চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ থেকেই ইতালিতে ছড়িয়েছে করোনা?

আপডেট: মার্চ ২১, ২০২০, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ইতালি তো গতকালই মৃত্যুর সংখ্যা চীনকেও ছাড়িয়ে গেল। যে চীন থেকেই প্রথম ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। ইতালিতে এই মুহূর্তে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ৪০৫, চীনে ৩ হাজার ২৪৮। স্পেনও যেন ইতালির পথেই হাঁটছে। এখন পর্যন্ত ৮৩১ জন মারা গেছেন স্পেনে, আক্রান্ত ১৮ হাজার ১০০-র মতো। বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হিসেবে স্পেন চতুর্থ।
দুটি দেশেই, বিশেষ করে ইতালিতে, এত মৃত্যু আর করোনার এভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণ কী? ইতালিয়ান রোগপ্রতিরোধ বিজ্ঞানী (ইমিউনোলোজিস্ট) ফ্রান্সেসকো লে ফসে সেটির জন্য গত মাসে হয়ে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগের একটি ম্যাচকে। ২০ ফেব্রুয়ারি চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে সেদিন ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তার মাঠে নেমেছিল স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়া। ম্যাচটা সেদিন ৪-১ গোলে জেতে আতালান্তা।
আতালান্তা ক্লাবটি যে অঞ্চলে অবস্থিত, উত্তর ইতালির লম্বার্দি অঞ্চলের সেই বেরগামো শহরে করোনার প্রভাব পড়েছে ভয়ংকরভাবে। তা সেই অঞ্চলে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার উৎস বিশ্লেষণেই ইতালিয়ান দৈনিক করিয়েরে দেল্লো স্পোর্তে লে ফসে বলছেন, ‘ওই ম্যাচের পর এক মাস পেরিয়ে গেছে। ম্যাচকে ঘিরে যে রমরমা অবস্থা ছিল, চিৎকার-চেঁচামেচি ও একে অন্যকে আলিঙ্গনের মহা প্রদর্শনী চলেছিল, সেটিই বেরগামোতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ায় সাহায্য করেছে।’
রোমের লা সাপিয়েনজা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স বিভাগের র্যুম্যাটোলোজির অধ্যাপক লে ফসে। করোনার বিস্তারে চ্যাম্পিয়নস লিগের ওই ম্যাচের প্রভাব বোঝাতে গিয়ে তাঁর কথা, ‘এক মাস হয়ে গেছে ম্যাচটার। এখানে সময়ের হিসেবটা গুরুত্বপূর্ণ। হাজার লোকের একই জায়গায় আসা, যেখানে একে অন্যের কাছ থেকে দুই সেন্টিমিটার দূরত্বে ছিল। (গোল বা এমন ঘটনার ক্ষেত্রে) আনন্দের যে উদযাপন ছিল, চিৎকার-চেঁচামেচি, আলিঙ্গন…এসবও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ায় হয়তো সাহায্য করেছে। এটা বলতে আমি বোঝাচ্ছি মুখ-নাক ও শ্বাসনালির ওপরের দিকের অংশের মাধ্যমে দ্রুতগতিতে যেভাবে ভাইরাল উপাদান বেরিয়েছে, সেটিকে।’ পেছন ফিরে দেখলে ভাইরাস ছড়াতে থাকার সে সময়ে দর্শকপূর্ণ স্টেডিয়ামে ম্যাচটা আয়োজনের ভাবনাটা ভুল ছিল বলেও জানান লে ফসে।
ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খুব একটা আশাও দেখেন না এই রোগপ্রতিরোধ বিজ্ঞানী, ‘ভাইরাসটা এভাবে ছড়াতেই থাকবে। উত্তরে (লম্বার্দি) যা ঘটেছে সেটি নিয়ে পড়াশোনা থাকায় আমরা এটিকে (রোমে) যতটুকু সম্ভব দমিয়ে রাখতে পেরেছি। কিন্তু (ভাইরাসের আক্রমণের) আগের বাস্তবতায় ফিরে যেতে সেটি যথেষ্ট নয়। তাই আগামী কয়েক মাসে আমাদের নিজেদের আরও ভালোভাবে গুছিয়ে নিতে হবে। ইতালিতে ভাইরাসটি কমে এলে ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ডে সেটি বেড়ে যাবে।’ তথ্যসূত্র:প্রথম আলো

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ