্তু এবার তেমন কিছু নেই। খরতাপে বিবর্ণ হয়ে উঠেছে রাজশাহী। শুকিয়ে খসে পড়ছে আমের মুকুল। চুপসে উঠেছে গুটি।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে বলা হয় মৃদ্যু তাপদাহ, ৩৮ থেকে ৪০ মাঝারি তাপদাহ, ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে বলা হয় তীব্র তাপদাহ এবং ৪২ এর উপরে অতি তীব্র তাপদাহ। রাজশাহীতে বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) সর্র্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সবনি¤œ তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (৩০ মার্চ) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ৭ এবং সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ২৪ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

রাজশাহীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত ১৬ মার্চ থেকে রাজশাহীতে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ওই দিন রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর গত ১৯ মার্চ রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এরপর থেকে তাপমাত্রা ৩৬ ও ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরেই ওঠানামা করছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রাজিব খান জানান, ফাগুনের শুরু থেকেই সর্বনি¤œ তাপমাত্রা উর্ধ্বমূখী। এখন সর্বোচ্চ তাপমাত্রারও পারদও বাড়বে। আর বৃষ্টি কিংবা ঝড় এসবের সম্ভাবনার বিষয়টি রাজশাহী থেকে দেওয়া সম্ভব না। এটা ঢাকা থেকে তাদের জানানো হয়।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, রাজশাহীতে এখন যে তাপমাত্রা বিরাজ করছে তা তেমন একটা অস্বাভাবিক না। তবে এসময় কৃষকদের চাষাবাদে একটু বাড়তি পরিচর্যার প্রয়োজন পড়ে। বিশেষ করে এখন আমের গুটি হচ্ছে। গাছের নিচে যেন রস থাকে সে বিষয়ে চাষীদের নজরদারি রাখতে হয়। হপার পোকার আক্রমণের জন্য স্প্রে করতে হয়। রাজশাহীর চাষীরা এবিষয়ে সচেতন। এবং মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাও তৎপর রয়েছে।

এদিকে, রাজশাহী নগরী ঘুরে দেখা যায়, প্রখর রোদের মাঝে নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করছে। নগর উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত শ্রমিকদের চোখে-মুঝে রোদ্রের তীব্রতার ছাপ।

আরিফুল হক নামের এক শ্রমিক জানান, ঝড়-বৃষ্টি-রোদ এসব মাড়িয়েই চলতে হয়। কাজ না করলে পেটে ভাত জুটে না। হঠাৎ করে গরমের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ঘাম বেশি হচ্ছে। ঘনঘন পানি পান করতে হচ্ছে। রৌদ্রের প্রখরতায় শরীরের চামড়া পুড়ে যাওয়ার অবস্থা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ