চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ‘ভূত’টা ধরেছিল বাংলাদেশকে

আপডেট: জুন ১৬, ২০১৭, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


২৭.৫ ওভারেও বাংলাদেশের রান ছিল ২ উইকেটে ১৫৯। বাকি ২২ ওভারে বাংলাদেশ যোগ করতে পারল ৫ উইকেটে ১০৫ রান। যে গতিতে এগোচ্ছিল বাংলাদেশ, শেষ পর্যন্ত তারা সেটি ধরে রাখতে পারেনি। ছন্দ একবার হারিয়ে ফেললে সেটি আর ফিরে না পাওয়ার দৃশ্য এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিয়মিতই দেখা গেছে : ভালো শুরু, বড় রানের ভিত্তি। এরপর কী ভূতে যেন পায় দলগুলোকে। তাতেই হারিয়ে ফেলে পথ।
২ জুন এজবাস্টনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটা সময় নিউজিল্যান্ডের রান ছিল ৩৯ ওভারে ৩ উইকেটে ২৫৪ রান। ৩৭ রানে বাকি ৭ উইকেট হারিয়ে ৪৫ ওভারে কিউইরা অলআউট ২৯১ রানে। ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়েছে বৃষ্টিতে।
৩ জুন ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ৩০০ রানের লক্ষ্য খেলতে নেমে শ্রীলঙ্কার ওপেনিং জুটি তোলে ৬৯। ১৭ ওভারে সেটি ২ উইকেটে ১১৬। ১৮তম ওভারে পর পর দুই উইকেট হারিয়ে সেই শ্রীলঙ্কানদের বিপর্যয় শুরু; ৪১.৩ ওভারে ২০৩ রানে অলআউট হয়ে সেটি শেষ। অর্থাৎ ৮৭ রানে শেষ ৮ উইকেট হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
৪ জুন এজবাস্টনে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের পরিবর্তিত লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ২৮৯। আজহার আলী-আহমেদ শেহজাদের শুরুটা খুব একটা খারাপও হয়নি। তাঁদের ওপেনিং জুটিতে আসে ৪৭ রান। ২০.৪ ওভারে ২ উইকেটে ৯১ করা পাকিস্তান ৭৩ রানে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৩.৪ ওভারে অলআউট ১৬৪ রানে।
৬ জুন কার্ডিফে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩১১ রানের বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৩০ ওভার পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে নিউজিল্যান্ড। ৩০.১ ওভারে ২ উইকেটে ১৫৮ রান করা কিউইরা শেষ ৮ উইকেট হারিয়েছে ৬৫ রানে। ম্যাচ হেরেছে ৮৭ রানে।
১১ জুন ওভালে সেমিফাইনালে ওঠার সমীকরণ ছিল ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে। প্রথম ব্যাট করতে নামা প্রোটিয়াদের ৭৬ রানের দারুণ শুরু এনে দেন কুইন্টন ডি কক-হাশিম আমলার ওপেনিং জুটি। এমন শুরুর পরও দক্ষিণ আফ্রিকা আর ১১৫ রান যোগ করে অলআউট ১৯১ রানে! ম্যাচটা হেসেখেলেই জিতেছে ভারত।
১২ জুন কার্ডিফেও শেষ চারে ওঠার সমীকরণ মাথায় রেখে নেমেছিল শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান। ২৬ রানে প্রথম উইকেট হারলেও একটা সময় শ্রীলঙ্কার রান ছিল ১ উইকেটে ৮২ রান। অবশিষ্ট ৮ উইকেটে ১৫৪ রান যোগ হওয়ায় শ্রীলঙ্কার স্কোরটা হৃষ্টপুষ্ট হয়নি শেষ পর্যন্ত। ২৩৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাকিস্তান ওপেনিং জুটিতে তুলে ফেলে ৭৪ রানে। ১৫.৩ ওভারে ১ উইকেটে সেটি ৯২। ৪৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে জিতে যায় ম্যাচ। সেই ভূতটা বাংলাদেশকেও এভাবে পেয়ে বসবে, কে ভেবেছিল!

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ