ছাত্রলীগের গৌরবময় ৭২ বছর

আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০২০, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ ৪ঠা জানুয়ারি।
বাঙালির স্বাধীনতা ও স্বাধীকার অর্জনের লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি গঠিত হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তৎকালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিবের প্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় একঝাঁক সূর্য বিজয়ী তারুণ্যের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় উপমহাদেশের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
ছাত্রলীগের ৭২ বছরের ইতিহাস, জাতির মুক্তির স্বপ্ন, সাধনা এবং সংগ্রামকে বাস্তবে রূপদানের ইতিহাস। কারণ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল সংগ্রামে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং চরম আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।
৫২’র ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠিত করেছে। ৫৪’র সাধারণ নির্বাচনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুক্তফ্রন্টের বিজয় নিশ্চিত করে। ৫৮’র আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনে ছাত্রলীগ গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে। ৬৬’র ৬ দফা নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, মাঠে-ঘাটে ছড়িয়ে পড়ে।
৬ দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রলীগ রক্ত দিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্ত করে এনে ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছাত্রসমাজের পক্ষ হতে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করে।
৭০’র নির্বাচনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন করেন এবং ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে। ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করে পরাধীন বাংলায় লাল সবুজের পতাকার মাধ্যমে স্বাধীনতার বিজয় ছিনিয়ে আনে। বাঙালির এই মুক্তির সংগ্রামে ছাত্রলীগের ১৭ হাজার নেতাকর্মী জীবন দান করেছেন।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে অংশ নেয় ছাত্রলীগ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা সপরিবারে হত্যার পর ছিনতাই হয়ে যায় স্বাধীনতার চেতনা ও গণতান্ত্রিক ধারা।
১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) দেশে ফিরে স্বাধীনতার চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধারে আন্দোলনের সূচনা করেন। ছাত্রলীগ ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে অনন্য ভূমিকা পালন করে।
সংবাদ মাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী সংগঠনটির ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্যভাবে পালন করতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে তিন দিনব্যাপি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সকল সাংগঠনিক কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৭টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কেক কাটা হবে।
এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুপুর ২:৩০ টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগ পুনর্মিলনীর আয়োজন করেছে। পুনর্মিলনীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়া ৬ জানুয়ারি সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাশে বটতলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালন করা হবে। ৭ জানুয়ারি সকাল ১০টায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতার সামনে দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।