চোখের পলকে ম্যাচ শেষ!

আপডেট: জুলাই ১৮, ২০১৭, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


লর্ডসে ২১১ রানের পরাজয়, দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৯ রানে গুটিয়ে গিয়ে চার দিনেই ম্যাচ শেষ…দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য তা ছিল নিদারুণ লজ্জার। ওই পরাজয় এতটাই আঘাত করেছিল, গ্রায়েম পোলক রীতিমতো প্রশ্ন তুলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে। পরের টেস্টে কী দুর্দান্তভাবেই না ঘুরে দাঁড়াল প্রোটিয়ারা। ঠিক যেন হিসেব করে-করে প্রতিশোধ তুলল ট্রেন্ট ব্রিজে। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডকে ১৩৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে ম্যাচ জিতলো ৩৪০ রানে। চার দিনেই!
গত ২৩ বছরে রানের হিসাবে এটিই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় জয়। সব মিলে রানের হিসাবে এই জয় তাদের চতুর্থ বৃহত্তম। টেস্ট সিরিজে ১-১ সমতা ফেরানোর জন্য এর চেয়ে দারুণ জয় আর হয় না। ৩০ বলের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছে ইংলিশরা। আজ চা বিরতির আগেই খেলা শেষ।
কাজটা আসলে প্রথম ইনিংসেই অনেকটা সেরে রেখেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা। গতকাল ঠিক একইভাবে লড়লেন তাঁরা। প্রথম ইনিংসে দুজন পেয়েছিলেন তিনটি করে উইকেট, বাকি দুজন দুটি করে। এবারও তা-ই। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই একেই তো বলে।
৪৭৪ রানের অবিশ্বাস্য এক লক্ষ্যের পেছনে ইংল্যান্ড কখনোই ছুটতে চায় নি। পরশু কোনোমতে চারটি ওভার পার করে দিয়েছিল তাদের দুই ওপেনার। কিন্তু গতকাল প্রথম সেশনেই আভাস মিলে যায়, ম্যাচ বোধ হয় পঞ্চম দিনে যাচ্ছে না। ৭৪ রানে যখন ৪ উইকেট হারাল ইংল্যান্ড। পরের সেশনে নেই বাকি ৬ উইকেট। ম্যাচ আর চা বিরতিতেই গেল না।
তিনটি করে উইকেট নিলেন ফিল্যান্ডার ও মহারাজ। বাকি চারটি উইকেট ভাগাভাগি করেছেন মরিস ও অলিভিয়ের। ইংল্যান্ড হারবে বোঝা যাচ্ছিল। কিন্তু এত দ্রুত জয় যেন দক্ষিণ আফ্রিকাও প্রত্যাশা করে নি।
৪০তম ওভারের দ্বিতীয় বল শেষেও ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১২২। সেখান থেকে আর ১১ রান যোগ করতে ৪৪.২ ওভারে অলআউট। ক্রিকইনফোর এক পাঠকের বিস্ময়ের ঘোর তাই কাটছে না, ‘আমি ফোনে কথা বলছিলাম ২ মিনিটের মতো। এসে দেখি ম্যাচ শেষ!’ তাঁর প্রশ্ন, এটা কি টেস্ট ম্যাচ?
এভাবে চোখের পলকে ম্যাচ শেষ হলে সেটা টেস্ট কি না, তা নিয়ে একটা প্রশ্ন ওঠে বৈকি!-প্রথম আলো অনলাইন