ছহত্যার রহস্য উন্মোচন

আপডেট: January 1, 2021, 12:41 am

সালাম হাসেমী:


ইয়াদ আলী তালুকদার বাস হতে নেমে রিক্সায় চড়ে কৃষাণ হাটের সামনে নামলেন। গায়ে পায়জামা পাঞ্জাবী। মাথায় খান্দানী টুপি। হাতে খান্দানী শোখিন বেতের লাঠি। দাড়ি গুচ্ছে হাত বুলাতে বুলাতে কৃষাণ হাটের মাঝে এসে দাঁড়ালেন। হাটের অধিকাংশ কৃষাণ তাঁর সামনে এসে দাঁড়ালো। ইয়াদ আলী তালুকদার তাদের জিজ্ঞেস করলেন, আজ তোমরা কত করে বিক্রি হচ্ছ ? সকল কৃষাণ সমস্বরে উত্তর দিল। ‘পাঁচ শ’ টাকা করে।’ জোয়ান ও বলিষ্ঠ যুবক কৃষাণ গবেদ আলী ইয়াদ আলী তালুকদারের একেবারে সামনে এসে তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, আমি একটু কম দামে বিক্রি হতে রাজি আছি। আমাকে আপনার বাড়িতে কাজের জন্য নিয়ে চলেন।’ ইয়াদ আলী তালুকদার জোয়ান ও বলিষ্ঠ যুবককে উদ্দেশ্য করে বলল, তোমার নাম কি ? -গবেদ আলী।
-তোমাকে একা নিয়ে তো আমার চলবে না। মোট তিরিশ জন কৃষাণ আমার পাট কাটার কাজে
নেবো। থাকা খাওয়া দেব আর সেই সাথে চার’শ টাকা করে মাহিনা পাবে। কে কে যাবে বলো ?
গবেদ আলী আরো কয়েক জন কৃষাণের সাথে আলাপ করে মোট তিরিশ জন কৃষাণ যোগাড় করে
ইয়াদ আলী তালুকদারের সাথে রওয়ানা হলো। ইয়াদ আলী তালুকদার তাদের বাসে উঠিয়ে তাঁর
বাড়িতে নিয়ে এলেন। নাস্তা পানি কিছু খাওয়াইয়ে মাঠে নিয়ে গেলেন পাট কাটার জন্য।
ইয়াদ আলী তালুকদারের পিতামহ শমসের তালুকদার ব্রিটিশ আমলে কাশদোলা গ্রামসহ আশে
পাশের দশ গ্রামের তালুকদার ছিলেন। তাঁর অনেক জমি জমা ছিল। তাঁর মত অত বড় তালুকদার আশেপাশের কয়েক গ্রামেও ছিল না। এই তালুকদার বাড়ি অনেক বিশাল বড়। বাড়ির চার পাশর্^ দিয়ে আধা মাইল জুড়ে ইয়াদ আলী তালুকদারের বাড়ির সীমা। এই তালুকদার বাড়ি বিশাল বড়। বাড়ির চার পাশর্^ দিয়ে বিভিন্ন ফল ফুলের বাগান। এ বাড়ির চার দিক দিয়ে আধা মাইলের আর কোন বাড়ি ঘর নেই। সেই ব্রিটিশ আমল হতে এখন পর্যন্ত এ তালুকদার বাড়ির ওপর দিয়ে কেউ কর্তৃত্ব করতে পারে না। এ তালুকদার বাড়ির কতৃত্বে এখনো কাশদোলা গ্রামে চলে। শমসের তালুকদার মারা গেলে তার থাকে এক পুত্র জহির উদ্দীন তালুকদার। তিনি মারা গেলে তাঁর থাকে দুই পুত্র ইয়াদ আলী তালুকদার ও এনায়েত তালুকদার। এনায়েত তালুকদার ও তাঁর স্ত্রী মারা গেলে তাঁদের থাকে এক মাত্র পুত্র মিরাজ তালুকদার। এই মিরাজ তালুকদার তার চাচা ইয়াদ আলী তালুকদারের সংসারে লালিত পালিত হয়ে সেনা বাহিনীতে সবেমাত্র চাকরীতে যোগদান করেছে। সে অবিবাহিত। তালুকদার বাড়ির সমস্ত সম্পত্তির অর্ধেকের মালিক ইয়াদ আলী তালুকদার এবং অর্ধেকের মালিক তাঁর ভাইপো মিরাজ তালুকদার। কিন্তু সমস্ত সম্পত্তিই ইয়াদ আলী তালুকদার ভোগ দখল করে। কিন্তু মিরাজ তালুকদার ছুটিতে বাড়িতে আসলে হঠাৎ এক দিন সে নিখোঁজ হয়ে যায়। আর তাকে কোথাও পাওয়া যায় না। সেই জন্য ইয়াদ আলী তালুকদার স্থানীয় থানায় একটি গুমের মামলা করেছে। সে গুমের মামলায় তদন্ত করে পুলিশ কোনো সঠিক তথ্য পায়নি। কৃষাণ হাট থেকে আনা তিরিশ জন কৃষাণ এক টানা পনের দিন কাজ করার ফলে পাট কাটা, পাট পানিতে পঁচানোর ও জাগ দেয়ার কাজ শেষ হল। এ তিরিশ জন কৃষাণের মধ্যে গবেদ আলীর কাজ কর্ম, চলা ফেরা ও গুরত্ব সহকারে দায়িত্ব পালন দেখে তাকে ইয়াদ আলী তালুকদারের খুব পছন্দ হয়েছে। প্রায় তিন-চার মাস তাঁর বাড়িতে রাখাল নেই। পূর্বে যে রাখালটি ছিল সে দীর্ঘ কাল কাজ করে বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্ম হতে অবসর নিয়ে বাড়ি চরে গেছে। ইদানিং ইয়াদ আলী তালুকদারের বাড়িতে রাখাল অত্যাবশক। তাই তিনি গবেদ আলীকে তাঁর বাড়ি রাখাল নিয়োগ করতে মনে মনে স্থির করলেন। গবেদ আলীকে রাখাল নিয়োগের প্রস্তাব দিলে সে রাজী হয়ে গেল। ইয়াদ আলী তালুকদার গবেদ আলীকে তাঁর বাড়ি রাখাল নিয়োগ দিয়ে বাকি কৃষাণদের বেতন পরিশোধ করে বিদায় দিলেন। গবেদ আলী রাখাল হিসাবে যে সকল কাজ কর্ম করতে হয় তা মনোযোগ সহকারে করে যাচ্ছেু। দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা নেই। তার কাজ কর্মে ইয়াদ আলী তালুকদার খুবই খুশি। গবেদ আলী খুব মিশুক লোক। ইয়াদ আলীর বাড়ির সব লোকজন ও আশে পাশের লোকজন এমন কি এলাকার ছোট বড় ধনী গরীব সকলের সাথে তার একটা ভাব হয়ে গেছে। গবেদ আলী প্রথমে যে দিন ইয়াদ আলী তালুকদারের বাড়িতে কাজে এলো, সেই প্রথম দিন প্রথম দর্শনেই গবেদ আলীকে দেখে বৃদ্ধা কাজের বুয়া ছখিনা বিবি মনে মনে ভাবল, এই ছেলেটিকে দেখতে অবিকল তার এক মাত্র মৃত ছেলে জাবেদের মত। জাবেদের সঙ্গে এছেলেকে বদল করা যাবে। সে যেন হুবহু জাবেদ ! এক দিন ছখিনা বিবির সাথে গবেদ আলীর পরিচয় হয়। ছখিনা বিবি তাকে ছেলের দৃষ্টিতে দেখে। সেও তাকে মায়ের দৃষ্টিতে দেখে। গবেদ আলী সখিনা বিবিকে ‘মা’ বলে ডাকে। ছখিনা বিবি তাকে গবেদের পরিবর্তে ‘জাবেদ’ বলে ডাকে। পুত্র ও মায়ের মধ্যে দারুন ভাব। ছখিনা বিবি মাঝে মাঝে ভালো রান্না করে গবেদ আলীকে ডেকে তার বাড়িতে নিয়ে খাওয়ায়। ঈদে ও বিভিন্ন উৎসব হলে গবেদ আলী ছখিনা বিবিকে নতুন শাড়ী, ব্লাউজ, ছায়া ও চুড়ি কিনে দেয়। ছখিনা বিবি সেই নতুন শাড়ি পরে গবেদ আলীকে জড়িয়ে ধরে ‘জাবেদ, জাবেদ’ বলে কাঁদতে থাকে। গবেদ আলী তার চোখের পানি মুছিয়ে দেয়। ছখিনা বিবি কান্না থামিয়ে গবেদ আলীকে খাবার দেয়। সে খেতে থাকে। ছখিনা বিবি এক দৃষ্টিতে গবেদ আলীর মুখের পানে চেয়ে থাকে। গবেদ আলীর খাওয়া শেষ হলে ছখিনা বিবি তার চকিতে গবেদকে বিশ্রাম করার জন্য বিছানা করে দেয়। সে বিছানায় শুয়ে পড়ে। ছখিনা বিবি তাল পাখা দিয়ে বাতাস করে সে ঘুমিয়ে পড়ে। ছখিনা বিবি আর গবেদ আলীর মা পুত্রের ভালোবাসা এক সময় চরম পর্যায় পৌছিয়ে যায়। গবেদ আলী প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে কাশদোলা গ্রামের মোড়ে তোয়াক্কালের দোকানে চা পান করতে যায়। সেখানে নানান মানুষের সাথে দেখা হয়, কুশল বিনিময় হয়, কথা বার্তা হয়, গল্প গুজব হয়। এক শ্রাবন মাসের সন্ধ্যা। গবেদ আলী এসে তোয়াক্কেলের দোকানে বসার সাথে সাথে মূসলধারে বৃষ্টি এলো। সেই বৃষ্টি রাত দশটা পর্যন্ত নামল। এ প্রবল বৃষ্টির জন্য তোয়াক্কালের দোকানে গবেদ আলী ব্যতীত আর কোনো লোক নেই। দোকানদার গবেদ আলীকে চা দিল। সে চা পান করছে। বৃষ্টির মধ্যে গরম চা দারুন মজা লাগছে। চা পানের সময় দোকানদার কথায় কথায় গবেদ আলীকে বলল, তোমার আচার ব্যবহার তালুকদার বাড়ির ছেলে ইয়াদ আলী তালুকদারের ভাইপো মিরাজ তালুকদারের মত মনে হয়। গবেদ আলী দোকানদারের কথা শুনে প্রশ্ন করল, মিরাজ তালুকদারকে তো তালুকদার বাড়ি দেখি না। ‘তাকে তুমি দেখবে কোথা থেকে ? সে তো মারা গিয়েছে।’ বলল দোকানদার।
-সে কিভাবে মারা গেলো ?
-মিরাজের বাবা ও মা তাকে ছোট রেখে মারা গিয়েছেন। চাচা ইয়াদ আলী তালুকদার তাকে লালন
পালন করে বড়ৃ করেছেন। মিরাজ তালুকদার সেনাবাহিনীতে চাকরি করতো। এই মাস তিনেক
আগে ছুটিতে বাড়ি এলো। হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেলো। ইয়াদ আলী তালুকদার অনেক খোঁজা
খুঁজি করে না পেয়ে থানায় গুমের মামলা করেছেন।
– মিরাজ তালুকদারের কি আর কোনো খোঁজ খবর পাওয়া গেলো ?
– না। তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এখন সকলে ধরে নিয়েছে যে তাকে হয়তো কেউ
হত্যা করে লাশ গুম করেছে।
কে বা কারা গুম করেছে সে ব্যাপারে তদন্তের জন্য ইয়াদ আলী তালুকদারের তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। কেমন যেন চুপচাপ আছে। তদন্তের আগ্রহ করবেই বা কেন? মিরাজ তালুকদার
ওই তালুকদার বাড়ির অর্ধেক সম্পত্তি পাবে। সেই জন্য ভাঁতিজার নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে
কোনো আগ্রহ নেই। ইতি মধ্যে বৃষ্টি থেগে গেল। ‘মিরাজ তালুকদার অর্ধেক সম্পত্তি পাবে’ গবেদ আলী কথাটি উচ্চারণ করে চিন্তাযুক্ত মনে মাথা চুলকাতে চুলকাতে তালুকদার বাড়ির দিকে রওয়ানা করল। ধীর গতিতে হাঁটতে হাঁটতে তালুকদার বাড়ি এসে কাচারি ঘরের চকির ওপর বিছানা পেতে শুয়ে পড়ল। অনেক রাত পর্যন্ত মিরাজ তালুকদারের নিখোঁজ হওয়া সম্পর্কে ভাবল। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল। ছখিনা বিবি সারাদিন তালুকদার বাড়িতে কাজ কর্ম করে ওই বািড়তে তার যে থাকার ঘর আছে সেখানে ঘুমিয়ে পড়ে। যদিও তালুকদার বাড়ির উত্তর পাশে কয়েক বাড়ি পরে তার নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। বাড়ি থাকা সত্ত্বেও বাড়ি তেমন একটা যায় না। তালুকদার বাড়িতে রাতে ঘুমিয়ে
থাকে। তার বাড়িতে তার ছোট মেয়ে জোছনা স্বামী সন্তান নিয়ে থাকে । একদিন গবেদ আলী
ছখিনা বিবিকে তার বাড়িতে বেড়াতে যেতে বলল। এদিকে গবেদ আলী দুপুর বেলা একদিন
ছখিনা বিবির বাড়িতে মুরগী কিনে ও বাজার করে দিয়ে আসে । ছখিনা বিবির কন্যা জোছনা বেগম চিতোই পিঠা তৈরী করে ও মুরগীর মাংস রান্না করে। সন্ধ্যার পরে গবেদ আলী ও ছখিনা বিবি বাড়িতে আসে। ছখিনা বিবির কন্যা জোছনা বেগম গবেদ আলীকে আপন ভাইয়ের দৃষ্টিতে দেখে ও সম্মান করে। মা ভাই বাড়িতে আসলে জোছনা বেগম তাদের চিতোই পিঠা ও মুরগীর মাংস দিয়ে খেতে দেয়। খাওয়া শেষ হলে গবেদ আলী ও ছখিনা বিবি রান্না ঘরে বসে থ্যাকে। জোছনা বেগম তার ছেলে মেয়ে ও স্বামী নিয়ে থাকার ঘরে যায়। রান্ন্া ঘরে গবেদ আলী ও ছখিনা বিবি তালুকদার বাড়ি নিয়ে গল্প করতে থাকে। গল্পের মাঝে মিরাজ তালুকদারকে নিয়েও গল্প হয়। তার গল্প করতে করতে এক সময় নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার কথা উঠে। তখন গবেদ আলী ছখিনা বিবিকে প্রশ্ন করে,
-মিরাজ তালুকদার নিখোঁজ হয়ে কোথায় গেলো ?
-তাতো বলতে পারি না।
-তবে কি সে এখনো জীবিত আছে ?
-জীবিত না ছাই আছে। মইর‌্যা ভূত হয়ে গেছে।
-তুমি কিভাবে জানলে যে মরে গেছে ?
-থাক সেই সব কথা। তুমি তালূকদার বাড়ি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। আমি আজ বাড়িতে
ঘুমাব। খুব সকালে ঘুম হতে উঠে তালুকদার বাড়ি যাব ।
-তুমি যাও তো বাবা , গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।
-মিরাজ তালুকদার কিভাবে মারা গেলো তা যদি তুমি না বলো তা হলে আমি যাবো না। না শুনে
যদি যাই তবে জীবনেও আমি তোমার সাথে কথা বলব না। আজ হতে তুমি আমার মা নও এবং
আমি তোমার ছেলে নই। যখন গবেদ আলী পরিস্কার ভাবে বুঝতে পারলো যে, সখিনা বিবি মিরাজ তালুকদারের মরার কাহিনী বলছে না। তখন গবেদ আলী রাগ হয়ে সখিনা বিবির বাড়ি হতে চলে গেলো। কয়েক দিন সখিনা বিবির সাথে কোনো কথা বলল না। সর্বদাই সে সখিনা বিবির সাথে কথা না বলে মুখ ভার করে থাকে। সখিনা বিবি কথা বলতে আসলেও সে বলে ‘নাহ’। অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এভাবে অভিমান করে পনের দিন পাড় হয়ে যায়। গবেদ আলী সখিনা বিবির সাাথে কথা না বলায় তার মন খারাপ থাকে। ছেলে মায়ের সাথে কথা বলবে না। সেই ব্যথা সে সহ্য করতে পারছে না। সে মাঝে মাঝে গবেদ আলীর দিকে তাকিয়ে কেঁদে দেয়। কিন্তু গবেদ আলী সে দিকে ভ্রক্ষেপ করে না। সে পাশ কাটিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে চলে যায়। অন্য দিকে সখিনা বিবি তার শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুচছে আর কাজ করছে। এক সময় সখিনা বিবি এই ব্যথা সহ্য করতে না পেরে গবেদ আলীকে চুপিসারে বলল, আজ আমার বাড়িতে এসো মিরাজ তালুকদারের মৃত্যুর কাহিনী বলব। গবেদ আলী সন্ধ্যার সময় সখিনা বিবির বাড়ি যায়। সখিনা বিবির মেয়ে জোছনা বাড়িতে নেই। সে শ^শুর বাড়িতে সন্তান ও স্বামী নিয়ে বেড়াতে গিয়েছে। বাড়ি আজ জন শূন্য। সখিনা বিবি নিজ হাতে ভালো ভালো খাবার রান্না করে ছেলে গবেদ আলীকে খাওয়ায়। খাওয়া শেষে প্রবল বেগে বৃষ্টি ঝড়তে থাকে। সখিনা বিবি একটা দীর্ঘ শ^াস নিয়ে গবেদ আলীকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুরু করল,‘ তখন জ্যৈষ্ঠ মাস। মিরাজ তালুকদার ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছে। একদিন সকালে নাস্তার বেলা পাড় হয়ে যায় যায় ঠিক সেই সময় সে তার চাচা ইয়াদ আলী তালুকদারকে তার সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে বলে। কিন্তু ইয়াদ আলী তালুকদার সম্পত্তি তাকে বুঝিয়ে দিতে চায় না। বরং রেগে যায়। রাগে তিনি তার দাঁত কটমট করতে থাকে। রাগে দাঁত কটমট করতে করতে মিরাজ তালুকদারকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘এখন তোমার পাখা গজিয়েছে। পাখা ভাঙতে হবে। নইলে সম্পত্তি রক্ষা করা যাবে না। এ কথা বলে তিনি কাশদোলা বাজারের দিকে চলে যায়। এ রাগারাগির দু’দিন পর গভীর রাতে তালুকদার বাড়ি কয়েক জন মুখোশ পরা জোয়ান যুবক আসে। তারা মিরাজ তালুকদারকে ধরে হাত, পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। তার পরে গলায় রশি চাপা দিয়ে তাকে মেরে তালুকদার বাড়ির উত্তর পাশে ফাঁকা জায়গায় গর্ত করে মাটি চাপা দিয়ে, তার ওপর পাট কাঠি স্তুপ করে রেখে দিয়েছে। যাতে কেউ টের না পায়। এখন ইয়াদ আলী তালুকদার মিরাজ তালুকদারকে হত্যা করেছে, এ উদ্দেশ্যে যাতে তাকে সম্পত্তির ভাগ দিতে না হয়। এ হত্যার ঘটনা আমি পাকের ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখেছি। এখন শোনো বাবা আমি তোমার কাছে মিরাজ তালুকদারের হত্যার কাহিনী বললাম। তুমি কিন্তু বাবা এ ঘটনা ভুলেও কারো কাছে বলবে না। ইয়াদ আলী তালুকদার সাব যদি জানে যে, এ ঘটনা আমি তোমার কাছে বলেছি, তা হলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে।
পরের দিন গবেদ আলী এ ঘটনা অতি গোপনে মোবাইল ফোনে ডি.বি. অফিসকে অবগত করালে
সাধারণ পোশাকে দু’গাড়ি পুলিশ আসে। তারা ইয়াদ আলী তালুকদারকে গ্রেফতার করে। গবেদ
আলীর সামনে গিয়ে তাকে স্যালুট দিয়ে দাঁড়ায়। গবেদ আলী ইয়াদ আলী তালুকদারকে উদ্দেশ্য করে বলে যে,‘আমার নাম গবেদ আলী নয়। প্রকৃত পক্ষে আমি ডি.বি. পুলিশের এসিসটেন্ট সুপারেন্ট অব পুলিশ। আমি মিরাজ হত্যার তদন্তের স্বার্থে কৃষাণের ভূমিকায় আপনার বাড়িতে এসে রাখাল থেকেছি। প্রাচিত্ত করতে চলুন লাল দালানের অভিমুখে। তার পরে পাঠ কাঠির স্তুপ সরিয়ে মাটি খুঁড়ে মিরাজ তালুকদারের পঁচা গলা লাশ পায়। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তা উঠিয়ে মর্গে পাঠায়। ইয়াদ আলী তালুকদারকে নিয়ে যায় ডি.বি. অফিসে। সেখান হতে কোর্টে চালান দেয়। কোর্ট হতে রিমান্ডে পাঠানো হয়। রিমান্ডে গিয়ে মিরাজ তালুকদারের হত্যার কাহিনী স্বীকার করে পুলিশের কাছে। কাকে কাকে ভাড়া করে এনে এ হত্যা কা- ঘটিয়েছে তাও স্বীকার করে। পরবর্তীতে তাদেরও গ্রেফতার করা হয়।