ছাত্রলীগকর্মী ফারুক হত্যা || বিচারের অপেক্ষায় সাত বছর পার

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৭, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

রফিকুল ইসলাম



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগকর্মী ফারুক হোসেন হত্যাকা-ের সাত বছর পূর্ণ হয়েছে বুধবার। দীর্ঘ সময়েও  আলোচিত এ হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ হয়নি। জীবিত আসামিদের বেশিরভাগ জামিনে রয়েছেন। তবে মামলার দু’পক্ষের সাক্ষিরা সময় মত আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া কার্যত থমকে গেছে। দ্রুত বিচারকাজ শেষ করার দাবি ফারুকের পরিবার ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের।
এদিকে গত চার বছরেও নিহত ফারুকের বোনের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি স্থায়ী হয় নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস প্রদান করা হলেও তা কার্যকরে তেমন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।  বিচারকাজের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুস সালাম বলেন, ‘মামলাটি এখনো বিচারাধীন। মামলার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তবে মামলার সাক্ষিরা সময়মতো আদালতে না আসায় বিচারকাজ শেষ হতে দেরি হচ্ছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে শাহ মখদুম হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় শিবির ক্যাডাররা। এতে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে বেধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রলীগকর্মী ফারুককে হত্যা করে ম্যানহোলের ভেতরে ফেলে রাখা হয়। পরে সকালে ফারুকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু বাদী হয়ে অসংখ্য অজ্ঞাতসহ শিবিরের ৩৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন।
এরপর প্রায় আড়াই বছরের মাথায় ২০১২ সালের ২৮ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান আদালতে ১২৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন কেন্দ্রীয় আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, রাজশাহী মহানগর আমির আতাউর রহমান, রাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি শামসুল আলম গোলাপ, সেক্রেটারি মোবারক হোসেন, নবাব আব্দুল লতিফ হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসমত আলী, শহীদ হবিবুর রহমান হলের সভাপতি রাইজুল ইসলাম, শিবিরকর্মী রুহুল আমিন ও বাপ্পীসহ ১১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে এই হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। মামলার আসামীদের মধ্যে জামায়াত নেতা মুজাহিদ ও নিজামীর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। আর যাবজ্জীবন কারাদ- ভোগ করছেন সাঈদী। তবে অভিযুক্ত শিবির নেতাকর্মীদের অধিকাংশই জামিনে রয়েছে।
চার বছরেও স্থায়ী হয়নি ফারুকের বোনের চাকরি: দরিদ্র পরিবারের ছেলে ফারুক হোসেনের মৃত্যুতে অন্ধকার নেমে আসে তার পরিবারে। দিশেহারা হয়ে পড়ে ফারুকের বাবা-মা। সে সময় বিভিন্ন মহল থেকে ফারুকের পরিবারের এক সদস্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী চাকরি প্রদানের দাবি উঠে। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফারুকের বড় বোন আসমা বেগমকে ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে নি¤œমান সহকারী পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষ। তবে বারবার ফারুকের বোনের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি করা হলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা এখনো করা হয়নি বলে জানিয়েছে ফারুকের বোন।
আসমা বেগম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে অনেকবার। কিন্তু তা এখনো কার্যকর করা হয়নি। এদিকে ভাই হত্যার বিচারকাজও সম্পন্ন হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘বাবা অনেক অসুস্থ্য। আমার স্বামীও মারা গেছে। ফলে মামলার বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে পারি না। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে খোজ খবর নেওয়া হয়।’
ছাত্রলীগের শোকর‌্যালি ও সমাবেশ: ফারুক হোসনের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ক্যাম্পাসে শোকর‌্যালি ও সমাবেশে করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে ছাত্রলীগের দলীয় টেন্ট থেকে একটি র‌্যালি নিয়ে শহীদ ফারুক হোসেনের স্মৃতি বিজড়িত শাহ্ মখদুম হলের সামনে তার অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও ফারুকের বোন আসমা বেগম।
সমাবেশে বক্তারা ফারুক হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায়। এছাড়া আসামিদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত সনদপত্র বাতিল ও শহীদ ফারুক স্মরণে স্মৃতিফলক নির্মানের দাবি জানায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ