চৌহালী নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাঁধের ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে আবারও ধস

আপডেট: জুলাই ২১, ২০১৭, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি


সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা ও টাঙ্গাইল এবং নাগপুর রক্ষায় নির্মাণাধীন নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাঁধের ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে আবারও ধস দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে একই প্রকল্পের বিভিন্ন পয়েন্টে ৭ দফায় ধস দেখা দিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খাস কাউলিয়া ইউনিয়নের চর জাজুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা এলাকায় ধস দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা, আলিয়া মাদ্রাসা, আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় এসবিএম মহিলা কলেজ, বালিকা বিদ্যালয়সহ বেশকিছু স্থাপনা।
স্থানীরা জানান, ২০১৫ সালে যমুনা নদীর ভাঙ্গন থেকে টাঙ্গাইল, নাগরপুর ও চৌহালী রক্ষায় ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৭ দফায় এ প্রকল্পের বিভিন্ন পয়েন্টে ধস দেখা দেয়। গতকাল সকালে আবারও চর জাজুরিয়া পয়েন্টের অন্তত ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে ধস দেখা দেয়। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পাথরের বোল্ডার ও জিও ব্যাগ। এতে হুমকির মুখে পড়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু স্থাপনা। ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।
এর আগে এর আগে ২ ও ১৬ মে, ৮ ও ২৩ জুন, ৩ ও ৭ জুলাই এ প্রকল্পটির বিভিন্ন অংশ ধসে যায়। এরপর গত বুধবার সকালে খাস কাউলিয়া এলাকায় বাঁধের সংযোগ সড়কেরও প্রায় ৫০ মিটার ধসে যায়।
চৌহালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব:) আবদুুল্লাহ আল মামুন জানান, যমুনার পানির তীব্র ¯্রােতের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চর জাজুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা এলাকায় ধস দেখা দেয়। দুপুর পর্যন্ত এ বাঁধটির প্রায় ৬০মিটার ধসে গিয়ে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বালিভর্তি জিওব্যাগ নিক্ষেপ করে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী মতিউর রহমান জানান, আজকে প্রায় ৬০ মিটার বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। যমুনা একটি অনিয়ন্ত্রিত নদী। কোথায় কখন ভাঙ্গে বোঝা যায় না। ভাঙ্গন ঠেকাতে বালিভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ বলেন, তবে বার বার ধসের কারণে আমরাও বিব্রত। বিষয়টি পাউবোর প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ