ছাত্রলীগ নেতাকর্মিদের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাত্রলীগের অবিচল প্রত্যয় গড়ে ওঠুক

আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০২২, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

দেশের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন হল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ৪ জানুয়ারি ছিল ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটির ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বাঙালির স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনের লক্ষে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি গঠিত হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তৎকালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিবের প্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় একঝাঁক সূর্য বিজয়ী তারুণ্যের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় উপমহাদেশের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে গৌরব, ঐতিহ্যগাথা।
ছাত্রলীগের ৭৪ বছরের ইতিহাস, জাতির মুক্তির স্বপ্ন, সাধনা এবং সংগ্রামকে বাস্তবে রূপদানের ইতিহাস। কারণ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল সংগ্রামে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং চরম আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। বাংলাদেশ জন্মের সাথেও ছাত্রলীগের গৌরবময় ভূমিকা ছাত্র নেতৃত্বের এক হিরন্ময় অধ্যায় হয়ে আছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার পঁচাত্তর বছরে পদার্পণ মুহূর্তে ছাত্রলীগের কর্মিদের বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন করতে হলে ছাত্রলীগ কর্মিদের কী করণীয় তাঁর পরামর্শে তা উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ শুধু ছাত্রলীগ শক্তিশালী-গতিশীল করবে তাই নয়Ñ তাঁর পরামর্শ আদর্শ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে দেশের নেতৃত্ব, মর্যাদা, উন্নয়ন-অগ্রগতিকে নির্দেশ করে।
৫ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে আদর্শবান কর্মী হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতি থেকেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। কাজেই নিজেদের নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে গেলে সেভাবেই কাজ করতে হবে। খেয়াল রাখবে, লোভের বশবর্তী হয়ে পা পিছলে পড়ে যেও না।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন ছাত্রলীগের মূল আদর্শিক ভিত্তি। ছাত্রলীগের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় রাজনীতিতে মানুষকে ভালবাসার, দেশকে ভালবাসার এক মহান দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তিনি সর্বস্তরের মানুষকে শুধুই সম্পৃক্ত করে গেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে মানুষই বারবার মহিয়ান হয়ে উঠেছে। এর জন্য তাঁকে সারা জীবন ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, সততা ও দেশপ্রেমের পরাকাষ্টা দেখাতে হয়েছে। তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ এক মানবসত্তা, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ভবিষ্যতকে সামনে রেখে জাতির আকাক্সক্ষার রূপরেখা প্রণয়ন করতে পেরেছেন। তবেই সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ সৃষ্টি করা। জাতি কৃতজ্ঞতায় মেনে নিয়েছে- তিনিই মুক্তিদাতা, তিনিই জাতির পিতা।
এমন এক মহামানবের নেতৃত্ব দেয়া ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের নেতাকর্মিদির কীরূপ চরিত্র-বৈশিষ্ট্য হওয়া আবশ্যক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রধানমন্ত্রী সেটিই বর্তমান ছাত্রলীগ নেতাকর্মিদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। নিশ্চয় ছাত্রলীগ প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পরামর্শ মর্মে মর্মে অনুধান করবে, অনুশীলন করবে এবং ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকাশমান ধারাকে এগিয়ে নিবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ